যেভাবে লেখা হলো নারী
য ভ ব ল খ হল ন - ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে হুমায়ুন আজাদ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'নারী' নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন, যার শিরোনাম ছিল
Table of Contents
হুমায়ুন আজাদের ‘যেভাবে লেখা হলো নারী’ গ্রন্থের সৃষ্টি-কথা
Banglaprabah.com – য ভ ব ল খ হল ন – ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে হুমায়ুন আজাদ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘নারী’ নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন, যার শিরোনাম ছিল ‘যেভাবে লেখা হলো নারী’। দীর্ঘদিন ধরে এই লেখাটি প্রথম আলোর কাগজি সংস্করণেই থেকে এসেছে, কিন্তু আজ হুমায়ুন আজাদের প্রয়াণদিবসে এটি অনলাইন পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো। এই নিবন্ধে লেখক তাঁর লেখার প্রক্রিয়া ও অনুপ্রেরণার কথা তুলে ধরেছেন।
কলাম থেকে শুরু হয়ে বই
সেই সময় কলাম লিখতে লিখতে নিজেকে অপচয় করতে থাকার অনুভূতি ছিল। কলাম লেখার উত্তেজনাময় সময়ে ওগুলো খুব জনপ্রিয় ছিল, কিন্তু আমার মনে ঘৃণাও লাগছিল। ক্লান্তি বাড়ছিল, সম্পাদকদের জানাচ্ছিলাম আর পারব না, নষ্ট রাজনীতি লিখতে বমি পাচ্ছে, কিন্তু কলাম লেখার আবেদনকাতর চাপ তীব্র ছিল।
১৯৮৯ সালের কাছাকাছি সময়ে আমি ‘নারী ও মৌলবাদী-মার্ক্সবাদী প্রতিক্রিয়াশীলতা’ নামে একটি কলাম লিখেছিলাম। ওই ছোট কলামটিই ছিল নারী গ্রন্থের সূচনা। তবে তখনই আমি ‘নারী’ লিখতে বসে যাইনি; একটি স্ফুলিঙ্গের প্রয়োজন ছিল, সেটি জ্বালিয়ে দেয় মোজাম্মেল বাবু।
বাবু আবেদন জানাতে থাকে, যদি আমি কলাম লিখতে না চাই, তাহলে একটি বই লিখতে পারি নারী নিয়ে।
নারীবাদের স্মৃতি ও অনুপ্রেরণা
হঠাৎ ঝিলিক বোধ করি আমিও; মনে পড়ে যায় অনার্সে পড়ার সময় থেকেই আমি উত্সাহী নারীবাদী। তখন থেকেই কিনেছি নারীবাদীদের অনেক বই—১৯৬৫-৬৬ সালে সম্ভবত সাত টাকায় কিনেছিলাম সিমোন দ্য বোভোয়ারের মহাগ্রন্থ ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’। সম্ভবত চার টাকায় বেটি ফ্রাইডানের ‘ফেমিনিন মিস্টিক’।
এডিনবরা থেকে কিনেছিলাম কেইট মিলেটের প্রচণ্ড লৈঙ্গিক রাজনীতি, গ্রিয়ারের নারী নপুংসক, এবং আরও অনেক বই, কোনোটিই ভালো করে পড়া হয়নি। ঝিলিকটি ঝলসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ওই বইগুলো বের করি শেলফ থেকে, তখনো বুঝিনি কী অগ্নিগিরি অপেক্ষা করছে বিস্ফোরণের।
কেইট মিলেটের প্রভাব
প্রথম পড়তে শুরু করি কেইট মিলেট, দেখি পারমাণবিক বোমার থেকেও বিপর্যয়কর বই লৈঙ্গিক রাজনীতি, যার প্রতিটি পঙ্ক্তি তেজস্ক্রিয়, প্রতিটি স্তবকে মেধার তীক্ষ্ণ বিভা। বইটি শেষ করি ভূমিকম্পে কাঁপতে কাঁপতে, বুঝতে পারি আমার ভেতরে সমাজ, রাষ্ট্র, সভ্যতা, নারী, ধর্মসাহিত্য প্রভৃতি সম্পর্কে যে ধারণাগুলো ছিল অস্পষ্টভাবে, যাকে আমি সম্ভবত কখনো তাত্ত্বিকরূপ দিতে পারতাম না, কেননা এ অঞ্চলে তাত্ত্বিক কাঠামোর বালাই নেই, তার অপূর্ব তাত্ত্বিকরূপ দিয়েছেন মিলেট।
মিলেটের বইটি একটি পিএইচডি সন্দর্ভ, যা সাধারণত বিনীত ভদ্র পোষমানা; কিন্তু এটি ভয়াবহ এবং প্রকাশের পর হয় সাংবাদাগানো বেস্টসেলার। এমন ঘটনা বেশি ঘটেনি। বলব কি আমার বিশ্বদৃষ্টিই বদলে যায় ওই বই পড়ার ফলে?
