সিআইডির মামলায় ব স টওয় ল য ন প্রতিষ্ঠানের এমডি
Banglaprabah.com – ব স টওয় ল য ন ড – গ্রাহকদের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দের নামে অর্থ সংগ্রহ করে তা ফেরত না দেওয়া এবং প্রতিশ্রুত জমি হস্তান্তর না করার অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই মামলায় সংস্থাটির এমডি, চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পাশাপাশি তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বিস্তারিত ও তদন্তের ফলাফল
আজ বুধবার সিআইডি থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। মামলার আসামিরা হলেন বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী এবং পরিচালক মো. মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার বনানী থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এই মামলাটি করা হয়।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সাথে ওই অর্থ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্লট বিক্রির প্রতারণা ও আর্থিক লেনদেন
২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড রূপগঞ্জের ভোলাবা, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে ব্যাপক প্রচার চালায়। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্লট দেওয়ার আশ্বাসে কিস্তিতে অর্থ নেওয়া হয়। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর কিস্তি পরিশোধ করলেও তাদের অধিকাংশই প্রতিশ্রুত প্লট পাননি। অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, প্লট বরাদ্দের পরিবর্তে গ্রাহকদের জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে সাব-কবলা দলিল দেওয়া হয়েছিল। প্লট না পাওয়া ও অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে কয়েকজন গ্রাহক সিআইডিতে অভিযোগ করলে সংস্থাটি অনুসন্ধান শুরু করে। তারা অনুসন্ধানে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোট ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা নেওয়ার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
সিআইডির দাবি, এসব গ্রাহকের কাউকেই প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।
ব্যাংক হিসাব ও অর্থের গতিপ্রকৃতি
অনুসন্ধানে সিআইডি ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মোট ২ হাজার ৭১৩টি জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পেয়েছে। এসব নথি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ৮২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
সিআইডি জানায়, এসব ব্যাংক হিসাবের ৪ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা ৭২ পয়সা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা ৭৯ পয়সা উত্তোলন করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছে তাদের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ধরন এবং এ ঘটনার অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে প্রতারণার শিকার অন্য গ্রাহকদের শনাক্ত ও তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণও নিরূপণের কাজ চলছে।

