Uncategorized

২০০৯ সালের আইনের চেয়ে বর্তমান খসড়াটি শক্তিশালী

২০০৯ স ল র আইন র চ - ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের প্যানেল আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের

Desk Uncategorized
Published July 26, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

মানবাধিকার কমিশন আইন: ২০০৯ স ল র আইন র চেয়ে বর্তমান খসড়া শক্তিশালী

Banglaprabah.com – ২০০৯ স ল র আইন র চ – ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের প্যানেল আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতে যেমন স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন, তেমনি বিচারকদের ক্ষেত্রেও তা প্রয়োজন। একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকলেও এর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। অভিযোগ কী, কীভাবে তদন্ত হচ্ছে, তা জানা যায় না। এই আলোচনায় ২০০৯ স ল র আইন র নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের রাখা বিধান বর্তমান সরকারের সময়ে বাদ পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রশ্নের জবাবে সারা হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠনের সুযোগ ছিল। তারা তা করেনি। তাদের করা খসড়ার চেয়ে বর্তমান খসড়াটি দুর্বল হওয়া মানেই পৃথিবী শেষ হয়ে গেছে তা নয়। তবে এটা ২০০৯ স ল র আইন র এর চেয়ে অনেক শক্তিশালী।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দাশগুপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো সংস্থাগুলোর স্বাধীন ও কার্যকরভাবে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তাদের কাঠামোগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুদক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতে হলে তাদের কাঠামোগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিয়োগ, বাজেট, জনবল নিয়োগ এবং কার্যক্রম পরিচালনায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।

কেবল আইনি ক্ষমতা বাড়ালেই হবে না; রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশও নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মেধাভিত্তিক নির্বাচন চালু করা হলে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি জন-আস্থা বাড়বে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, আমাদের একটি শক্তিশালী আইন দরকার, যেখানে কোনো ফাঁকফোকর থাকবে না। বর্তমান দায়িত্ব হলো এটা নিশ্চিত করা যে যারা সরকারের বাইরে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন, তাদের কণ্ঠস্বর যেন নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ভুক্তভোগীরা এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারেন। তিনি যুক্তি তুলে ধরেন, প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সরাসরি অন্যায়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত হয়, তখন সেগুলো আরও শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে।

গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস কীভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের খসড়া আইনে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটি বিস্তারিত তুলে ধরেন। আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব কমানো জরুরি। এ জন্য সরকার, বিরোধী দল ও তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন নিয়োগকারী সংস্থা গঠনের প্রস্তাব থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পথ

সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স দিপেক এলমার বলেন, একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন ক্ষমতাসীন, বিরোধী দল ও জনগণ—সবার স্বার্থেই কাজ করবে। প্যানেল আলোচনাটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান। এই আলোচনায় ২০০৯ স ল র আইন র এর তুলনায় বর্তমান খসড়ার শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা হয়।

Leave a Comment