Uncategorized

চোখ

চ খ - ১৯৯৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গল্পটি আজ অনলাইন পাঠকদের জন্য অন্য আলো উপস্থাপন করল। অনুবাদ করেছেন শাহেদ সাদ উল্লাহ।

Desk Uncategorized
Published August 13, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
WhatsApp-Image-2026-08-12-at-10.47.53-PM
Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. চোখ: ট্রেন যাত্রায় এক অন্ধ যাত্রীর অভিজ্ঞতা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

চোখ: ট্রেন যাত্রায় এক অন্ধ যাত্রীর অভিজ্ঞতা

Banglaprabah.com – চ খ – ১৯৯৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গল্পটি আজ অনলাইন পাঠকদের জন্য অন্য আলো উপস্থাপন করল। অনুবাদ করেছেন শাহেদ সাদ উল্লাহ। রাসকিন বন্ডের জন্ম ১৯৩৪ সালে ভারতের হিমাচল প্রদেশে। বর্তমানে তিনি মাসুরিতে বাস করেন এবং সিমলায় লেখালেখি করেন। তরুণ বয়সেই তিনি একজন পেশাদার লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘দি রোম অন দি রোফ’ এবং ছোট গল্প ‘আ ফ্লাইট অব পিজনস’। পরবর্তীতে এই গল্পটি ‘জানোন’ নামক চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়।

ট্রেনে একাকী যাত্রা

রোহানা পর্যন্ত ট্রেনে আমি একা একটি কম্পার্টমেন্ট পেয়েছিলাম। হঠাৎ একটি মেয়ে এসে আমার কম্পার্টমেন্টে ঢুকল। মেয়েটিকে বিদায় জানানোর জন্য যে দম্পতি এসেছিলেন, তাঁরা ছিলেন মেয়েটির পিতামাতা। মনে হলো তাঁরা খুব উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে তাঁদের মেয়েটি যাতে আরামে ভ্রমণ করতে পারে সেদিকেই তাঁদের দৃষ্টি ছিল।

মহিলাটি তাঁর মেয়েকে উপদেশ দিলেন কীভাবে সে তার জিনিসপত্রগুলো রাখবে, জানালার বাইরে ঝোঁকাবে না এবং অপরিচিতদের কাছ থেকে দূরে থাকবে। অবশেষে তাঁরা মেয়েটিকে বিদায় জানালেন। ট্রেনও তখন চলতে শুরু করল।

অন্ধত্বের জগত

এই সময়ে আমি পুরোপুরি এক অন্ধকার রাজ্যে ছিলাম; কারণ আমি অন্ধ। আমার চোখজোড়া শুধু আলো-অন্ধকারকেই প্রত্যক্ষ করতে পারে। আমি সত্যিই অক্ষম ছিলাম, মেয়েটি দেখতে কেমন—এটুকু বলতে। কিন্তু মেঝেতে তার হাইহিলের শব্দে—সে যে পায়ে হিল পরেছিল সেটাই বুঝতে পারলাম। এই শব্দ আমাকে হতো তার চেহারা সম্পর্কে কিছু একটা আবিষ্কারের অবকাশ দেবে। যদিও আমার পক্ষে কখনো তা সম্ভব নয়।

কিন্তু তার কণ্ঠস্বর, এমনকি তার পায়ের শব্দে আমি ছিলাম উদ্বেলিত। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম।

—আপনি কি সব রাস্তা ডেহারার উদ্দেশেই পাড়ি দেবেন?

আমি বসেছিলাম একটি অন্ধকার কোণে; ফলে আমার এই শব্দ তাকে চমকিত করে। সে বিস্ময়ের সঙ্গে বলে ওঠে, ‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না এখানে আর কেউ আছেন কিনা।’ তার এই প্রত্যুত্তর আমাকে বিচলিত করেনি, কারণ—এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যখন মানুষ তার ভালো দৃষ্টি দিয়েও কাছের জিনিসটি দেখতে ভুল করে অনেক সময়।

তবে এই সময়ে তাদের অনুধাবন করার আছে অনেক কিছু। পক্ষান্তরে যারা একেবারেই দেখতে পারে না অথবা অল্প দেখে, তাদেরকে অনুধাবন করতে হবে বিশেষ করে অপরিহার্য বিষয়গুলোকে। ইন্দ্রিয় দিয়ে তাদেরকে বিশেষ পরিস্থিতিগুলো নিরিখ করতে হবে।

