Uncategorized

বুর্জোয়া শিল্পকে পরিত্যাগ করেছিলেন জহির রায়হান

ব র জ য় শ ল পক - মার্ক্সবাদ ও সমাজতন্ত্রে আস্থা রাখা আরেকজন ব্রিটিশ মনীষীর সঙ্গেও মিলে যায় জহির রহমানের বুর্জোয়া শিল্প নিয়ে ধরার অবস্থান। সেই মনীষী হলেন

Desk Uncategorized
Published August 19, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Table of Contents
  1. জহির রহমানের চিন্তায় বুর্জোয়া শিল্পের সমালোচনা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

জহির রহমানের চিন্তায় বুর্জোয়া শিল্পের সমালোচনা

একই দর্শনের দুই সৃজনশীল মন

Banglaprabah.com – ব র জ য় শ ল পক – মার্ক্সবাদ ও সমাজতন্ত্রে আস্থা রাখা আরেকজন ব্রিটিশ মনীষীর সঙ্গেও মিলে যায় জহির রহমানের বুর্জোয়া শিল্প নিয়ে ধরার অবস্থান। সেই মনীষী হলেন ক্রিস্টোফার কডওয়েল — লেখক, সাংবাদিক, বিপ্লবী। দুজনেই ছিলেন অত্যন্ত সৃজনশীল: রহমান একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি দুই হাতে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ লিখতেন; কডওয়েলও খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে কবিতা, নাটক, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ — সবকিছু লিখে ফেলেছিলেন।

‘বুর্জোয়ারা এই দুনিয়ায় অকল্পনীয় কদর্যময় শিল্পপণ্যের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে।’ — ক্রিস্টোফার কডওয়েল

রহমানের জীবন ছিল ৩৬ বছরের; কডওয়েল পেয়েছিলেন আরও কম — মাত্র ২৯ বছর। কডওয়েলের মৃত্যুর দুই বছর আগে জন্ম নেওয়া রহমান যুদ্ধোত্তর স্বাধীন দেশে পাকিস্তানপন্থী শত্রুর হাতে প্রাণ দেন, আর কডওয়েল লড়াই করতে করতেই প্রাণ উৎসর্গ করেন।

সিনেমার উদ্ভব ও শিল্প-স্বীকৃতির যাত্রা

যান্ত্রিক পুনরুৎপাদনের যুগেই চলচ্চিত্রের জন্ম ও বিস্তার ঘটে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে চলচ্চিত্র যখন প্রাথমিক অবস্থায় ছিল, তখন বহু বিবেকবান ব্যক্তি এটিকে শিল্পের কাতারে স্বীকার করতেন না, বা এর শিল্প-সম্ভাবনার সারমর্ম স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারতেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র পূর্ববর্তী শিল্পমাধ্যম থেকে উপাদান গ্রহণ করে নিজেই একটি নতুন, শক্তিশালী মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়। ত্রিমাত্রিক বাস্তবকে দ্বিমাত্রিক পর্দায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রেই পরিচালকেরা প্রাথমিক থেকেই শিল্পচেতনার ছাপ ফেলতে থাকেন, ফলে চলচ্চিত্র ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

‘শিল্পের সংশ্লেষের সবচেয়ে আধুনিক ধরন হলো সিনেমা’ — সার্গেই আইজেনস্টাইন

আইজেনস্টাইন ও রহমান: দ্বান্দ্বিক দর্শনের উত্তরাধিকার

রুশ চলচ্চিত্র পরিচালক ও তাত্ত্বিক সার্গেই আইজেনস্টাইন চলচ্চিত্রকে দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার ভেতর থেকেই পর্যবেক্ষণের পক্ষপাতী ছিলেন। তার মতে, সব দিক বিবেচনা করলে সিনেমা শুধু অগ্রগামী শিল্প নয়; কাল-পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমা যে ‘শ্রেষ্ঠ’, সেই ধারণা প্রতীতিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের গেরিলা পরিচালক জহির রহমানের চিন্তা-ধারাও এই আইজেনস্টাইন-দর্শনের অনুসারী ছিল। রহমানের চোখে আইজেনস্টাইন ছিলেন মহৎ এক শিল্পী।

১৯৬৭ সালে রচিত একটি প্রবন্ধে রহমান আইজেনস্টাইনের প্রশংসা করেছিলেন। প্রবন্ধটি সোভিয়েত ইউনিয়নের অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘তরঙ্গ’ নামের একটি স্মরণিকায় প্রকাশিত হয়।

