বাংলাদেশ কি তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে অজান্তেই হারিয়ে ফেলছে
ব ল দ শ ক ত র – বাংলাদেশ এখন এমন এক স্থায়ী বিপর্যয়ে পৌঁছেছে, যেখানে উন্নয়নের প্রচলিত সূচকগুলো আর ভবিষ্যতের সাফল্য নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। প্রাথমিক অর্থনৈতিক উন্নতির প্রকাশ হয়েছে, দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনে ডিজিটাল প্রযুক্তি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তার ভিত্তিতে দেখা হয় না; বরং একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক জাতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এই সাফল্যের আড়ালে একটি গূঢ় সংকট গড়ে উঠছে, যা আজকের আর্থিক বৃদ্ধির মাধ্যমে বোঝা যায় না। এটি এমন একটি ক্ষতি যার প্রভাব তাত্ক্ষণিকভাবে প্রকট হয় না, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে জাতির গবেষণাযুক্ত ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে। এই সংকটের নাম—মেধা পাচার।
মেধা পাচারের ক্ষতি কখনো তাত্ক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। একজন গবেষক বিদেশে চলে গেলে তার পরদিন কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে যায় না। একজন বিজ্ঞানী অন্য দেশে স্থায়ী হলে সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতি ধসে পড়ে না। কিন্তু ১০ বছর পরে দেখা যায়, যে প্রযুক্তি আমরা আজ কোটি কোটি টাকা দিয়ে আমদানি করছি, সেটি হয়তো এমন একজন বাংলাদেশির গবেষণার ফল, যিনি নিজের দেশে সেই গবেষণা করার সুযোগ পাননি।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ, গবেষকের সংখ্যা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা নির্ধারণের অন্যতম প্রধান সূচক।
বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি সব সময়ই ছিল মানুষ। তৈরি পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে ওষুধশিল্প, কৃষি বা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে মানুষের দক্ষতা ও শ্রম দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু একটি অর্থনীতি যখন নিম্ন আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের দিকে অগ্রসর হয়, তখন উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে জ্ঞান, গবেষণা এবং প্রযুক্তি।
বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসও এ কথাই বলে। আজ যে দেশগুলো প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারা কয়েক দশক আগে থেকেই গবেষণার জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জিনপ্রযুক্তি বা সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে এই দেশগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে। আজ বাংলাদেশ কি সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য নিজস্ব গবেষক, উদ্ভাবক এবং প্�
