অনলাইন অর্ডারে যন্তর মন্তরে খাবার পৌঁছাচ্ছে
Banglaprabah.com – যন তর মন তর ব ক ষ – নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলনে সারা দেশ থেকে মানুষ সমর্থন জানাচ্ছেন। এমনকি কেউ কেউ খাবার ও পানীয় সরবরাহ করেও তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
সুইগি ও জোম্যাটো অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সমর্থকেরা সুইগি ও জোম্যাটোর মতো অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে খাবার অর্ডার করছেন। এরপর ডেলিভারি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের কাছে বিনা মূল্যে সেগুলো পৌঁছে দিতে।
সুইগির ডেলিভারি কর্মী প্রদীপ কুমার সিং এএনআইকে জানান, যন্তর মন্তর এখন এই ধরনের অর্ডারের একটি নিয়মিত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাহকরা সাধারণত নির্দেশ দেন যে খাবারগুলো ওখানেই বিতরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
একটি অর্ডার আসে। তারপর গ্রাহক বলেন, ভাই, এগুলো ওখানেই বিতরণ করে দিন। যাঁর প্রয়োজন, তাঁকে দিয়ে দিন।
প্রদীপ কুমার আরও জানান যে গতকাল তাঁর কাছে একটি বড় অর্ডার এসেছিল। তাকে শুধু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেগুলো এনে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিতে। তিনি বলেন, খাবার নিতে কেউ আসেন না, তাই ডেলিভারি কর্মীরাই সেগুলো বিতরণ করে দেন।
বিদেশ থেকেও অর্ডার আসছে
দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের অর্ডার আসছে। মহেন্দ্র কুমার নামের আরেক ডেলিভারি কর্মী জানান যে তিনি এক বিদেশি গ্রাহকের পাঠানো চা নিয়ে যন্তর মন্তরে এসেছেন।
আমি এই অর্ডার নিয়ে এসেছি। এটি ভারতের বাইরে থেকে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনরত ভাইদের দিয়ে দিন।
মহেন্দ্র কুমার বলেন যে তিনি জানেন না কার পক্ষ থেকে অর্ডারটি পাঠানো হয়েছে। শুধু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আন্দোলনরত ব্যক্তিদের চা দিয়ে দিতে হবে।
স্টুডেন্ট সার্ভিসের ধারণা
জোম্যাটো ও জেপ্টোর এক ডেলিভারি কর্মী এই উদ্যোগকে স্টুডেন্ট সার্ভিস হিসেবে উল্লেখ করেন। এক অজ্ঞাতপরিচয় প্রেরকের নির্দেশনার কথা জানিয়ে ওই কর্মী এএনআইকে বলেন যে প্রেরকের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
আমাকে শুধু বলা হয়েছে, সব বিতরণ করে দিন। কে অর্ডার করেছেন, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে সেখানে গিয়ে দিয়ে আসতে। এটা স্টুডেন্ট সার্ভিস, এটা শিক্ষার্থীদের জন্য।
ওই কর্মী আরও জানান যে তিনি জানেন না এই অর্ডারটি কার বা কাদের জন্য। তিনি শুধু জানেন যে এটি শিক্ষার্থীদের জন্যই করা হচ্ছে।
পুলিশের এফআইআর
ককরোচ জনতা পার্টির আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির একাধিক থানায় এসব এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান যে পারলামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

