Uncategorized

চীন থেকে নেত্রকোনায়—প্রেমের টানে আসা ওয়্যাং সুলিন এখন নুর উদ্দিন

চ ন থ ক ন ত রক - ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়, তারপর প্রেম। সেই আবেগের টানে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে চীন থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পৌঁছেছেন

Desk Uncategorized
Published July 31, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

চীনা যুবকের প্রেমের টানে নেত্রকোনা

Banglaprabah.com – চ ন থ ক ন ত রক – ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়, তারপর প্রেম। সেই আবেগের টানে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে চীন থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পৌঁছেছেন ওয়াং সুলিন নামের এক তরুণ। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি বিবাহ করেছেন নাজমিন আক্তার ওরফে লিজা নামের এক তরুণীকে। ধর্ম পরিবর্তনের পর তাকে মো. নুর উদ্দিন নামকরণ করা হয়েছে। আইনজীবীর মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট জমা দিয়ে ২১ জুলাই তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। আজ শুক্রবার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা আয়োজন করা হচ্ছে। বিদেশি জামাইকে দেখতে এলাকাবাসী কনের বাড়িতে ভিড় করছেন।

নাজমিন আক্তার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন স্থানীয়ভাবে ফার্নিচারের ব্যবসা করেন। তাদের বাড়ি পাশের সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তারা মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া থাকেন। অন্যদিকে ওয়াং সুলিন ওরফে নুর উদ্দিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী।

পরিবারের সতর্কতা ও যাচাই

প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে নাজমিনের সঙ্গে ওয়াং সুলিনের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথাবার্তার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিবাহের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানালে উভয় পরিবারই সম্মতি দেয়। এরপর ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়াং সুলিন। ঢাকার বিমানবন্দরে নাজমিনের পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান। পরে তাকে মোহনগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছেলের মা–বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। চীনা দূতাবাসেও গিয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়েছি। সব তথ্য সঠিক পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিবাহের সিদ্ধান্ত নিই।

বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিবাহকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসার শুরু থেকেই সতর্ক ছিল নাজমিনের পরিবার। চীনা যুবকের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করতে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চীনা দূতাবাসেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাজমিনের বাবা মো. নাজিম উদ্দিন।

বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার জামাই চীনে ফিরে যাবেন। সেখানে ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে নাজমিনকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। চীন থেকে জামাই আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মোহনগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অনেকে কনের বাড়িতে গিয়ে ওই যুবককে দেখছেন। কেউ কেউ তার সঙ্গে ছবি তুলছেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

পত্রপত্রিকায় বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিবাহকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিভিন্ন খবর পেয়েছি। তাই প্রথমে কিছুটা চিন্তা ছিল। তবে মেয়ের বাবা চীনা দূতাবাস ও ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিয়েছেন। এখন সন্দেহের কোনো কারণ দেখছি না। আমরা নবদম্পতির সুখী জীবন কামনা করি।

কনের পরিবার জানিয়েছে, আজকের অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করে স্ত্রী নাজমিনকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে ওয়াং সুলিন ওরফে নুর উদ্দিনের।

Leave a Comment