ফরিদুর রহমান: রাজশাহীর বেতশিল্পের গোপন ইতিহাস
৭০ বছর ধর র জশ হ র – সেখানে রাজশাহী শহরের শেখপাড়ায় বেতপট্টি শিল্পের সূত্রপাত হয়েছিল। আগে সিলেট থেকে একটি গ্রুপ বেতশিল্প তৈরি করতে আসে। নগরের কারিগর ও ক্রেতাদের কোলাহলে মুখর হয়ে থাকত সমগ্র এলাকা। কিন্তু এখন সে কোলাহল নীরব হয়ে গেছে। এই শিল্পের জীবন্ত ইতিহাস হয়ে রয়েছেন ফরিদুর রহমান। তিনি রাজশাহীতে প্রায় সাত দশক ধরে এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করে চলছেন।
ফরিদুরের পরিবার সিলেটের কাজীবাজার এলাকায় ছিল। নগরের কেন্দ্রে এক জমির বর্তমান মূল্য এক থেকে দুই কোটি টাকা হতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন। কিন্তু দীর্ঘ বছরে রাজশাহীতে বসবাসের সুযোগে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের জমিজমা দখল করে নেন। ফরিদুর রহমানের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য সে যাত্রা বিলাসিতা হয়ে গেছে।
শেখপাড়ায় অবস্থান থেকে বেতশিল্পে জীবনের অংশ
তিনি নিজের জীবনের প্রায় সম্পূর্ণ সময় রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। শহরের মাটিতে সংসার ও ব্যবসার সূত্রপাত করেছেন। বেতপট্টি এলাকায় মাত্র তিনটি দোকান টিকে আছে। এর মধ্যে একটি ফরিদুরের অধিকার। দোকানে ছড়িয়ে আছে কাঁচামাল হিসেবে বাঁশ ও কাঠি। পেছনে ঝুলছে সুন্দর বাঁশের দোলনা ও চেয়ার। সেগুলো এই শিল্পের বৈচিত্র্য প্রমাণ করে।
ফরিদুর রহমানের শিল্প বাড়িতে রাজশাহীতে আসার পর তাঁর শিক্ষা শুরু হয়। দেশের বাড়িতে এই কাজ শিখেছিলেন। তাঁর প্রাথমিক পরিশ্রমের ফলে ব্যবসা গড়ে ওঠে। আগে তাঁর দোকানগুলো ছিল প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু এখন তাঁর পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব নেই।
ফরিদুর রহমান বলেন, ‘এখন মামলা-মোকদ্দমা করেও আর কিছু হবে না। এত বছর পরে কাগজপত্র ও সাক্ষী নাই। যা একটু দুই আনা পাইছি, তাই নিয়াই ফিরে আইছি।’
দুই নারী ক্রেতারা দোকানে ঢুকে নতুন ঝুড়ি কিনতে চান। তাঁদের আগের মতোই ২০০ টাকার জন্য ঝুড়িটি চান। ফরিদুর বোঝানোর চেষ্টা করেন যে পুরোনো ঝুড়ি প্রায় শেষ হওয়ার পর দাম কম হয়। কিন্তু নতুন নকশা তৈরি করতে হলে কারিগরকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়। তাই দাম কিছুটা বৃদ্ধি পায়। কিছুক্ষণ দর কষাকষির পর ক্রেতারা আরও ৫০ টাকা বাড়িয়ে দিতে রাজি হন।
নতুন নকশার ছবি দেখে আসেন আরও দুই তরুণী। তাঁরা জানতে চান এই নকশা প্রস্তুত করা সম্ভব কি। ফরিদুর ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকেন। তারপর মৃদু হেসে মাথা নাড়তে নাড়তে বলেন, ‘বয়স হইছে। এখন আর ওই কাজ করার শক্তি নাই।’
ফরিদুর বেতশিল্পে সবচেয়ে অভিজ্ঞ কারিগর হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তাঁর বয়স এবং অসুস্থতা নতুন কিছু শুরু করার সাহস দেয় না। আগে যাঁর হাতে নতুন ডিজাইন ও উপকরণের বেতশিল্প সূচনা হয