বই পড়া ও লেখার প্রক্রিয়া
একটির পর একটি বড় পড়তে থাকি নারীবাদীদের—সিমোন দ্য বোভোয়ারের মহাগ্রন্থ ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ পড়তে গিয়ে দেখি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিশ্লেষণ ও শিল্পকলার অসামান্য রূপ বইটি, যা বাংলা ভাষায় কখনো হবে না। কয়েক মাসে আমি আনন্দে উল্লাসে পড়ে উঠি বিপুলসংখ্যক বই, সম্ভবত চল্লিশ হাজার পাতা; এবং আমার মনে হয় আমি প্রস্তুত, এখনই একটি বই লিখতে পারি, যে বই বাংলায় লেখা হয়নি।
আমি পড়তে থাকি এবং লিখতে থাকি, রচিত হয়ে উঠতে থাকে নারী। নারী লেখা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক বই পড়ার ফল; তবে ওই পড়া আগের মতো নয়। তবে নারীবাদীদের বইই শুধু পড়িনি আমি, পড়তে হয়েছে নারী, সমাজ, সভ্যতার সংক্রান্ত অজস্র বই, পারলে পৃথিবীর সব বই পড়ে ফেলতাম।
পড়তে হয়েছে প্লাটো আরিস্ততল রুশো রাসকিন এঙ্গেলস টেনিসন রবীন্দ্রনাথ ফ্রয়েড শিরিন হিন্দু আইন, রোমান আইন ও আরও অজস্র বই। রুশো আর নতুন করে রবীন্দ্রনাথকে পড়তে গিয়ে কষ্ট আর মজা পেয়েছি খুব; হ্যাঁ, রোমান্টিক রুশো আর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে ধারণা ছিল তারা মানুষের মুক্তিদাতা, কিন্তু দেখতে পাই তার বিপরীত।
বিশ্বের নারীবাদী চিন্তাধারা
মেরি ওলস্টোনক্র্যাফটের ‘ভিন্ডিকেশন অব দ্য রাইটস অব ওমেন’ সংগ্রহ করতে একটু সময় লাগে, ঢাকার একটি বইয়ের দোকানেই পেয়ে যাই; পড়ে দেখি এক অপূর্ব বিস্ময় ওই বই, দুই শ বছর আগে মাত্র কয়েক দিনে ওই বই লিখে গেছেন এক তরুণী, যার কথা মনে হলেই আমি দেখতে পাই অগ্নিশিখা ও অশ্রুবিন্দু।
বিশ শতকের দ্বিতীয়াংশে সবচেয়ে বিপ্লবাত্মক বইগুলো লিখেছেন নারীরা, পুরুষদের বই ওগুলোর পাশে ঠান্ডা মাংসের মতো। ওই বিপ্লবী নারীরা শুধু মুক্তাঞ্চল ইউরোপ আমেরিকায় দেখা দেননি, দেখা দিয়েছেন বদ্ধাঞ্চলে; যেমন মরোক্কোর ফাতেমা মেরনিসসি লিখেছেন মুসলমানের অবচেতনার নারী, মিসরে নওএল লিখেছেন হাওয়ার লুকোন মুখ: আরব বিশ্বে নারী—খুবই মারাত্মক বই। তাঁরা তাদের সততা সাহসের জন্য পেয়েছেন পুরুষতন্ত্রের পুরস্কার।
লেখার পরিকল্পনা ও কাঠামো
নারী লেখা শুরুর আগে ঠিক করে নিই কয়েকটি বিষয়: প্রথমেই ভাবি আমার গদ্যের কথা; এমন গদ্য লিখতে হবে, যাতে আমার গদ্য বিকশিত হয়, তা যেন একই সাথে করতে পারে বিশ্লেষণ ও শিল্পসৃষ্টি। তারপর সূচি; আমার মনে হয় যেহেতু আমি লিখছি গরিব বাংলায়, এই বিষয়ে বছর বছর বইতে লেখা হবে না গরিব ভাষাটিতে, তাই শুধু একটি বই লেখা হবে না গরিব ভাষাটিতে, তাই শুধু একটি তাত্ত্বিক মহাগ্রন্থ লিখলেই চলবে না।
এতে নারীর অবস্থার যেমন দিতে হবে পূর্ণ পরিচয়, তেমনি উপস্থাপিত করতে হবে নারীবাদের সমগ্র এলাকা; আর পশ্চিমের তত্ত্ব ও মহাপুরুষদের ব্যাখ্যা করলেই চলবে না; খুঁজতে হবে এই অন্ধকার অঞ্চলকেও, দেখতে হবে এখানে কতটা অন্ধকার ও কতটা জ্যোত্স্না। দেখি অন্ধকারই ছড়ানো দিকে দিকে, শুধু তীক্ষ্ম আলো জ্বলছেন তিন চারজন—রামমোহন, বিদ্যা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ গ্রন্থটি কখন প্রকাশিত হয়?
হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ গ্রন্থটি ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবেও প্রকাশিত হয়।
‘যেভাবে লেখা হলো নারী’ নিবন্ধটি কোথায় প্রকাশিত হয়?
এই নিবন্ধটি প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রথম আলোর কাগজি সংস্করণেই থেকে এসেছে।
হুমায়ুন আজাদ কোন বইটি থেকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন?
হুমায়ুন আজাদ কেইট মিলেটের ‘লৈঙ্গিক রাজনীতি’ বইটি থেকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তিনি এই বইটিকে পারমাণবিক বোমার থেকেও বিপর্যয়কর বলে বর্ণনা করেছেন।
নারী গ্রন্থ লেখার পেছনে মোজাম্মেল বাবুর ভূমিকা কী ছিল?
মোজাম্মেল বাবু হুমায়ুন আজাদকে কলাম লেখার পরিবর্তে একটি বই লেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা নারী গ্রন্থের সূচনায় গুরুত
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is য ভ ব ল খ হল ন?
য ভ ব ল খ হল ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does য ভ ব ল খ হল ন matter?
য ভ ব ল খ হল ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
