বাংলাদেশের সিনেমা প্রথমবারের মতো ভেনিসে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে স্থান পেল
Banglaprabah.com – য ভ ব ভ ন স জ – ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক কোনো বিভাগে বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ এই উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি মনোনয়ন পেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো এই চলচ্চিত্র উৎসবের আগামী আসরের মনোনয়ন ঘোষণা শুরু হয়। উৎসব সভাপতি আলবের্তো বারবেরা বাংলাদেশের রুবাইয়াত হোসেনের সিনেমাটির নাম ঘোষণা করেন।
মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইঙ্ক’, ড্যানি বয়েলের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘কোম্পানি’, কেসি অ্যাফ্লেকের ‘আ বিট অব লাইট’, আলী আসগরির ‘ব্যাক টু বুয়েনস এইরেস’, মার্কো বেকিসের ‘আ গুড লিট সোলজার’, স্তেফান ব্রিজের ‘ইল ফুকো কে তি পোর্তি দেন্ত্রো’, এদোয়ার্দো দে অ্যাঞ্জেলিসের ‘ওম্যান আননোন’, মে এল-তুখির ‘বাকিং ফাস্টার্ড’, ভের্নার হার্ৎসগের ‘আ প্লেস টু হিল’, সেড্রিক কানের ‘দাও’, ইলিয়া খরঝানোভস্কির ‘লুক ব্যাক’, হিরোকাজু কোরে-এদার ‘পসিবল লাভ’, লি চ্যাং-ডঙের ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’, মার্টিন ম্যাকডোনার ‘ইট উইল হ্যাপেন টুনাইট’, নান্নি মোরেত্তির ‘প্রাইমটাইম’, ল্যান্স ওপেনহাইমের ‘দ্য ইকো চেম্বার’, আন্দ্রেয়া পাল্লাওরোর ‘আ বিট বিফোর মিডনাইট’, নিকোলা পারিজের ‘দ্য স্পাইরাল’, পাওলো স্ত্রিপ্পোলির ‘মিস্টার, নেলসন, ডিড ইউ কিল পিপল?’, শিনইয়া সুকামোটোর ‘বাংকার’, ফ্লোরিয়ান জেলার।
রুবাইয়াতের ব্যক্তিগত যাত্রা ও ভেনিসে জায়গা করা
এর আগে ২০১০ সালে ইশতিয়াক জিকোর স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ৭২০ ডিগ্রিজ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। সে চলচ্চিত্রটিও প্রযোজনা করেছিল রুবাইয়াতের খনা টকিজ। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এরও বাংলাদেশি সহপ্রযোজক খনা টকিজ। ‘মেহেরজান’, ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’–এর পর ক্যারিয়ারের চতুর্থ সিনেমা দিয়ে ভেনিসের প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেওয়াটা রুবাইয়াতের জন্য সহজ ছিল না। ভেনিসে হাজারো সিনেমার মধ্য থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচিত হয় চূড়ান্ত তালিকা।
গতকাল রুবাইয়াত প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিনেমাটি ভেনিসে জমা দেওয়ার কয়েক দিন পরই জানতে পারি, আয়োজকরা এটি পছন্দ করেছেন। কিন্তু কোন শাখার জন্য, সেটা নিয়ে কিছুই বলেননি। অবশেষে মাত্র জানতে পারি, সিনেমাটি উৎসবের অফিশিয়াল শাখা হরাইজন (অরিজোন্তি) বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে।’ ‘এখন লিখতে পারেন’ ইতালির ফ্যাশন হাউস প্রাডার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ফন্ডাজিওনে প্রাডা থেকে চলতি বছর তহবিল পায় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। সিনেমাটির প্রথম ধাপের সম্পাদনা শেষ হয়েছে সেই সময়।
