Uncategorized

জ্বালানি তেলের সংকট নেই, গ্যাসের সংকটও মিটে যাচ্ছে: মন্ত্রণালয়

জ ব ল ন ত ল র - জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো অভাব নেই। তারা বলছে, এই বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়ানো

Desk Uncategorized
Published July 22, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Charles Hernandez - banglaprabah.com

জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত বিবরণ

Banglaprabah.com – জ ব ল ন ত ল র – জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো অভাব নেই। তারা বলছে, এই বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে। সংবাদমাধ্যমগুলোকে সঠিক তথ্য প্রচার করতে অনুরোধ জানান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ৩১ দিনের জন্য। এছাড়াও ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২৫ দিনের ফার্নেস ওয়েল এবং ২০ দিনের জেট ফুয়েল সঞ্চয় করা আছে। মনির হোসেন জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই মজুত বেশি। তিনি বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হবে। আগামী আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল আসবে।

আগামী ৪৮ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না।

গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সমস্যা

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তেলের সংকট না থাকলেও গ্যাসের সমস্যা স্বীকার করেছে। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে। এর প্রভাবে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহে চাপ কমেছে। কোথাও কোথাও সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

মনির হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন, এটি একটি সাময়িক সমস্যা। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, দুটি এফএসআরইউর একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কিছু সিএনজি স্টেশন প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছে না এবং কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে।

গ্যাস চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান

দেশে গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের সমস্যা। সরকার চেষ্টা করছে এই ঘাটতি কমাতে।

পূর্ববর্তী সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে সারা বিশ্বে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠা বাংলাদেশেও সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আবার তেমন সংকটের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়।

যুগ্ম সচিব জানান, পরিবহনে এই সংকট শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ, জ্বালানি তেল সরবরাহে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, দু–একটি মিডিয়ায় লক্ষ করা যাচ্ছে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জনগণকে জানানো উচিত। অনেক সময় গুজব পীড়াদায়ক হয়। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জরুরি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অতীতে দেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ যথেষ্ট না হওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়ছে।

এই নির্ভরতা কমাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। মনির হোসেন বলেন, এর অংশ হিসেবে পর্যায়ে পর্যায়ে ১০০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ অনুষ্ঠিত একনেক সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকার ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি নতুন কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

Leave a Comment