Uncategorized

নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

ন প ড়ন র ব র দ - ```html

Desk Uncategorized
Published July 28, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

Banglaprabah.com – ন প ড়ন র ব র দ – “`html

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সংগ্রামী অবস্থান

যৌন হয়রানি, বিচারহীনতা ও বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এই উপলক্ষে মশাল প্রজ্বলন ও গণসংগীতের আয়োজন করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিবাদী গানের মাধ্যমে তারা নিরাপদ ক্যাম্পাস, ন্যায়বিচার ও দাবি-দাওয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান। রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে।

দুই শিক্ষক ও ক্যানটিন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

সম্প্রতি দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং বিজয় ‘২৪ হলের এক ক্যানটিন কর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয়। গত বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে রোববার সকালে তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

তিন দফা দাবি ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি

গণসংগীতের আসরে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত কণ্ঠে বিভিন্ন প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—বিজয় ‘২৪ হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানটিন কর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা; যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা।

আজকের গণসংগীত কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলমান যৌন হয়রানি, বিচারহীনতা ও সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠ উচ্চারণ করা। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া এবং যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাবটি গঠনের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ খান জানান, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া এবং যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আগামী দিনগুলোতেও ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীন। তিনি বলেন, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত দুই কর্মদিবস শেষ হয়েছে এবং তদন্তকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে। তদন্ত শেষ হলেই যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট না থাকার এখানে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু চলমান অচলাবস্থা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছি আমরা শিক্ষার্থীরাই। সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরব না। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত এ সংকটের স্থায়ী সমাধান জরুরি।

ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রানা মিয়া এই মন্তব্য করেন।

“`

Leave a Comment