ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সফলতা ও বিতর্ক
আর থ ক ল ভ র জন – ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য স্পষ্ট নয় বলে মনে হয়, কিন্তু তাঁর ব্যাংক হিসাব ঠিক সেটা স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে। বার্ষিক আর্থিক বিবরণের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি, আবাসন এবং রয়্যালটি থেকে শত কোটি ডলারের আয় অর্জন করেছেন। তাঁর ব্র্যান্ডের বাইবেল, ঘড়ি এবং স্নিকার্স বিক্রি করে বড় মুনাফা অর্জন করা হয়েছে।
ব্যবসায়িক স্বার্থ ও নীতির মূল্য
আধুনিক যুগের পূর্বসূরি কর্তৃক ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ ছুঁই দেওয়া হয়েছে কিন্তু ট্রাম্প নতুন মাধ্যমের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করছেন। ক্রিপ্টো টোকেনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রশাসন কর ফাঁকি কমানোর ব্যবস্থা করেছে। যদিও নৈতিকতার আইন প্রেসিডেন্টদের প্রতি কঠোর নয়, তবে জিমি কার্টারের মতো শিক্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়ানোর জন্য ব্লাইন্ড ট্রাস্ট স্থাপন করেছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সাথে ২০১৬ সাল থেকে কর ফাঁকি সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা হচ্ছে। যাইহোক, এখনও কোনো আইনি ব্যবস্থা বা স্থায়ী রাজনৈতিক ক্ষতি ঘটেনি। তবে বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রিপ্টো বাণিজ্যের সংযোগে এ বৈভব জর্জরিত মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্থিতি
বর্তমানে কাতার থেকে পাওয়া ৪০ কোটি ডলারের বিলাসবহুল ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠার আগে ট্রাম্প দম্ভে বলেন, ‘আমরা সবাই লাভবান হচ্ছি।’ কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের সত্যিকার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর ব্যবসায়িক বিস্ময়কে অর্থনীতি সচল রাখার সম্মান বলে মনে করেন।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং কাতারের উড়োজাহাজ উপহার গ্রহণ করার বিষয়ে কূটনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তামিম বিন হামাদ আল-থানি একে ‘সরকার পর্যায়ে’ লেনদেন বলে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সমালোচকরা এটিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব বলে মনে করছেন।
“এটি এমন এক প্রশাসন, যেটি বলছে, ‘আমার ৭৪৭ বিমানটি দেখো, আমার সোনা দেখো।’ আর প্রশাসন জনগণকে বলছে, ‘তোমরা বরং কেক খাও।’”
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি অনুসারে বেশির ভাগ ভোটার আস্থা হারিয়েছেন। কারণ তাঁর রেটিং এখন ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭ শতাংশে আটকে আছে। ডেমোক্র্যাটরা এ অসন্তোষকে কাজে লাগানোর জন্য ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আর্থিক সফলতা নিয়ে আলোচনা করছেন। তাঁদের মতে এ প্রশাসন নীতিগুলো তিনি নিজের লাভের জন্য চালাচ্ছেন।
তবে আগামী চার মাসে তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করে দেবে কি না তা নির্ভর করছে ট্রাম্পের বাইরে মানুষের সাধ্যে
