প্রযুক্তি যখন হয় দৃষ্টিশক্তি Banglaprabah.com – এআই একজন দ ষ ট প রত – দুই বছর বয়সী ছেলের কথা বলছিলেন একজন মা। তাঁর চোখে দেখার ক্ষমতা নেই, কিন্তু
প্রযুক্তি যখন হয় দৃষ্টিশক্তি
Banglaprabah.com – এআই একজন দ ষ ট প রত – দুই বছর বয়সী ছেলের কথা বলছিলেন একজন মা। তাঁর চোখে দেখার ক্ষমতা নেই, কিন্তু ছেলেটা বুঝে গেছে। যদি সে চুপচাপ থাকে, তবে মা তাকে খুঁজে পাবেন না। তাই ঘরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকে ছোট্টটি। মা যখন তাকে খুঁজে পান না, তখন তাঁর মন ভরে যায় অসহায়ত্বে।
আমার ছেলে বুঝে গেছে, আমি তাকে চোখে দেখতে পারি না। তাই সে যখন লুকিয়ে থাকে বা চুপ করে থাকে, তখন তাকে খুঁজে পাওয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে যায়।
সেই মাকে আমি একটি এআই ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে চারপাশের দৃশ্য বিশ্লেষণ করে অ্যাপটি কথার মাধ্যমে জানিয়ে দেয় কী আছে, কে আছে, কী ঘটছে। কয়েক সপ্তাহ পর ফোন এল। এবার তাঁর কণ্ঠে আর অসহায়ত্ব নেই—শুধু আনন্দ আর স্বস্তি।
এখন ফোন আমাকে বলে দেয়—”শিশুটি দাঁড়িয়ে আছে”, “শিশুটি খেলছে”, “শিশুটি দরজার পাশে আছে”। আমি এখন অনেক দ্রুত তাকে খুঁজে পাই।
ফোন রাখার পর অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলাম। কারণ বুঝতে পারছিলাম, প্রযুক্তি কখনো কখনো শুধু একটি যন্ত্র নয়। এটি একজন মায়ের উদ্বেগ কমিয়ে দিতে পারে। এটি একজন মানুষের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে পারে।
নিজের জীবনে প্রযুক্তির পরিবর্তন
আমিও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ। ছোটবেলা থেকে জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। কেউ একটি ভিজিটিং কার্ড হাতে দিলে আমাকে বলতে হতো, ‘এখানে কী লেখা আছে, একটু পড়ে বলবেন?’ কেউ যদি কোনো বই হাতে ধরিয়ে দিতেন, জানতে হতো, ‘এটা কোন বই?’ ব্যাংকের কাগজপত্র, অফিসের নথি, দোকানের পণ্যের গায়ে লেখা তথ্য—সবকিছুর জন্য অন্য কারও সাহায্যের প্রয়োজন হতো।
সাহায্য পাওয়া খারাপ কিছু নয়। কিন্তু প্রতিবার সাহায্য চাইতে হলে, তখন নিজের অজান্তেই স্বাধীনতার একটি অংশ হারিয়ে যাওয়া।
আজ পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি সংবাদপত্র পড়ি। তবে কাগজের পত্রিকা হাতে নিয়ে নয়। আমার স্মার্টফোনের মাধ্যমে। এআই ভিত্তিক প্রযুক্তি সংবাদপত্রের লেখা আমাকে পড়ে শোনায়। আমি দেশের খবর জানি, বিশ্বের খবর জানি, মতামত পড়ি, বিশ্লেষণ পড়ি। যে কাজের জন্য একসময় অন্যের সময় ও সহায়তার প্রয়োজন হতো, এখন আমি নিজেই করতে পারি।
অফিসে যাওয়ার আগে আমি যে শার্টটি পরতে চাই, সেটি কী রঙের? সেই রঙের সঙ্গে কোন প্যান্ট মানাবে? একসময় এসব প্রশ্নের উত্তর অন্যের কাছে জানতে হতো। এখন আমার ফোনই বলে দেয়—’এটি নীল রঙের শার্ট’, ‘এটির সঙ্গে কালো প্যান্ট মানাবে।’ অনেকের কাছে এটি হতো তুচ্ছ একটি বিষয়। কিন্তু নিজের পোশাক নিজে নির্বাচন করার স্বাধীনতা, নিজের মতো করে নিজেকে উপস্থাপন করার আনন্দ—এগুলো কোনো ছোট বিষয় নয়।
লেখার নতুন পদ্ধতি
আরও অবাক লাগে যখন ভাবি, আমি এই লেখাটিও মূলত কণ্ঠ ব্যবহার করে লিখছি। আমি কথা বলছি, আর এআই সেই কথাগুলোকে লেখার রূপান্তর করছে। একসময় একটি প্রতিবেদন বা নিবন্ধ লিখতে আমার অনেক বেশি সময় লাগত। আজ প্রযুক্তির কারণে আমি আরও দ্রুত, আরও দক্ষভাবে কাজ করতে পারছি।
হাজারো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ আজ একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কেউ এআই ব্যবহার করে বই পড়ছেন, কেউ চাকরির আবেদন করছেন। কেউ অনলাইন ব্যাংকিং করছেন, কেউ নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কেউ—বা প্রথমবারের মতো স্বাধীনভাবে শহরের রাস্তায় চলাচল করার সাহস পাচ্ছেন।
আমরা প্রায়ই এআই নিয়ে আলোচনা করি কর্মসংস্থান, অর্থনীতি কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু খুব কম মানুষ ভাবি, এআই একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য কী অর্থ বহন করে। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মায়ের জন্য কী অর্থ বহন করে। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চাকরিজীবীর জন্য কী অর্থ বহন করে।
আমার কাছে এআই মানে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়। এটি তথ্যের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ। এটি মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ। এটি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সুযোগ।
আশার আলো
অবশ্যই এআই সব সমস্যার সমাধান নয়। এখনো অনেক ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল সেবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য নয়। এখনো ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটি নিশ্চিত করার জন্য অনেক কাজ বাকি। তবু আমি আশাবাদী। কারণ, প্রথমবারের মতো প্রযুক্তি শুধু আমাদের জন্য তৈরি হচ্ছে না; প্রযুক্তি আমাদের কথা শুনছে, আমাদের প্রয়োজন বুঝছে এবং আমাদের সঙ্গে পথ চলছে।
যে পৃথিবীতে একসময় আমাকে প্রায় প্রতিটি তথ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেই পৃথিবীতে আজ আমি অনেক কিছু নিজেই করতে পারি। তাই যখন কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এআই আপনার কাছে কী?’ আমি প্রযুক্তিগত কোনো সংজ্ঞা দিই না। আমি শুধু বলি—এআই আমার চোখ।
ভাস্কর ভট্টাচার্য: একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটি বিশেষজ্ঞ ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী। E-mail: vashkarbd@gmail.com
Related SEO Topics
Frequently Asked Questions
Apa itu এআই একজন দ ষ ট প রত?
এআই একজন দ ষ ট প রত adalah topik utama yang dibahas di artikel ini dengan konteks praktis agar pembaca memahami informasinya dengan jelas.
Mengapa এআই একজন দ ষ ট প রত penting?
এআই একজন দ ষ ট প রত penting karena membantu pembaca membandingkan pilihan, menghindari kesalahan umum, dan mengambil keputusan yang lebih tepat.
Bagaimana cara memakai panduan এআই একজন দ ষ ট প রত ini?
Gunakan poin utama, contoh, dan tautan terkait di halaman ini sebagai rujukan awal, lalu cek detail terbaru sebelum mengambil keputusan final.

