জুলাইয়ের লড়াই এখনো চলছে
Banglaprabah.com – জ ল ইয় র লড় ই এখন – জুলাই 24 তারিখের স্মৃতি বলতে গেলে আমার মনে পড়ে এক বৃদ্ধ রিকশাচালকের কথা আগে থেকেই বাজে আসে। বৃদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন মালিবাগে রাস্তায় অবতরণ করেছিলেন সেদিন সকালে। আগের দিন প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং দুই রিকশাচালক নিহত হয়েছিলেন। সেই প্রতিবাদের সময় তিনি আমাদের সাথে যোগ দেন।
পুলিশের গুলি শুরু হলে আমরা একটি গলিতে আশ্রয় নিই। গলির মুখে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ লোকটি অন্যদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, ‘চাচা, ভিতরে চলে আসেন। গুলি লাগবে।’ বৃদ্ধ বললেন, ‘গুলি লাগলে ভালো। কালকে থেকে আর বাড়িতে বিকাশ করতে হবে না।’
গুলি লাগলে ভালো। কালকে থেকে আর বাড়িতে বিকাশ করতে হবে না।
সেই রাতে কারফিউ জারি হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার ছোট ভাইয়ের বন্ধু প্রিয়র মরদেহ খুঁজছিলাম। মিছিল যখন পুলিশের সব বাধা পেরিয়ে শহীদ মিনারে পৌঁছাল, তখন উপলব্ধি করেছিলাম শেখ হাসিনার পতন শুধু সময়ের ব্যাপার। মানুষ সেটাই ঘটিয়ে ছাড়ল।
ক্ষমতার পরিবর্তন
সরকার পতনের পর নতুন রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য কীভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নাগরিকের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হবে সে প্রশ্নের উত্তর ছিল না। রাজনৈতিক শূন্যতা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। হয় গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে, নয়তো উগ্রতা তার জায়গা করে নেবে।
দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য যে রকম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের দরকার ছিল, তা ছিল না।
প্রতিশোধের রাজনীতি
এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে সেই শূন্যস্থান অন্য কেউ পূরণ করে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি সেই সুযোগে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিশোধের সংস্কৃতি।
প্রতিশোধ তো কখনো ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়

