বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে অর্থ পাচার রোধে সরকারের উদ্যোগ
Banglaprabah.com – ব ন য় গ ন শ চ – দেশে বিনিয়োগনির্ভর ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার অর্থ পাচার বন্ধ করতে আগ্রহী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত পঞ্চদশ বছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ পাচার বন্ধ হলে বিনিয়োগের জন্য একটি চাপ সৃষ্টি হবে এবং পুঁজি অলস অবস্থানে থাকবে না।
শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে ‘ওয়ে ফরওয়ার্ড ফর এমার্জিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার সংযোগ
জোনায়েদ সাকি জানান, বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য হিউম্যান ক্যাপিটাল গঠন অপরিহার্য। ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো একই ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আমাদের চেয়ে বেশি উৎপাদনশীলতা প্রদর্শন করছে। সরকার দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা ও উৎপাদন খাতের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির দায়িত্বও ইন্ডাস্ট্রির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
জ্বালানি খাতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার ‘আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি’ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সাকি। তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে এবং ইতিমধ্যে পাঁচটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আগামী ১০ বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সোলার প্রকল্পের জন্য জমি, ঋণ এবং ট্যাক্স সুবিধা দিয়ে প্রাইভেট সেক্টরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ
ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার ২ দিনে লাইসেন্স প্রদান এবং ৭ দিনের মধ্যে ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা দাঁড় করাচ্ছে বলে জানান জোনায়েদ সাকি। তিনি তথ্য দেন, গার্মেন্টস, লজিস্টিকস ও লেদারের পাশাপাশি আইসিটি, ইলেকট্রনিকস, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো নতুন ৮-১০টি বিনিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।
সভায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরাও মতামত প্রকাশ করেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মূলত সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উৎপাদনশীলতা কীভাবে আমাদের অর্থনীতির প্রধান বিষয় করা যায়, সরকারের সেটা ভাবা উচিত।’ দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, ‘আমাদের নীতিমালার ঘাটতি আছে। পুরো সিস্টেমের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।’ ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, নীতিগত প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্যোক্তারা প্রেরণা পান না। নিউএজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, একটা ব্যবসা শুরু করতে হলে ৫০টি সরকারি সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন, ছাড়পত্র এসবের প্রয়োজন হয়। আগের সরকারগুলো চেষ্টা করেছে ওয়ান-স্টপ সমাধান দেওয়ার। কিন্তু সেটা হয়নি। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ নিখুঁত করতে হলে সরকারকে উদ্যোক্তাদের এই সংকটগুলো সমাধান করতে হবে। অ্যাগ্রো কোম্পানি আইফারমারের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মাকামে মাহমুদ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অনেকগুলো বাধার মুখে পড়েন উদ্যোক্তারা। ফলে শুরুর যে প্রেরণা সেটা আর থাকে না। লালফিতার দৌরাত্ম্যে সময় চলে যায়। সৃজনশীল হওয়ার সময় পান না উদ্যোক্তারা।