‘সাহিত্যে যেমন তলস্তয়ের “War and Peace”, কাব্যের যেমন মিল্টনের “Paradise Lost and Paradise Regained”, পেইন্টিংয়ে যেমন দ্য ভিঞ্চির “Last Supper” তেমনি চলচ্চিত্রে আইজেনস্টাইনের “Battleship Potemkin” একটি ক্ল্যাসিক। একটি মহাকাব্য।’

বুর্জোয়া চলচ্চিত্র: মুনাফার অঙ্গন

আইজেনস্টাইনের মতে, আমেরিকান চলচ্চিত্র দেশটির জাতীয় মেজাজ ও জনসাধারণের মর্জি — উভয়কেই সমানভাবে ধরে রাখতে সক্ষম; অর্থাৎ মার্কিন পুঁজিবাদ নিজেদের সিনেমার ভেতরে সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়। রহমানও এই একই অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। বুর্জোয়া রাষ্ট্রের মূলমন্ত্র যেহেতু মুনাফা, সেহেতু বুর্জোয়া চলচ্চিত্রেরও লক্ষ্য সর্বদা মুনাফা-অর্জনের দিকেই নির্দেশিত।

‘বুর্জোয়া সিনেমার এক এবং একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে মুনাফা। সিনেমার আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে বুর্জোয়া শ্রেণি মানবসভ্যতার এই নতুন আবিষ্কারটিকে অর্থ উপার্জনের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে লাগল।… সস্তা চিত্তবিনোদনকারী, হাল্কা যৌন আবেদনময়, উগ্র অপরাধমূলক বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেল বুর্জোয়া সিনেমার অঙ্গনে।’

মার্কিন পরিচালক গ্রিফিথের প্রসঙ্গ তুলে রহমান মূলত হলিউডের বুর্জোয়া প্রকৃতির দিকেই আঙুল তুলেছিলেন।

‘ধনতন্ত্রের দেশ আমেরিকার শ্রেষ্ঠ পরিচালক ডি ডব্লিউ গ্রিফিথের [চলচ্চিত্র] অর্ধেক সত্য, অর্ধেক জীবন, অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক আর্ট তাই পরবর্তীকালে সমাজতন্ত্রের সন্তান, সোভিয়েত পরিচালক সার্জি আইজেনস্টাইন, পুদোভকীন আর ডোভজেঙ্কোর হাতে এসে [চলচ্চিত্র] সম্পূর্ণ সত্য, সম্পূর্ণ জীবন, সম্পূর্ণ মানুষ ও পরিপূর্ণ আর্টের মর্যাদা পেয়েছে।’

আইজেনস্টাইনের ১৯৪২-এর সমালোচনা ও সামরিক অর্থনীতির ছায়া

জন ফোর্ড ও ফ্র্যাঙ্ক কাপরাদের মতো মার্কিন পরিচালকদের প্রশংসা করলেও আইজেনস্টাইন, রহমানের প্রায় ২৫ বছর আগে ১৯৪২ সালে দেওয়া এক বক্তৃতায় মার্কিন চলচ্চিত্রের সমালোচনা করেছিলেন একই সুরে। তার অভিযোগ ছিল, আমেরিকান সিনেমায় প্রায় সব সময়ই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নৈতিকতার বালাই না রেখে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সহিংসতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাদের মেধা, শক্তি, নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা, সক্ষমতা ও কাজের প্রতি ভালোবাসা আছে ঠিকই, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জোগানো প্রপাগান্ডা চলচ্চিত্র বানানোকে আইজেনস্টাইন পছন্দ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সামরিক অস্ত্র-ব্যবসার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাই তাদের চলচ্চিত্রেও সেই প্রতিফলন অবশ্যই থাকবে। মার্কিন চলচ্চিত্রের উপাদান হিসেবে এই প্রতিফলন সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছিলেন আইজেনস্টাইন। হলিউডের মতো বুর্জোয়া কারখানা থেকে যেসব ছবি বেরোবে, তার অধিকাংশেই আগ্রাসন ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জন্মজার থাকবে, থাকবে মুনাফার প্রতি নজর। সেখানে শিল্পচর্চা গৌণ ব্যাপার; অর্থলগ্নি ও অর্থ উঠিয়ে আনাই মুখ্য।

শিল্প ও ইন্ডাস্ট্রির দ্বৈততা

এ ধরনের বুর্জোয়া চলচ্চিত্রের ঘোরবিরোধী ছিলেন রহমান। তার বিশ্বাস ছিল, বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থ

Frequently Asked Questions

What is ব র জ য় শ ল পক?

ব র জ য় শ ল পক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব র জ য় শ ল পক matter?

ব র জ য় শ ল পক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment