শিউলিগাছ
শ উল গ ছ - সকালবেলায় উঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ফুল তুলছিলেন অনিরুদ্ধ সেন। সীমানাপ্রাচীরের পাশে দাঁড়ানো শিউলিগাছের নিচে সাদা ফুল ছড়িয়ে আছে। দূর থেকে মনে হয়
Table of Contents
শিউলিগাছের গল্প: এক স্কুলমাস্টারের স্মৃতি ও ফুলের চুরি
Banglaprabah.com – শ উল গ ছ – সকালবেলায় উঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ফুল তুলছিলেন অনিরুদ্ধ সেন। সীমানাপ্রাচীরের পাশে দাঁড়ানো শিউলিগাছের নিচে সাদা ফুল ছড়িয়ে আছে। দূর থেকে মনে হয়, কেউ মাটির ওপর ছোট ছোট প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে। প্রতিদিনই তিনি এই কাজটি করেন। এমন সময় একটি কিশোরীর কণ্ঠ শুনতে পেলেন। পেছনে দাঁড়ানো মেয়েটির দিকে তাকালেন। চশমা ঠিক করলেন। বয়স যখন ছাড়িয়ে গেছে ষাট, তখন চশমা ছাড়া কাছের জিনিসও স্পষ্ট দেখা যায় না। মেয়েটির বয়স ১৪-১৫ হবে। শ্যামলা, রোগা পাতলা, ছিপছিপে তরুণী। এই বয়সী মেয়েদের সাধারণত মায়া কাঁচা চেহারা থাকে। এই মেয়েটিকে দেখে আরও মায়া লাগছে। চোখের কারণেই কি এমনটা মনে হচ্ছে? তিনি তার চোখ লক্ষ করলেন। চোখে কাজল দেওয়া নেই। তাহলে এই মায়া লাগার উৎস কী?
ফুলের চুরির রহস্য উন্মোচন
জবাবে তিনি বললেন, ‘হুঁ। তুমি ভালো আছ?’ মেয়েটি হাসিমুখে উত্তর দিল, ‘জি, আমরা ওই ফ্ল্যাটে উঠেছি।’ বলে পাশের বাড়ির দোতলার দিকে ইশারা করল। আগের ভাড়াটে দীর্ঘদিন থাকার পর গত মাসেই বাড়ি ছেড়েছে। এরাই তো তাঁর নতুন প্রতিবেশী? অনিরুদ্ধ সেন বললেন, ‘ও আচ্ছা।’ এবার মেয়েটি বেশ ইতস্তত করে বলল, ‘কাকু আপনাকে একটা কথা বলার ছিল।’ ফুল তুলতে তুলতে তিনি বললেন, ‘বলো।’ মেয়েটি লজ্জায় রক্তিম হয়ে বলল, ‘আমি প্রতিদিন সকালে আপনার এই গাছের ফুল চুরি করি।’ মেয়েটির লজ্জা পাওয়া দেখে অনিরুদ্ধ হেসে বললেন, ‘আমি জানি কে আমার ফুল চোর!’ মেয়েটির লজ্জা বিস্ময়ে পাল্টে গেল। ‘কীভাবে?’ ‘ফুল কমে যাওয়া, তাই।’ বলেই তিনি হাসলেন। মেয়েটির মন থেকে অপরাধবোধ কাটানো দরকার। তাঁর হাসিতে কাজ হলো। সেও হেসে ফেলল। তারপরই হাসি সামলে বলল, ‘আপনি রাগ করেননি তো?’
অনিরুদ্ধ সেনের ফুল তোলা শেষ। তিনি উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, ‘ফুল যদি নিজের জন্যই ফুটত, তাহলে তো সে ফুল হতো না।’ বলেই তিনি তাঁর ঝুড়িভর্তি ফুল মেয়েটির দিকে এগিয়ে দিলেন। ‘এই নাও। আজকে আর ফুল চুরি করতে হবে না। আজকে আমি তোমাকে উপহার দিলাম।’ ‘আমি ঐশী।’ ‘আমি অনিরুদ্ধ।’ ‘আপনাকে সবাই চেনে।’ তিনি হালকা হেসে বললেন, ‘আমি কাউকে খুব একটা চিনি না।’ কথাটা বলে নিজেই চুপ হয়ে গেলেন। সত্যিই তো। মাধবী চলে যাওয়ার পর তাঁর পৃথিবীটা ধীরে ধীরে ছোট হতে হতে এখন এই বাড়ির চারদেয়ালে এসে থেমেছে।
মাধবী তাঁর স্ত্রী। আট বছর হয়েছে যে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে। সে বেঁচে থাকতে খুব মিশুক স্বভাবের ছিল। পাড়ার প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এমন কেউ ছিল না—যার সাথে সে যোগাযোগ রক্ষা করে চলত না। খুবই সাধারণ মেয়ে ছিল। দেখতে সাধারণ, গান গাইত বেসুরো গলায়, নাচতে পারত না। রান্নাবান্নাও যে খুব ভালো পারত এমনও না। কিন্তু যার সাথেই সে কথা বলত, সেই মনে করত যেন কত দিনের চেনা! মানুষদের এতটাই আপন করে নিতে পারত। অনিরুদ্ধ সেন ঠিক তাঁর বিপরীত স্বভাবের। নিতান্তই অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয় না হলে তিনি সেভাবে কথা বলেন না। আড়ষ্ট বোধ করেন।
