পশু মাথা থেকে শুরু হল ব্যতিক্রমী শিল্পকর্মের গল্প
শখ থ ক শ র গর ছ – রাজশাহীর একজন মাংস বিক্রেতা পশুর মাথা, শিং ও হাড়কে কসাইখানায় সাধারণত বর্জ্য হিসেবে দেখা হলেও তিনি এগুলো শিল্পে পরিণত করেছেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের মাথা, শিং ও হাড় সংগ্রহ করছেন। এগুলো ব্যতিক্রমী শোপিস হিসেবে প্রদর্শন করছেন।
মো. রিপন আলী (৪২) নামের এই শিল্পী রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাড়ালিপাড়া এলাকায় ছোট্ট একটি ঘরে সাজিয়ে রেখেছেন সংগৃহীত শিল্পকর্ম। তাঁর বাবা ও দাদার পেশা ছিল মাংস বিক্রি। সংগ্রহের নেশার শুরু হয় ২০১৭ সালে। প্রথমে শুধু শখ ছিল বলে তিনি শিং সংগ্রহ করতেন।
পরে এক বন্ধু বলল, পুরো মাথাটা সংরক্ষণ করে সাজাতে পারলে এটা মূল্যবান শোপিস হতে পারে। সেই সময় থেকে দ্রুত আগ্রহ জন্ম নেয় রিপনের প্রতি।
প্রতি মাথা ও শিং তৈরির জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, পশুর মাথা থেকে যতটা সম্ভব মাংস আলাদা করে নিতেন। এরপর দ্রবণমিশ্রিত পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে ডুবিয়ে রাখতেন। কয়েক দিন পর পরিষ্কার করে দেখা হত। হাড়ের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র অংশগুলো চিমটা দিয়ে বের করতে হত। দুর্গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত ধোঁয়া ও পরিষ্কারের কাজ চলত।
রিপন আলী জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে এগুলো ৫০–৬০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। কিছু সময় তিনি একটি মাথা কিনতে ৮–১০ হাজার টাকাও খরচ করেছেন। শুরুতে তিনি বিক্রির কথা মাথায় ছিল না। কিন্তু সঞ্চয় খুব কম থাকা পরিস্থিতিতে তিনি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবারের কিছু সদস্য বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। তাঁদের অনেক বিষয়ে দুর্গন্ধ ও ঝামেলা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সদৃশ পরিণতি দেখতে পারেন।
এখন রিপনের সংগ্রহে রয়েছে বিভিন্ন আকারের কয়েক ডজন শিল্পকর্ম। কিছু প্রস্তুত, কিছু আরও বড় পরিসরে শিল্পকর্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে। তিনি শৌখিন ক্রেতাদের জন্য কিছু শিল্পকর্ম রং করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক মো. বনি আদম বলেন, রিপনের কাজটি শিল্পকলার বিশেষ ধারায় পড়ে। ফাউন্ড অবজেক্ট বলে একটি নামকৃত সৃজনশীলতার ধারায় পরিত্যক্ত বস্তুগুলো ব্যবহার করে শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়। রিপনের সৃষ্টি তার নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় বলে মনে করেন অধ্যাপক।
মো. রাশেদ নামে একজন দর্শনার্থী বলেন, যে জিনিস মানুষ সাধারণত ফেলে দেয়, সেটাকে এত সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা সত্যিই অবাক করে। দেখা যায়, রিপনের শিল্পকর্মগুলো দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো যে শিল্পকর্ম
