নবীজি যাঁর বিয়ের আয়োজক
নব জ য র ব য় র - মদিনার এক সাধারণ নারী জুলাইবিবের পরিচয় ছিল প্রায় অজানা। শরীর ছিল ছোটখাটো, চেহারাও ছিল সাধারণ। বংশপরিচয়ও ছিল অস্পষ্ট। সমাজে তিনি ছিলেন এমন
Table of Contents
নবীজির বিবাহের গল্প: জুলাইবিবের অমর কাহিনী
Banglaprabah.com – নব জ য র ব য় র – মদিনার এক সাধারণ নারী জুলাইবিবের পরিচয় ছিল প্রায় অজানা। শরীর ছিল ছোটখাটো, চেহারাও ছিল সাধারণ। বংশপরিচয়ও ছিল অস্পষ্ট। সমাজে তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে কেউ বিশেষভাবে লক্ষ্য করত না। কেউ তাঁর দিকে তাকাত না, কেউ মূল্য দিত না। সেকারণে মেয়ের বিবাহের প্রস্তাব আসলেও তিনি রাজি হতে পারতেন না। কিন্তু সেই সাধারণ নারীই একদিন হয়ে উঠলেন নবীজির বিবাহের মাধ্যমে সবচেয়ে কাছের মানুষ। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৯৮১০)
নবীজির দৃষ্টিভঙ্গি ও বিবাহের প্রস্তাব
মানুষ সাধারণত বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিকে তাকায়, কিন্তু নবীজির দৃষ্টি ছিল ভিন্ন। তিনি দেখতেন অন্তরের গুণ। যাকে দেখে কেউ ভাবত না যে তিনি বিবাহের যোগ্য, নবীজি সেই মানুষটিকেই বেছে নিলেন। একদিন হঠাৎ জুলাইবিবের ডাক এল নবীজির কাছে। নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন, বিবাহ করতে চাও? জুলাইবিব অবাক হয়ে উত্তর দিলেন। কাঁচুমাচু স্বরে বললেন, ‘আমার মতো মানুষকে কে বিবাহ করবে?’
নবীজি বুঝতে পারলেন, জুলাইবিবের ইচ্ছা থাকলেও পরিবেশগত কারণে তাঁর মধ্যে হীনম্মন্যতা কাজ করছে। তিনি কিছু না বলে সরাসরি এক আনসারি পরিবারের কাছে গেলেন। মেয়ের পিতাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মেয়েকে বিবাহ দেবে? পিতা ভাবলেন, নবীজি নিজেই বিবাহ করতে চান। তৎক্ষণাৎ তিনি রাজি হয়ে গেলেন। কিন্তু নবীজি বললেন, আমার কাছে নয়, জুলাইবিবের কাছে। পিতা একটু বিস্মিত হয়ে বললেন, আমার স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে আসি। স্ত্রী শুনে সরাসরি রাজি হয়ে গেলেন।
নবীজির সঙ্গে যেভাবে ওমরের কন্যার বিবাহ হয়, এদিকে এ খবর পৌঁছে গেল খেদ কনের কাছে। মা-বাবা দ্বিধায় থাকলেও মেয়ে নিজেই এগিয়ে এলেন কথা বলতে। তখনকার সমাজে এটি ছিল খুবই সাধারণ ব্যাপার। নিজের বিবাহ নিয়ে মেয়েদের কথা বলা দূষণীয় কিছু ছিল না।
মেয়ে জানতে চাইলেন, এই প্রস্তাব কি মহানবী (সা.) নিজেই দিয়েছেন? উত্তর এল, হ্যাঁ। মেয়ে বললেন, ‘তাহলে আর সময় নষ্ট করার কোনো অর্থ হয় না। তিনি যা সঠিক মনে করেছেন, আমার কাছেও তা-ই সঠিক। রহমতের নবী তিনি, কাউকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারেন না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৯৮১০)
বিবাহ সম্পন্ন হলো। সমাজ যাঁকে বিবাহের জন্য অনুপযুক্ত ভাবছিল, নবীজির একটি মাত্র কথায় তাঁকেই আপন করে নিলেন এক দ্বীনদার পরিবারের দূরদর্শী কন্যা।
জিহাদ ও শাহাদাতের গৌরব
