Uncategorized

প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের প্রতি এই অবহেলা কেন

প র ন ত ক শ ক - বাংলাদেশের মৌলিক সংবিধান সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন নীতিমালায়ও শিক্ষাকে সামাজিক বৈষম্য দূর

Desk Uncategorized
Published July 24, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষা: একটি অবহেলিত বাস্তবতা

Banglaprabah.com – প র ন ত ক শ ক – বাংলাদেশের মৌলিক সংবিধান সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন নীতিমালায়ও শিক্ষাকে সামাজিক বৈষম্য দূর করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হয়। তবুও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশের পাহাড়ি ও প্রান্তিক এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো ন্যূনতম অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কলা পশ্চিম সোনাই উচ্চবিদ্যালয় সেই নির্মম বাস্তবতার এক জীবন্ত উদাহরণ।

তিন দশকের সংগ্রাম

১৯৯৫ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিন দশক পার হলেও এখনো টিন ও বেড়ার ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রায় দশ বর্গকিলোমিটার এলাকার একমাত্র উচ্চবিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও এখানে স্থায়ী ভবন নেই। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ শৌচাগার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, লাইব্রেরি কিংবা মেয়েদের জন্য কমনরুমের অভাব রয়েছে। কক্ষসংকটের কারণে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পরীক্ষা নিতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, অনেক সময় সাপ, কুকুর, বিড়াল কিংবা শিয়ালও বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এমন পরিবেশে শিক্ষার মান ধরে রাখা যে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।

শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও চাহিদা

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত ৩১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে শতাধিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্য। পাহাড়ি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নের পথ নয়; এটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, বৈষম্য হ্রাস এবং দারিদ্র্যের চক্র ভাঙারও অন্যতম হাতিয়ার। অথচ এই শিক্ষার্থীরা সরকারি সুবিধা বলতে কেবল বিনা মূল্যের পাঠ্যবই পায়।

বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকেরা নিয়মিত বেতন পান না, উন্নয়নও থমকে আছে। এখানে একটি ইতিবাচক দিকও উল্লেখযোগ্য। সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন। শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করছে। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, এই বিদ্যালয় না থাকলে শিক্ষার্থীদের অন্তত ১৭ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়াশোনা করতে হতো, যা দরিদ্র পরিবারের অধিকাংশের পক্ষেই সম্ভব নয়। অর্থাৎ বিদ্যালয়টি পুরো এলাকার শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র।

সরকারের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন এবং ভবন নির্মাণ ও এমপিওভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু অতীতে এমন বহু আশ্বাস বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বছরের পর বছর ঝুলে থাকার নজিরও কম নয়। তাই এখন প্রয়োজন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল দেশের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষও সমানভাবে ভোগ করতে পারে। পাহাড়ের শিশুরাও সমতলের শিক্ষার্থীদের মতো নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার অধিকার রাখে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই অধিকার নিশ্চিত করা।

সরকারের উচিত বিদ্যালয়টির এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা, স্থায়ী ভবন নির্মাণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার এবং মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও বৃত্তির ব্যবস্থাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Leave a Comment