Uncategorized

গল্পের ভেতর মানুষের মুখ

গল প র ভ তর ম ন - গল প র ভ তর ম — গল্প শুধু সময়ের নথি নয়, এটি হৃদয়ের এক অনন্য ভাষা। এই ভাবনা থেকেই পরমকথা নামক এই আয়োজনের সূচনা। এখানে শব্দ নয়, ভাবনার

Desk Uncategorized
Published July 26, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

পরমকথার ৭৯তম আসরে গল্পের ভেতর মানুষের মুখ ও নতুন আলোচনার সূচনা

Banglaprabah.com – গল প র ভ তর ম ন – গল প র ভ তর ম — গল্প শুধু সময়ের নথি নয়, এটি হৃদয়ের এক অনন্য ভাষা। এই ভাবনা থেকেই পরমকথা নামক এই আয়োজনের সূচনা। এখানে শব্দ নয়, ভাবনার প্রাধান্য। সাহিত্য মতামতের চেয়েও বড় স্থান দখল করে। কোনো কঠোর আনুষ্ঠানিকতা নেই এখানে। বরং গল্পের এক সত্যিকারের উৎসব। দেশের বিখ্যাত গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সমালোচক এবং পাঠক—সবাই মিলিত হন এই অনুষ্ঠানে। তারা আসেন গল্পের জগতে প্রবেশ করার জন্য, গল্পকে বুঝতে, এবং নতুন দৃষ্টিতে দেখতে।

পরমকথার ৭৯তম আসরটি ছিল এক উজ্জ্বল বিকেলের স্মৃতি। রাজধানীর সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় সাহিত্যপ্রেমীদের এক প্রাণবন্ত সমাবেশ গড়ে ওঠে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই ছিল গল্পের আবহ। মনোযোগী শ্রোতা ছিলেন অগণিত। আলোচনার গভীরতা ছিল অসাধারণ।

দুটি ভিন্ন গল্প, দুটি আলাদা স্বর

সেদিন নতুন গল্প পাঠ করেন অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক আবুল ইসলাম শিকদার। পাশাপাশি গল্প পড়েন ছড়াকার ও থিয়েটারকর্মী মাহবুবা হক কুমকুম। এই দুটি গল্প ছিল ভিন্ন স্বরের। দুটি আলাদা অভিজ্ঞতার ছাপ। দুটি পৃথক জীবনবোধের প্রতিফলন।

গল প র ভ তর ম হলো সেই মাধ্যম যেখানে লেখকের ভাবনা পাঠকের মনে প্রতিধ্বনিত হয়।

আলোচনার গভীরতা ও সৌন্দর্য

গল্পপাঠ শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় আলোচনা। কেউ ভাষা নিয়ে কথা বলেন। কেউ চরিত্র নিয়ে মতামত দেন। কেউ নির্মাণশৈলী নিয়ে আলোচনা করেন। কেউ প্রশ্ন তোলেন। কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করেন। আবার কেউ গল্পের অন্তর্নিহিত দর্শন খুঁজে পান। মতের ভিন্নতা ছিল, কিন্তু সৌজন্যের কোনো অভাব ছিল না। এটাই পরমকথার আসল সৌন্দর্য।

এখানে প্রশংসা যেমন আছে, তেমনি আছে সমালোচনাও। তবে সেই সমালোচনা আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং আরো ভালো লেখার পথ দেখানোর জন্য। একজন লেখকের পাশে আরেকজন লেখকের দাঁড়িয়ে থাকার জন্য।

সাহিত্যের সংলাপ ও নতুন আশা

আসরের প্রতিটি মুখে ছিল মনোযোগ। প্রতিটি চোখে ছিল কৌতূহল। হাতে ছিল গল্পের কাগজ। মনে ছিল সাহিত্যের প্রতি গভীর টান। কেউ পড়ছেন। কেউ শুনছেন। কেউ নোট নিচ্ছেন। আবার কেউ নীরবে ভাবছেন। একটি গল্প কতভাবে পাঠ করা যায়, তারই যেন জীবন্ত অনুশীলন।

পরমকথার আরেকটি বড় শক্তি হলো এর আন্তরিক পরিবেশ। এখানে বড়-ছোটর দূরত্ব নেই। প্রতিষ্ঠিত লেখক ও নবীন গল্পকার একই বৃত্তে বসেন। একই আলোচনায় অংশ নেন। একই মনোযোগে একে অন্যকে শোনেন। সাহিত্য এখানে অহংকার নয়। সাহিত্য এখানে সংলাপ।

আজকের সময়ে, যখন গভীর পাঠের অভ্যাস ক্রমেই কমছে, তখন পরমকথার মতো আয়োজন নতুন আশার আলো জ্বালায়। কারণ ভালো সাহিত্য শুধু লিখে তৈরি হয় না। ভালো সাহিত্য তৈরি হয় পাঠে। আলোচনায়, প্রশ্নে, আত্মসমালোচনায়। পরমকথা সেই চর্চারই একটি সুন্দর ঠিকানা, যেখানে গল্প শেষ হলেও আলোচনা শেষ হয় না। একটি গল্প থেকে জন্ম নেয় আরেকটি ভাবনা। আর সেই ভাবনাই সাহিত্যকে এগিয়ে নেয়।

পরমকথা তাই শুধু একটি গল্পপাঠের আসর নয়। এটি গল্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক নান্দনিক সাহিত্যিক পরিবার, যেখানে শব্দের প্রতি ভালোবাসাই সবার বড় পরিচয়।

Leave a Comment