Uncategorized

আগেই ফিরছেন স্পিকার, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন বিকেলে বা কাল

আগ ই ফ রছ ন স প - বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন। আজ শুক্রবার বিকেল বা আগামীকাল শনিবার এই পদত্যাগ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

Desk Uncategorized
Published July 24, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা বাড়ল, স্পিকারের আগমনে গতি পেল আলোচনা

Banglaprabah.com – আগ ই ফ রছ ন স প – বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন। আজ শুক্রবার বিকেল বা আগামীকাল শনিবার এই পদত্যাগ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে তিনি এই প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা

চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংককে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফিরছেন। গতকাল সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, তিনি ১৯ জুলাই ব্যাংককে গিয়েছিলেন এবং সফরসূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই রোববার ফিরবেন বলে ছিল। কিন্তু আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় ফিরছেন।

স্পিকারের এই আগমন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুসারে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।

রয়টার্সের প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল রাত ১০টা ২৩ মিনিটে একটি খবরে উল্লেখ করেছে যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করবেন। তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলোর কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

গতকাল দিনভর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর বিভিন্ন মহলে আলোচিত ছিল। বিএনপির নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সে অনুযায়ী তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।

সংবিধানের বিধান ও উত্তরসূরি নির্বাচন

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার কথা।

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে অত্যন্ত সন্তর্পণে প্রস্তুতি চলছে।

রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও আলোচনা

গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব তৎপরতার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

স্পিকার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য শুক্রবার পর্যন্ত তাঁর সময় দরকার বলে জানানো হয়েছে—এমন কথাও সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনায় রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের ব্যাপারে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম ঘুরে বেড়ালেও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। গত দুই দিনে এই প্রতিবেদক বিএনপির অন্তত পাঁচজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

Leave a Comment