তারপর সিনেমাটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে সাবমিট করা শুরু হয়। প্রথম সারির উৎসবগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু বরাবরের মতোই এ বিষয়ে তেমন কোনো খবর দিচ্ছিলেন না রুবাইয়াত। প্রাডার তহবিল পাওয়া সিনেমাগুলো বেশির ভাগ ভেনিসের মনোনয়নে এগিয়ে থাকে। দুই মাস আগে পরিচালক শুধু জানান কয়টি উৎসবে প্রিমিয়ার হচ্ছে তাঁর সিনেমা। পরে বলেই ফেললেন ভেনিসের কথা। পাশাপাশি সতর্ক করলেন, এখন কিছুই লেখা যাবে না। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে অনেক সময় মনোনয়ন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অবশেষে গতকাল রুবাইয়াত বললেন, ‘ভেনিসে প্রিমিয়ার করছি—এখন লিখতে পারেন।’
সংগ্রাম থেকে ভেনিসে নারী হয়ে সিনেমা বানাতে এসে
সংগ্রাম থেকে ভেনিসে নারী হয়ে সিনেমা বানাতে এসে এই দ্বিতীয় সহস্রাব্দেও বহু মানুষের কথা শুনতে হয়েছে। এক যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সবকিছু নীরবে সহ্য করে গেছেন; কিন্তু কখনোই আত্মবিশ্বাস হারাননি। সিনেমা নিয়ে একদিন বড়ো জায়গায় যাবেন, সেই বিশ্বাস সব সময় ছিল। তবে এত অল্প সময়ে ভেনিসের মতো উৎসবে তাঁর সিনেমা জায়গা পাবে, শুটিংয়ের সময়ও এটা ভাবেননি। রুবাইয়াত বলেন, ‘আগের সিনেমা কোথায় জমা দেব, সেটা আগেই ভাবতাম। কিন্তু এবারের সিনেমাটি ছিল আমার জন্য বিশেষ এক ব্যক্তিগত জার্নি। বাবা মারা যাওয়ার পরে সিনেমার মাধ্যমেই নিজেকে খোঁজার চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে আবার অসুস্থ ছিলাম। এসব কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রথম আমার বাসায় শুটিং করেছি। কোনো উৎসবে যাবে, এসব মাথায় ছিল না। আমার জায়গা থেকে সৎভাবে সিনেমাটির শুটিং করেছি, সম্পাদনা করেছি, ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করেছি, স্বাধীনভাবে সবকিছু করেছি।’
বাংলা সিনেমার বড়ো অর্জন কান চলচ্চিত্র উৎসবের আঁ সার্তে রিগা বিভাগে এর আগে মনোনয়ন পায় আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। সেটা ছিল কানের অফিশিয়াল শাখায় বাংলাদেশের কোনো সিনেমার প্রথম মনোনয়ন। তারপর বাংলাদেশের সিনেমার বড়ো অর্জন ভেনিসের এই মনোনয়ন। রুবাইয়াত আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে সিনেমা দিয়ে ভেনিসে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি, এটাই আমার জন্য অনেক সম্মানের। আমি চাই, দেশের সিনেমা আরও ভালো জায়গায় যাক।’
১৯৩২ সালে যাত্রা শুরু করা ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হরাইজন বা অরিজোন্তি। তরুণ ও আগামীর প্রতিভাবান নির্মাতাদের সিনেমা তুলে ধরে এই শাখা। এ শাখার সিনেমাগুলো স্থানীয় গল্প, উপস্থাপনা, গল্প বলার ধরন, বিষয়বস্তুর নতুনত্ব, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব রেখে—এমন চ্যালেঞ্জিং গল্পের সিনেমাগুলোকেই তুলে ধরে। সেখানে হাজারো সিনেমার মধ্যে ১৯টি সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে। এই বিভাগে আরও জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা অনুপর্ণা রায়ের ‘লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট’। গত বছর এ বিভাগে অনুপর্ণার আগের সিনেমা ‘সংস অব ফরগটেন ট্রিজ’-এর জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিলেন।
সামাজিক আধারে হরর মসলা মিশিয়ে, মেকআপ ও একটি বিউটি পারলারের গল্প নিয়ে এই মনস্তাত্ত্বিক হরর সিনেমা। বিয়ের সাজের প্রস্তুতি নিতে নিতে সৌন্দর্য, শরীর, বিশ্বাস, স্মৃতি ও

