কর্জে হাসানা ব্যাংক কেন গুরুত্বপূর্ণ
কর জ হ স ন ব য – আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিং কাঠামো প্রতিষ্ঠা করার জন্য কোনো দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়েছে। সুদনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিপরীতে একটি নির্মল, ন্যায়নিষ্ঠ ও শরিয়াহসম্মত বিকল্প গড়ে তোলার অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এই পথপরিক্রমায় সম্প্রতি এক সীমাহীন আদর্শ বিদ্যমান রয়েছে, যা ক্রয়-বিক্রয় ও অংশীদারিভিত্তিক আর্থিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সুদনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতিকূলতা বুঝে মুসলিম সমাজ একটি নৈতিক বিকল্প চায়। তার বিকল্প ব্যবস্থার অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের চেষ্টা চলছে। এই কাঠামোতে ঋণদাতার সঙ্গে ঋণগ্রহীতার সম্পর্কের পরিবর্তে বিনিয়োগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যেমন মুনাফাবিহীন ঋণ প্রদান করা হয় এবং পুণ্যের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসলামি সভ্যতার আর্থিক প্রতিষ্ঠান
তাবুং হাজি মালয়েশিয়া এবং মিট ঘমর সেভিংস ব্যাংক ও নাসের সোশ্যাল ব্যাংক মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখার সময় কর্জে হাসানাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু বাণিজ্যিক ইসলামি ব্যাংকিং বিকাশের সাথে সাথে এই ঋণদানের পদ্ধতি ক্রমে প্রান্তিক হয়ে উঠেছে। একটি গবেষণার পরিণতি দেখিয়েছে যে কর্জে হাসানা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্জে হাসানার সওয়াবকে সদাকার চেয়ে অধিক উল্লেখ করেছেন (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৪৩১)।
অতএব এই ধরনের ব্যাংকিং কাঠামো হতে পারে ‘কর্জে হাসানা ব্যাংক’ নামে। এটি ভোক্তাঋণকে সুদমুক্ত ও অলাভজনক বিশেষায়িত ব্যবস্থায় পরিণত করার জন্য প্রস্তাবিত হয়েছে। এর ভিত্তি গঠন করা হবে ওয়াক্ফের মাধ্যমে। প্রথমে কিছু সম্পদশালী মুসলিম ব্যক্তি নিজেদের ওয়াক্ফ মাধ্যমে একটি স্থায়ী সম্পদ নির্মাণ করবেন, যা প্রতিষ্ঠানের মূল পুঁজি হিসেবে কাজ করবে। প্রাথমিকভাবে এই ওয়াক্ফ তহবিল পরিচালিত সম্পদের ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এই ব্যবস্থা আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি সুরক্ষা সম্পত্তি হিসেবে কার্যকর হবে। এর বিনিয়োগ আয় ঋণ থেকে নয়; বরং বৈদেশিক মুদ্রাবাণিজ্য ও ভূসম্পত্তি সহ অন্যান্য উৎপাদনশীল উৎস থেকে আসবে।
বর্তমানে ওয়াক্ফ ব্যবহারের ধারণা আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রাধান্য পেয়েছে। এই বিশেষায়িত ব্যাংক আধুনিক বিশ্বে ইসলামি অর্থব্যবস্থার পুনর্গঠনের মূল ভূমিকা পালন করতে পারে।