গোটা জীবন স্কুলে মাস্টারি করেছেন। ছেলেমেয়েদের গণিত শেখাতেন। তাঁর জীবনের সমীকরণ সব সময় না মিললেও স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে গণিতের সমীকরণ ঠিকই মেলাতেন। মাস্টারি ছাড়া তাঁর আরেকটা শখ লেখালেখির। পত্রপত্রিকার সাহিত্য পাতায় মাঝে মাঝে গল্প কবিতা লিখে পাঠাতেন। কয়েকটা বইও প্রকাশ হয়েছে। বইগুলো সেভাবে বিক্রি হয়নি, কাজেই সেগুলো অতি উচ্চমার্গের না অতি অখাদ্য সাহিত্যকর্ম সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। প্রতি বিকেলে প্রাইভেট কোচিং করাতেন। এই বাড়িটা যেখানে তিনি থাকেন, তাঁর অতি কষ্টের টাকা এবং মাধবীর স্বপ্নে একটার পর একটা ইট জুড়ে গড়ে তোলা।
এই যে শিউলিগাছটি, সেটিও মাধবীরই বোনা। এই বাড়িতে ওঠার প্রথম দিন স্মরণীয় করে রাখতেই সামনের উঠানের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে ছোট্ট চারাগাছটি লাগিয়েছিল সে।
এরপর কতগুলো বছর কেটে গেছে। কত গাছ লাগানো হয়েছে। কিন্তু এই গাছটির আলাদা বিশেষত্ব আজও রয়ে গেছে। তিনি গাছটিকে ‘মাধবী’ বলেই ডাকেন। মানুষের দৃষ্টির আড়ালে গাছটির সাথে মাঝে মাঝে আলাপসালাপও করেন। মাধবীর প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল গাছপালা ও ফুলের প্রতি। বেঁচে থাকতে গোটা বাড়িকেই সে বাগানে পাল্টে ফেলেছিল। এমন না যে তিনি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাড়ি বানিয়েছেন। সামান্য কয়েক কাঠা জমির ওপর একতলা বাড়ি। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সামর্থ্য একজন স্কুলমাস্টারের থাকে না। ফাঁকা জায়গা বলতে গেলে প্রায় নেইই। কিন্তু সেই জায়গাটুকুও এমনকি ছাদও সে গাছগাছালিতে ভরে ফেলেছিল। সেগুলোর যত্ন নিতে নিতেই তাঁর সময় পেরিয়ে যেত।
মাঝে মাঝে অনিরুদ্ধ খুব বিরক্ত হতেন। বাড়িতে এত গাছ থাকলে সাপ, বিচ্ছু, পোকামাকড় ইত্যাদি আসার সম্ভাবনা বাড়ে। তিনি সেটা মুখ ফুটে বলতেই মাধবী বেশ ফিল্মি কাঁদায় বলেছিল, ‘ইট–পাথরে বাড়ি বানানো যায় মিস্টার সেন, কিন্তু সেখানে সবুজ পাতা এবং ফুল না থাকলে সেই বাড়িতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা পায় না!’ কথাটা কতটুকু সত্য কে জানে! তবে আট বছর ধরে অনিরুদ্ধ বুঝেছেন, বাড়ির গৃহিণী যদি বাড়িতে না থাকে, তাহলে সেই বাড়ি শ্মশান হয়ে যায়।
অনিরুদ্ধ সেনের দুই মেয়ে। মালতি ও মাধুরী। দুই মেয়েই প্রতিষ্ঠিত। বড় মেয়ে মালতি আমেরিকায় স্বামী সংসার নিয়ে আছে। পেশায় করপোরেট অ্যাকাউন্ট্যান্ট। স্বামী ধীরেন ইঞ্জিনিয়ার। সেই ঘরে দুই নাতি নাতনি। প্রতিবছর দুই সপ্তাহের জন্য বেড়াতে আসে। আরেক মেয়ে মাধুরী এ শহরেই থাকে, পেশায় ডাক্তার। স্বামী তাপসও ডাক্তার। নিঃসন্তান স্বামী স্ত্রী দুজনই খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারপরও শত ব্যস্ততার মাঝেও তাঁর দুই মেয়েই প্রতিদিন বাবার খোঁজ নিতে ভোলে না। লোকে পুত্রসন্তান পুত্রসন্তান বলে হাহাকার করে।
শিউলিগাছ সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা
শিউলিগাছ কতদিন ফোটে? শিউলিগাছ সাধারণত বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ফোটে। এটি মূলত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ফুল ধরে।
শিউলিগাছের রং কী কী হয়? শিউলিগাছের ফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি এবং বেগুনি রঙের হয়। সাদা শিউলি সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
শিউলিগাছ কেমন যত্ন নেয়? শিউলিগাছ পূর্ণ সূর্যালোক এবং ভালো নিষ্কাশন ক্ষমতাসম্পন্ন মাটি পছন্দ করে। নিয়মিত পানি দিতে হয় এবং বার্ষিক সার প্রয়োগ করা উচিত।
বাংলা সাহিত্যে শিউলিগাছের গুরুত্ব কতটুকু? শিউলিগাছ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রতীকী অর্থ বহন করে। এটি স
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শ উল গ ছ?
শ উল গ ছ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শ উল গ ছ matter?
শ উল গ ছ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
