Uncategorized

এসএসসিতে যারা পাস করতে পারেনি, তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি : মোস্তাফিজুর রহমান

এসএসস ত য র প স করত - এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনের আনন্দে পরিবারকে জড়িয়ে

Desk Uncategorized
Published August 13, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
WhatsApp-Image-2026-08-10-at-8.51.12-PM-1
Foto : William Jones - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা শুধু তাদের দোষ নয়: মোস্তাফিজুর রহমানের বিশ্লেষণ
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা শুধু তাদের দোষ নয়: মোস্তাফিজুর রহমানের বিশ্লেষণ

Banglaprabah.com – এসএসস ত য র প স করত – এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনের আনন্দে পরিবারকে জড়িয়ে ধরেছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করেছেন। কিন্তু এই উৎসবের অন্য পাশে একজন কিশোর বা কিশোরী ঘরের কোণে বসে আছে—চোখে জল, মনে অসংখ্য প্রশ্ন। পরিবার কী বলবে, বন্ধুরা কী ভাববে, সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে—এই চিন্তায় তারা বিভোর।

পাসের হার কমেছে, কিন্তু কারণ কী?

প্রায় দশ বছর ধরে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পর এবার অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৬৪.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা মিলিয়ে মোট পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আরও চিন্তার বিষয় হলো, তিন ধারার পরীক্ষায় ৩১২টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

শিক্ষার্থীদেরকে শুধু ‘ফেল করা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আমরা কি এগিয়ে যেতে পারি? একটি শিশু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে এসএসসি পর্যন্ত প্রায় এক দশক আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে থাকে। এই সময়ে তাকে শেখানোর দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের। রাষ্ট্রের দায়িত্ব উপযুক্ত শিক্ষক, পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ নিশ্চিত করা। পরিবারের দায়িত্ব তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং শেখার পরিবেশ তৈরি করা। তাহলে ১০ বছর পর যদি সেই শিশু কাঙ্ক্ষিত শিখনদক্ষতা অর্জন করতে না পারে, তার ব্যর্থতা একা তার কি করে?

শিক্ষকদের জবাবদিহি ও সমালোচনা

এবারের ফলাফলে ইংরেজি ও গণিতের দুর্বলতা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। কিন্তু এই দুর্বলতা কি দশম শ্রেণিতে হঠাৎ তৈরি হয়েছে? একটি শিশু যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ঠিকমতো পড়তে, বুঝতে বা মৌলিক গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে না শেখে, তাহলে নবম-দশম শ্রেণিতে এসে কয়েক মাসের পরীক্ষার প্রস্তুতি দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন।

শিক্ষকের জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু শিক্ষকদের শুধু কাঠগড়ায় দাঁড় করালেই কি আমাদের দায়িত্ব শেষ?

আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকে মানসম্মত শিক্ষা চাই। কিন্তু তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, একাডেমিক সহায়তা, সামাজিক মর্যাদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পেশাগত প্রণোদনা কতটা দিতে পেরেছি? শিক্ষকসংকট, পাঠদানের ধারাবাহিকতা, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, দীর্ঘদিনের শিখনঘাটতি, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ—সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাব অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ও মূল্যায়ন

বিশেষভাবে অনুসন্ধান প্রয়োজন সেই ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে, যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। একটি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে সেটি শুধু পরীক্ষার্থীর ব্যর্থতা হতে পারে না। সেখানে শিক্ষক ছিলেন কি না, নিয়মিত পাঠদান হয়েছে কি না, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল কি না, প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি কী করেছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদারকি কেমন ছিল—প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার। প্রমাণ ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ করা ঠিক হবে না। কিন্তু আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যাকে শিক্ষার সাফল্যের প্রধান সূচক হিসেবে তুলে ধরার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। কতজন সত্যিকার অর্থে শিখল, তার চেয়ে কতজন পাস করল—সেটিই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এবার পাসের হার কমেছে বলেই মূল্যায়ন শতভাগ সঠিক হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না। প্রয়োজন বিষয়ভিত্তিক, বোর্ডভিত্তিক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলের গভীর বিশ্লেষণ।

সমাধানের পথে

প্রশ্নপত্রের কঠিনতার মাত্রা, পাঠ্যক্রমের সঙ্গে প্রশ্নের সামঞ্জস্য এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে ধারাবাহিকতা ছিল কি না, সেটিও দেখতে হবে। সঠিক মূল্যায়ন মানে বেশি নম্বর দেওয়া নয়, আবার কঠোরভাবে নম্বর কেটে নেওয়াও নয়। একজন শিক্ষার্থী সত্যিকার অর্থে যতটুকু শিখেছে, তার যথাযথ প্রতিফলনই সঠিক মূল্যায়ন। এখন প্রয়োজন দোষী খোঁজা নয়, সমাধান খোঁজা।

সরকারের উচিত দ্রুত একটি বিস্তারিত ‘পোস্ট-রেজাল্ট অ্যানালাইসিস’ করা। কোন বিষয়ে, কোন অঞ্চলে এবং কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। ইংরেজি ও গণিতসহ দুর্বল বিষয়গুলোতে বিশেষ সহায়ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, একাডেমিক সহায়তা ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

একাদশে ভর্তিতে এবারও পরীক্ষা নেই, আবেদন ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে এখন সবচেয়ে জরুরি তাদের পাশে দাঁড়ানো, যারা পাস করতে পারেনি। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ—আজ সন্তানকে বকবেন না, অপমান করবেন না, পাশের বাড়ির সন্তান কিংবা তার বন্ধুর সঙ্গে তুলনা করবেন না। একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে একটি মানুষের সামর্থ্য কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় না। তার পাশে বসুন। তার কথা শুনুন। তাকে বলুন—

Frequently Asked Questions

What is এসএসস ত য র প স করত?

এসএসস ত য র প স করত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does এসএসস ত য র প স করত matter?

এসএসস ত য র প স করত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment