Uncategorized

লন্ডনে মেট্রোরেল অপারেটরদের প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মারওয়া খায়ের

লন ডন ম ট র র ল - লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে যোগদানের পর এখন মারওয়া খায়ের অন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

Desk Uncategorized
Published August 15, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Table of Contents
  1. লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর সাফল্যের গল্প
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর সাফল্যের গল্প

Banglaprabah.com – লন ডন ম ট র র ল – লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে যোগদানের পর এখন মারওয়া খায়ের অন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই নারীর বাংলা শুনলে মনে হয় যেন তিনি সারা জীবন বাংলায়ই কাটিয়েছেন। অথচ তাঁর জন্ম সৌদি আরবে এবং বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যে। গিটার বাজিয়ে তিনি পছন্দের বাংলা গানে সুর তোলেন এবং ঝরঝরে বাংলা বলেন।

চাকরির পথ পরিবর্তনের কাহিনী

২০১০ সালের দিকে মারওয়া ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে চাকরি করতেন। এর আগে তিনি ওষুধের দোকান এবং মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। ব্যাংকে যোগদানের পর তিনি ভেবেছিলেন এই চাকরিতেই স্থির থাকবেন। কিন্তু ২০০৮-০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে ব্যাংকিং খাতের চাকরিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে তিনি নতুন কোনো পেশা খুঁজতে শুরু করেন।

সেই সময়ে ডকল্যান্ডস লাইট রেলওয়েতে (ডিএলআর) কাজ করতেন তাঁর এক বন্ধু। তিনিই মারওয়াকে রেলওয়েতে আবেদন করার পরামর্শ দেন। তুলনামূলক ভালো বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিশ্চয়তা তাঁকে এই পেশার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

ডিএলআর এবং প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্টের দায়িত্ব

লন্ডনের মেট্রোরেলব্যবস্থা মূলত তিন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলে—আন্ডারগ্রাউন্ড, ওভারগ্রাউন্ড এবং ডিএলআর। এর মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করেছে ৪৫টি স্টেশনে বিস্তৃত ডিএলআর। প্রায় ৪০ বছর আগে চালু হওয়া এই স্বয়ংক্রিয় রেলব্যবস্থা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে।

স্বয়ংক্রিয় প্রতিটি ট্রেনে চালকের বদলে একজন করে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্ট থাকেন। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন থামার পর আবার যাত্রা শুরুর আগে দরজা নিরাপদে বন্ধ করা এবং ট্রেনকে পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা পিএসএর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কাস্টমার সার্ভিস দেওয়াও তাঁর কাজের অংশ।

এখানে কাজ করতে টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনীয় সবকিছুই চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শেখানো হয়।

প্রশিক্ষণ এবং কর্মজীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত

খোঁজখবর নিয়েই ডিএলআর পদে আবেদন করেন মারওয়া। প্রায় চার মাসের প্রশিক্ষণের পর আরও দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন হয়। এই সময়ে লিখিত ও ব্যবহারিক—দুই ধরনের পরীক্ষাই দিতে হয়। সব ধাপ সফলভাবে শেষ করার পর মেলে ট্রেন পরিচালনার লাইসেন্স। ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএলআরে ট্রেন অপারেটর হিসেবে যোগ দেন মারওয়া।

রেলওয়েতে কাজ করার সিদ্ধান্তটা অবশ্য সহজ ছিল না। সবচেয়ে বড় বাধাটি নিজের পরিবার থেকেই এসেছিল। পরিবারের ধারণা ছিল, এটা ছেলেদের কাজ। মেয়েরা এ ধরনের কাজ করে না। একসময় পরিবারের মনোভাব বদলে যায়। তাঁরাই এখন মারওয়ার সবচেয়ে বড় সমর্থক।

চাকরিতে যোগদানের পরের বছরই মারওয়ার কর্মজীবনে আসে স্মরণীয় এক মুহূর্ত। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের সময় ক্যানারি ওয়ার্ফ থেকে প্যারালিম্পিক মশাল বহন করে স্ট্র্যাটফোর্ডে নিয়ে যাওয়া ডিএলআর ট্রেনটির অপারেটর হিসেবে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। অনেক পিএসএর মধ্যে মারওয়াকে বেছে নেওয়ার কারণ—যাত্রীদের উদ্দেশ্যে তাঁর ঘোষণা দেওয়ার ধরন। তাঁর ঘোষণার কণ্ঠস্বর তত দিনে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিল।

প্যারালিম্পিক মশাল বহনের সেই বিশেষ যাত্রার বিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম উপস্থিত ছিল। যাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করার পাশাপাশি ডিএলআরের প্রতিনিধিত্বকারী কণ্ঠ হিসেবে মারওয়ার ঘোষণাও সেই আয়োজনের অংশ হয়ে ওঠে। মারওয়ার সেই কণ্ঠ এখনো ডিএলআরের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্রেন অপারেটরদের জন্য তৈরি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভিডিওতে পরিচালন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার বর্ণনা তাঁর কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়েছে।

সিগন্যালিং সিস্টেম এবং ম্যানুয়াল ড্রাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা

আমি যখন পিএসএ হিসেবে কাজ করতাম, তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যালিং সিস্টেম, বলেন মারওয়া। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের আগে ডিএলআরের সিগন্যালিং ব্যবস্থা ছিল খুবই অনির্ভরযোগ্য। এমনও হয়েছে, সিগন্যালিং-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে দিনে পাঁচ-ছয়বার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে ম্যানুয়ালি ট্রেন চালাতে হয়েছে।

পরে অলিম্পিকের সময় সিগন্যালিং ব্যবস্থার বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হয়। এরপর সিস্টেম হয়ে ওঠে অনেক নির্ভরযোগ্য। ম্যানুয়ালি ট্রেন চালানোর অভিজ্ঞতা মারওয়ার কাছে একদিকে ছিল রোমাঞ্চকর, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জেরও। ইচ্ছা করলেই ম্যানুয়াল মোডে যাওয়া যায় না। অনুমতি ও নির্দেশনা নিয়ে নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চালাতে হয়।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যাত্রীদের সামলানো। এসব ট্রেনে চালকের জন্য আলাদা কোনো কেবিন নেই। ফলে যাত্রীরা সরাসরি চালকের কাছে এসে কথা বলতে পারেন। কিন্তু ম্যানুয়াল ড্রাইভিংয়ের সময় চালককে পুরো মনোযোগ সামনের দিকে রাখতে হয়। তাই আমরা আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের জানিয়ে দিতাম যে ট্রেনটি এখন ম্যানুয়াল মোডে চলছে।

ট্রেনে নিয়মিত ঘোষণা দেওয়া, যাত্রীদের গন্তব্য খুঁজে পেতে সহায়তা করা, ম্যাপ বুঝিয়ে দেওয়া—এসবও করতে হয়। লন্ডনে বিভিন্ন দেশের মানুষ বসবাস করেন, পর্যটকের সংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে ইস্ট লন্ডনে অনেক যাত্রী আছেন, যাদের কেউ কেউ ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ নন কিংবা লন্ডনের ম্যাপ বুঝতে সমস্যা পান। তাঁদের গন্তব্যে যাওয়ার পথ বুঝিয়ে দেওয়াও প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্টের দায়িত্ব।

Frequently Asked Questions

What is লন ডন ম ট র র ল?

লন ডন ম ট র র ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does লন ডন ম ট র র ল matter?

লন ডন ম ট র র ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment