ভুল পরিচয়ে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হয়ে কারাভোগ, অবশেষে মুক্তি পেলেন সোনা মিয়া
ভ ল পর চয় ম ত য - কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুক্তি পেয়েছেন সোনা মিঞা। ১ লাখ ৯০ হাজার কেজি ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
Table of Contents
ভুল পরিচয়ে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবে কারাভোগের পর সোনা মিঞার মুক্তি
Banglaprabah.com – ভ ল পর চয় ম ত য – কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুক্তি পেয়েছেন সোনা মিঞা। ১ লাখ ৯০ হাজার কেজি ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরিচয় জালিয়াতির শিকার হয়ে এই দিনমজুরের জীবনযাত্রা বদলে গেছে। আদালতের চারটি শর্তে জামিন পাওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার মো. দেলোয়ার জাহান জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোনা মিঞাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর আগে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাঁকে চারটি শর্তে জামিন দেন বলে আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. বেদারুল আলম জানিয়েছেন।
পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা ও তদন্ত
২০২০ সালে ইয়াবাসহ মো. রমজানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় রমজান নিজেকে ‘সোনা মিঞা’ পরিচয় দেন এবং সোনা মিঞার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেন। পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলার পাঁচ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। গত ২৪ জুন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে প্রকৃত অপরাধী রমজানের পরিবর্তে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান সোনা মিঞা।
কারাগারে যাওয়ার পর দাবি করেন, ইয়াবা মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন তিনি। কারাগার কর্তৃপক্ষও পুরোনো মামলার নথিতে থাকা ছবি, পরিচয়, মায়ের নামসহ বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে সোনা মিঞার তথ্য মিলিয়ে অসংগতি দেখতে পান। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে জেলা ও দায়রা জজ পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি প্রকৃত সোনা মিঞা ছিলেন না। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক মো. রমজান। সোনা মিঞার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন করে ইয়াবা মামলায় গ্রেপ্তার হন রমজান।
জামিনের শর্তাবলী
আদালতের শর্তগুলো হলো সোনা মিঞার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখা, আদালতের অনুমতি ছাড়া ঠিকানা পরিবর্তন না করা, নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজিরা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত রাখা। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাঁর বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি মাসের প্রথম মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর থানায় হাজির হয়ে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতি তিন মাস পর তাঁর উপস্থিতি ও অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে থানাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীর মন্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সোনা মিঞার আইনজীবী আবদুল মান্নান বলেন, মামলার তদন্ত পর্যায়েই আসামির প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা হয়নি। এর ফলেই একজন নিরপরাধ মানুষকে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবে কারাগারে যেতে হয়েছে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর জামিনের আবেদন করা হয়। নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে আদালত গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনা মিঞার জামিন মঞ্জুর করেন।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ২০২২ সালের ১৩ জুন সোনা মিঞার পরিচয় ব্যবহার করে প্রকৃত আসামি মো. রমজান ওই মামলার জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন। তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন পরিচয় জটিলতার কারাভোগ করা দিনমজুর সোনা মিঞা। কারাফটকে স্বজনেরা তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ভ ল পর চয় ম ত য?
ভ ল পর চয় ম ত য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ভ ল পর চয় ম ত য matter?
ভ ল পর চয় ম ত য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
