Uncategorized

ডিসির কাছে মানুষ যায় অভিযোগ নিয়ে, সাদিয়া যেত পড়া নিয়ে

ড স র ক ছ ম ন - গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এসএসসি ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সাদিয়া আফরিন। দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর সরকারপাড়া এলাকার স্থানীয়

Desk Uncategorized
Published August 17, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
DINAJPUR-Gpa-1
Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. জেপিএ-৫-এর পেছনে এক বছরের বুধবারের যাত্রা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

জেপিএ-৫-এর পেছনে এক বছরের বুধবারের যাত্রা

Banglaprabah.com – ড স র ক ছ ম ন – গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এসএসসি ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সাদিয়া আফরিন। দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর সরকারপাড়া এলাকার স্থানীয় কাদের বক্স মেমোরিয়াল হাই স্কুল থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৪৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২২ জন। সেই ২২ জনের ভেতর জিপিএ-৫-র মালিক একমাত্র সাদিয়া আফরিন।

দুই শতক জমির ওপর টিনের ছাপরা

গত শনিবার (১৫ আগস্ট) মাসিমপুর সরকারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সাদিয়ার পরিবারের বাসস্থান পৌঁছাতে হয় অন্যের লিচুবাগানের ভেতর দিয়ে সরু পথ পার করে। আলাদা সড়ক নেই ঘরটার। দুই শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে টিনের ছাপরা। ভেতরে বেড়া দিয়ে দুই ভাগ করা। এক দিকে মা-বাবা আর ছোট বোনের ঘুমানোর জায়গা; অন্য দিকে সাদিয়া ও বড় বোনের। পাশেই ছোট্ট রান্নাঘর, যার টিনের চালে লকলকে লতার ফাঁকে ঝুলছে চালকুমড়া। আলমিরা-এর ওপরে সাজানো বইপত্র।

ঘরে পড়ার টেবিল নেই। বিছানার ওপর কিংবা মায়ের সেলাই মেশিনের উপর বই রেখে পড়তে হয় সাদিয়াকে। বাবা মো. সেলিম একজন চালকল শ্রমিক। মা আরফা বেগম গৃহকর্মের ফাঁকে বাজারে সেলাইয়ের কাজ করেন। সেলিম-আরফা দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে সাদিয়া বড়।

আবেদন থেকে সাপ্তাহিক রুটিন

সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে মেয়েদের পাঠশালার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছিল দম্পতির। গত বছর জুলাইয়ে মেয়ের পাঠশালার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন আরফা বেগম। সাড়া দিলেও তাৎক্ষণিক অর্থ সহায়তা করেননি ডিসি। বরং সাদিয়াকে ডেকে নিয়ে এক সপ্তাহের বাইরের কাজ (হোমওয়ার্ক) দেন, পাশাপাশি প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন ঠিক করে দেন। পরের সপ্তাহে এসে সেই কাজ বুঝিয়ে দিতে বলেন।

নির্ধারিত কাজ শেষ করে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয় সাদিয়া। জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম কাজ বুঝে নিয়ে আবার পরের সপ্তাহের কাজ ঠিক করে দেন। এই চক্র সপ্তাহ থেকে মাস, মাস থেকে এক পূর্ণ বছর পেরিয়ে যায়।

প্রথম দেখার দিনেই ডিসি আর্থিক সহায়তা করেননি; বরং সাত দিনের বাইরের কাজ ঠিক করে প্রতি বুধবার গণশুনানির দিন সকালে কার্যালয়ে এসে কাজ দিতে বলেন। প্রতিদিনের রুটিনও নির্ধারণ করেন: রাতে দুই ঘণ্টা, ভোরে দুই ঘণ্টা পড়াশোনা; রাত ১০টায় ঘুম, ভোর ৫টায় জাগা; বিকেলে এক ঘণ্টা খেলা। ক্লাস হোক বা না হোক, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাবেন। রুটিন অনুসরণ করলে চার মাস পর আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। যদিও পরের মাসেই সাদিয়াকে দেওয়া হয় সাত হাজার টাকা।

বুধবারের গণশুনানির ফাঁকে

সপ্তাহের সাত দিনের কাজ নিয়ে সে হাজির হতো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। মানুষের নানা অভিযোগ নেওয়া গণশুনানির ফাঁকে কাজ দিত, ভুল হলে সংশোধন করত, নতুন কাজ নিয়ে বাসি ফিরত। যেন সাদিয়ার দ্বিতীয় পাঠশালা হয়ে ওঠে ডিসির কার্যালয়।

প্রথম দিকে ভয় পেতাম স্যারের কাছে পড়া দিতে; কিন্তু পড়াগুলো নিয়মিত করতাম। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্যার অনেক সাহস দিয়েছেন।

— সাদিয়া আফরিন, শিক্ষার্থী

পরিবারের আনন্দ ও বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি

ফলাফল প্রকাশের পর সেলিম-আরফা দম্পতির ঘরে আনন্দে ভরে ওঠে। এরপর গত বৃহস্পতিবার পরিবারটি ছুটে যায় জেলা প্রশাসকের কাছে। ডিসি সাদিয়াকে অভিনন্দন জানান, মিষ্টিমুখও করান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকসেদ আলী সাদিয়ার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, একমাত্র সাদিয়া আফরিন স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেলা প্রশাসক স্যার প্রায় সময়ই স্কুলে আসেন, ক্লাসও নেন। সাদিয়াকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন, পড়াতেন। তাঁর ভালো ফলের জন্য তারা আনন্দিত।

মেয়ের বই কেনার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে ডিসি স্যারের কাছে আবেদন করেছিলাম। স্যার আমাদের সহযোগিতা করেছেন। শুধু অর্থ দিচ্ছেন না, মেয়েকে নিয়মিত পড়া দিচ্ছেন, পড়া নিচ্ছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন। আজকে মেয়েটা ভালো রেজাল্ট করেছে!

— আরফা বেগম, সাদিয়ার মা

জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি

প্রথম দিন কথা বলে বুঝেছিলাম, ওর মধ্যে বেশ আগ্রহ আছে। তারপর ওকে একটা চ্যালেঞ্জ দিলাম। ও সত্যি সত্যি রুটিন মেনে হোমওয়ার্কগুলো করেছে।

— জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দিনাজপুরের বেশ কিছু স্কুল ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসন থেকে কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। এমন হাজারো সাদিয়া চারপাশে রয়েছে, যারা লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ-কলম পায় না।

ভবিষ্যৎ: সরকারি চাকরি ও পরিবারের হাল

পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করতে চায় সাদিয়া আফরিন। মা-বাবার অভাবের সংসারের হাল ধরতে চায়।

Frequently Asked Questions

What is ড স র ক ছ ম ন?

ড স র ক ছ ম ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ড স র ক ছ ম ন matter?

ড স র ক ছ ম ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment