Uncategorized

নতুন কুঁড়িতে স্বপ্নপূরণের একদিন…

নত ন ক ড় ত স বপ - মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে মিনিটখানেক সময় কাটিয়েও সাদিয়া আফরিনের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো শুধু একটি কথা—'আমার কান্না পাচ্ছে...!'

Desk Uncategorized
Published July 24, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

স্বপ্নের ক্রিকেট মাঠে নতুন কুঁড়ির জয়যাত্রা

Banglaprabah.com – নত ন ক ড় ত স বপ – মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে মিনিটখানেক সময় কাটিয়েও সাদিয়া আফরিনের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো শুধু একটি কথা—’আমার কান্না পাচ্ছে…!’ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিয়ে মঞ্চে দাঁড়ানো অবস্থায় তার কণ্ঠ ভারী হয়ে উঠেছিল। আধঘণ্টা পর এই আবেগের কারণ জানতে চাইলে লাজুক হাসি দিয়ে উত্তর দিলেন তিনি, ‘এমন একটা জায়গায় দাঁড়াব, তা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি।’ ছোটবেলা থেকেই বাঁয়ের পাশে ছেলেদের সাথে টেপ টেনিস খেলায় শুরু হয়েছিল তার ক্রিকেট যাত্রা। তবে বাংলাদেশে মেয়েরাও ক্রিকেট খেলে এবং তাদের জন্য জাতীয় দল আছে—এই তথ্যটি ময়মনসিংহের বিদ্যাগঞ্জের এই মেয়েটি জানতে পেরেছিল প্রায় চার বছর আগে।

স্থানীয় একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করার পর প্রতিদিনই পরিচিত মানুষজন তাকে খোঁচা দিয়ে বলত, ‘এত খেলে কী লাভ? তোকে তো কখনো টিভিতে দেখা যায় না!’ মাথা নিচু করে সাদিয়া তখন শুধু বলত, ‘যাবে একদিন…’। সদ্য তেরো বছরে পা দেওয়া সাদিয়াকে এখন আর এমন প্রশ্ন শুনতে হয় না। ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রিকেটের ফাইনালে এসে তার অধরা স্বপ্নটা অবশেষে পূরণ হয়েছে। আনন্দের দ্যুতি ছড়িয়ে সাদিয়া বলল, ‘আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত এটি! শান্ত ভাইয়ের কাছ থেকে মেডেল এবং জ্যোতি (নিগার সুলতানা) আপুর হাত থেকে টুর্নামেন্ট–সেরার পুরস্কার নিতে পেরেছি।’

ফাইনালে হারলেও গর্বের মুহূর্ত

সাদিয়ার আলো ছড়ানো পারফরম্যান্সের পরেও নতুন কুঁড়ির ফাইনালে শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে তার দল। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৫ ওভারের ম্যাচে ঢাকা জেলার কাছে ১৯ রানে হেরেছে ময়মনসিংহের মেয়েরা। অন্যদিকে ছেলেদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী, তারাও রংপুরকে ১৯ রানেই হারিয়েছে। ফাইনাল ম্যাচে ২৬ বলে দুর্দান্ত ৭৪ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছে সারাফাত সাদিদ।

পাঁচ বছর আগে মামার হাত ধরে রাজশাহীর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিল সে। সেখান থেকেই উঠে এসে আজ জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁকে দেখেই বড় হওয়া সাদিদের গলায় উচ্ছ্বাস, ‘শান্ত ভাই একাডেমিতে এলে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন, দারুণ সব অনুপ্রেরণাদায়ক কথা বলেন।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাজমুলই সাদিদের আদর্শ। যাঁকে সামনে রেখে পথচলা, সেই নাজমুলের হাত থেকেই গতকাল ট্রফি নেওয়া, সাদিদের চোখেমুখে কী যে আনন্দ!

শামীমের স্বপ্নও পূরণ হলো

সাদিদের দলেরই আরেক উদীয়মান ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামীম পেয়েছে ছেলেদের টুর্নামেন্ট–সেরার পুরস্কার। তার বোলিং অ্যাকশন হুবহু ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা সুনীল নারাইনের মতো। নারাইনকে দেখেই নাকি ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিল শামীম। সেই স্বপ্নই গতকাল তাকে নিয়ে এসেছে স্বপ্নের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের সামনেই ছোটদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল আলাদা ড্রেসিংরুমের। তবে শামীমের স্বপ্ন একদিন মূল ড্রেসিংরুমেই খেলোয়াড় হিসেবে ঢোকার, ‘একদিন ঠিকই জাতীয় দলে খেলব…’।

অস্ট্রেলিয়ার দল দেখে নাজমুল বললেন, ‘এটা আমাদের অর্জন’

Leave a Comment