এরপর একদিন ডাক এল জিহাদের। মুজাহিদ সাহাবিদের সঙ্গে সেই জিহাদে অংশ নিলেন জুলাইবিব (রা.) নিজেও। যুদ্ধ শেষ হলে নবীজি (সা.) সাহাবিদের গণনা করতে লাগলেন। কতজন শহীদ হলেন, আহত হলেন কতজন—হিসাব নিচ্ছেন। হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলেন, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এমন কেউ কি আছে তোমাদের মধ্যে? সাহাবিরা কয়েকজনের নাম বললেন। তিনি আবারও একই প্রশ্ন করলে সাহাবিরা আরও কয়েকজনের নাম বললেন। তৃতীয়বারও যখন তিনি একই প্রশ্ন করলেন, সাহাবিরা তখন বললেন, না, এমন কেউ আর নেই।
নবীজি (সা.) তখন বললেন, ‘কিন্তু আমি তো জুলাইবিবকে খুঁজে পাচ্ছি না। তাঁকে খুঁজে বের করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৭২)
মুসা (আ.)-এর কাছে মেয়ে বিবাহ দিলেন যে নবী, শুরু হলো জুলাইবিবের খোঁজ। খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ তাঁকে পাওয়া গেল শহীদদের মাঝে। মরদেহ পাওয়া আছে ময়দানের এক পাশে। তাঁকে ঘিরেই পাওয়া আছে সাত শত্রুর লাশ। অর্থাৎ তিনি বীরদর্পে লড়ে গেছেন শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত।
নবীজি (সা.) দাঁড়ালেন তাঁর পাশে। বললেন এক অবিস্মরণীয় কথা, সে আমার, আর আমি তার। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৭২) এরপর তিনি নিজ হাতে তুলে নিলেন জুলাইবিবের নিথর শরীর। যেন তাঁর পবিত্র হাতই একমাত্র আশ্রয়স্থল জুলাইবিবের। কোনো খাটিয়া বা কারও সাহায্য ছাড়াই নবীজি তাঁকে বহন করে নিয়ে গেলেন কবর পর্যন্ত। শহীদদের গোসল দিতে হয় না। তাই তাঁকে সে অবস্থায় কবর দিলেন তিনি নিজ হাতেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৭২)
জুলাইবিবের নামডাক ছিল না মদিনার। আহামরি কেউ চিনতেন না তাঁকে। ছিল না সহায়-সম্পত্তি। তবু তিনি পেয়েছেন নবীজির এমন স্বীকৃতি, যার মূল্য এই পৃথিবী ও তার সব সম্পদের চেয়ে বেশি। নবীজি (সা.) স্বয়ং যাঁকে টেনে নিয়েছেন নিজের বুকে, তাঁর দাম দুনিয়ার যা-ই হোক, আসমানে তা অনেক অনেক উচ্চে। ইসলামের ইতিহাসে তাই আজও হয়ে আছেন তিনি অমর ও চিরস্মরণীয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
জুলাইবিব কে ছিলেন? জুলাইবিব ছিলেন মদিনার এক সাধারণ নারী, যিনি শরীরে ছোটখাটো এবং বংশপরিচয়ে অস্পষ্ট ছিলেন। তিনি নবীজির বিবাহের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জিহাদে শহীদ হয়েছিলেন।
নবীজি কেন জুলাইবিবকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন? নবীজি বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অন্তরের গুণের দিকে বেশি নজর দিতেন। জুলাইবিবের ইমান ও চরিত্র দেখে তিনি তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন।
জুলাইবিব কতজন শত্রুকে হত্যা করেছিলেন? শহীদ হওয়ার পর তাঁর মরদেহের চারপাশে সাতজন শত্রুর লাশ পাওয়া গিয়েছিল, যা থেকে বোঝা যায় তিনি বীরদর্পে লড়ে গিয়েছিলেন।
জুলাইবিবের শাহাদাতের হাদিস কোন বইয়ে পাওয়া যায়? জুলাইবিবের শাহাদাতের ঘটনা সহিহ মুসলিম (হাদিস: ২৪৭২) এবং মুসনাদে আহমাদ (হাদিস: ১৯৮১০) বইয়ে উল্লেখিত হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is নব জ য র ব য় র?
নব জ য র ব য় র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does নব জ য র ব য় র matter?
নব জ য র ব য় র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
