সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর অগ্রিম কর বাড়ল, মুনাফা কত কমবে
সঞ চয়পত র র ম ন ফ – গতকাল বৃহষ্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত নতুন বাজেটের অর্থবিলে সরকার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর অগ্রিম করের হার বৃদ্ধি করেছেন। যে কোনো ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা তোলার সময় এখন থেকে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে ১০ শতাংশ। এ পরিবর্তনের ফলে সঞ্চয়পত্রের সুবিধাভোগীদের আগের চেয়ে কম মুনাফা পেতে হবে।
পূর্বে মধ্যবিত্ত পরিবারের সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখা হত। কিন্তু নতুন বাজেটে এই হার দ্বিগুণ হওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগীদের সুবিধা কমে যাবে। বিশেষ করে কর দায়িত্ব পূরণের সময় আয়কর বিভাগ অগ্রিম কর কেটে রাখার পর বছর শেষে সমন্বয় করবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
“সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার দ্বিগুণ হওয়ায় মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়বে। কারণ দেশের মধ্যবিত্তের একটা বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা সংসার চালাতে ব্যবহার করেন।”
এনবিআর কী করেছে জানানো হয়েছে, অর্থবিল ২০২৬–এর মাধ্যমে কর বিধি পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত কর দায় প্রথমে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিছু করদাতাকে মুনাফা থেকে অগ্রিম কর কেটে রাখা অর্থ প্রদেয় আয়করের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অংশের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এ জন্য ব্যাংক হিসাব নম্বর জানিয়ে আবেদন করতে হবে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে। মেয়াদপূর্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ হওয়ায় মুনাফা কমবে।
বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জমান মজুমদার বলেন, “এবারের বাজেটে সঞ্চয়পত্র নিয়ে কোনো নতুন কিছু করা হয়নি।”
