মোরেলগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পরদিনই ক্লিনিক সিলগালা
Banglaprabah.com – স ব স থ যমন ত র নির্দেশনায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ পরিদর্শনের পরবর্তী দিনেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেনের নামে পরিচালিত একটি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স ব স থ যমন ত র তদন্তের পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক ভ্রমণ ও অভিযোগ
গত শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিকভাবে যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পান। হাসপাতালের শৌচাগারে স্যালাইনসহ বিভিন্ন সামগ্রী এবং পরিত্যক্ত ভবনে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট হতে দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। স ব স থ যমন ত র এই অভিযোগের পরই তদন্ত শুরু হয়।
এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল-সংলগ্ন ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি ক্লিনিকেও যান। রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালটি কার্যকরভাবে পরিচালনার পরিবর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ক্লিনিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। সেখানে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো। স ব স থ যমন ত র এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন।
বিভাগীয় পরিচালকের তদন্ত ও ব্যবস্থা
গতকাল রোববার স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক শেখ মো. মোশাররফ হোসেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–সংলগ্ন ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ পরিদর্শন করেন। পরে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে সেখানে প্রায় ২৯ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকার ঘটনার দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। স ব স থ যমন ত র এই তদন্তের ফলাফল হিসেবে ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটি পরিদর্শন করছি। হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ে অপসারণ করা কেন হচ্ছে না, সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে কর্মরত যেসব কর্মকর্তার সময়ে বিপুল পরিমাণের ওই ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, ওই সব কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ে অপসারণ করা কেন হচ্ছে না, সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে কর্মরত যেসব কর্মকর্তার সময়ে বিপুল পরিমাণের ওই ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, ওই সব কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। স ব স থ যমন ত র এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন দাবি করেন, ক্লিনিকটি তাঁর নয়, এটি তাঁর ভাইয়ের। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ক্লিনিকটি তিনিই পরিচালনা করতেন এবং সেখানকার চিকিৎসকও তিনি। প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের তথ্য অনুযায়ী মালিক হিসেবে কামাল হোসেনের ভাইয়ের নাম থাকলেও ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কামাল হোসেনের তথ্য। স ব স থ যমন ত র এই দ্বন্দ্বও তদন্ত করছে।
এই সময়ে বিভাগীয় পরিচালক হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে থাকা প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ এবং এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন। পরে বিকেলে ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্লিনিকটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। সেটির মেয়াদ দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে। স ব স থ যমন ত র এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
সিভিল সার্জনের বক্তব্য
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে টয়লেটে স্যালাইন ও সিরিঞ্জ পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান আজ সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেহেতু অভিযোগ করে গেছেন, সেই পরিপেক্ষিতেই আমরা ওই ক্লিনিক সিলগালা করেছি। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে এটার কাগজপত্র করতে পারে নাই। আবার এটা নিয়ে মামলা আছে। আপতত এটা (ক্লিনিকটা) বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।’ স ব স থ যমন ত র এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে।