কথোপকথন

আমি তাকে আবার বললাম, ‘আমি আপনাকে একবারও দেখতে পাইনি, কিন্তু আপনার উপস্থিতি টের পেয়েছিলাম।’ আমি নিজেই এক প্রকার বিস্মিত হচ্ছিলাম এই ভেবে যে আমি তাকে আমার অন্ধত্ব আবিষ্কার থেকে বিরত রাখতে পারব কি না। ভাবলাম, এ হতো আমার জন্য তেমন সমস্যা হবে না।

মেয়েটি বলল, ‘আমি শাহারানপুর যাচ্ছি। আমার আন্টি সেখানেই আমার জন্য অপেক্ষা করবে।’ আমি প্রত্যুত্তরে বললাম, ‘আমি তার সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত না হওয়াটাই বরং উচিত হবে। আন্টিরা সাধারণত একটু ভারি স্বভাবেরই হন।’ তখন মেয়েটি আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি কোথায় যাচ্ছি। আমি বললাম, ‘প্রথমে ডেহারা ও পরে মাসউরি পর্যন্ত।’

মেয়েটি তত্ক্ষণাৎ এক প্রকার উদ্বেলিত হয়ে বলল, ‘আপনি সত্যিই ভাগ্যবান। আমি যদি মাসউরি যেতে পারতাম! আমি পাহাড় ভালোবাসি। বিশেষত অক্টোবরে।’ আমি তাকে বললাম, ‘হ্যাঁ, অক্টোবর মাসই সবচেয়ে উপযোগী।’

মাসউরির স্মৃতি

তখন আমি আমার স্মৃতিগুলো সামনে রেখে মাসউরির দৃশ্যপটগুলো বর্ণনা করতে লাগলাম, ‘ওই সময় পাহাড়গুলো বন্য ডালিয়ায় আবৃত্ত থাকে, সূর্য মিষ্টি আলো ছড়িয়ে দেয় আর রাতে আপনি বসতে পারেন জ্বলন্ত কাঠের গুঁড়ির সামনে, আর খেতে পারেন সামান্য ব্রান্ডি। অধিকাংশ ট্যুরিস্ট এই সময়ই যায়। এই সময় রাস্তা নীরব, প্রায় জনশূন্যও। তাই অক্টোবরই সবচেয়ে ভালো সময় মাসউরি যাওয়ার।’

আমি কথা বলার সময়, সে ছিল নীরব; ফলে আমি বিস্মিত হলাম—আমার কথাগুলো তাকে স্পর্শ করেছে কিনা অথবা সে আমাকে মনে করেছে কিনা আমি একজন বোকা রোমান্টিক। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আমি একটি ভুল করে বসলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা ওখানকার বাইরের দৃশ্যগুলো কেমন?’ আমার এই প্রশ্নে তাকে একটুও আশ্চর্যান্বিত মনে হলো না। তাহলে কি সে আমি যে দেখতে পারি না এটা বুঝতে পেরেছে? কিন্তু তার পরের প্রশ্ন আমার সন্দেহ দূর করে। সে বলে, ‘কেন আপনি জানালার বাইরে তাকাচ্ছেন না?’

আমি খুব সহজেই ঘুমানোর জায়গাটির পাশে গেলাম আর জানালার তাকটি হাতে খুঁজতে লাগলাম। জানালাটা খোলাই ছিল। আমি জানালার মুখোমুখি হলাম আর বাইরের দৃশ্য দেখার ভান করলাম। আমি শুনতে পেলাম ইঞ্জিনের হাঁপানো, চাকার ঘরঘর শব্দ। কিন্তু আমার হৃদয়চক্ষু দিয়েও আমি টেলিগ্রাফ পোস্টগুলোর প্রতিচ্ছবি দেখতে ব্যর্থ হলাম।

সত্যের আবিষ্কার

আমি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে মেয়েটিকে বললাম, ‘আপনি কি লক্ষ করেছেন, ওই যে গাছগুলো—মনে হয় তারা দ্রুত ছুটছে; তখন আমাদের মনে হয় আমরা স্থির দাঁড়িয়ে আছি।’ মেয়েটি বলল, ‘ও রকম প্রায়শ ঘটে।’ সে তুরিতে আবার বলে উঠল, ‘আপনি কি কোনো জীবজন্তুও দেখেছেন?’ আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললাম, ‘না, কখনো নয়।’ আসলে আমি জেনেছিলাম, ডেহারার পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলে খুব কম জীবজন্তুই ছিল।

আমি জানালা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম এবং মেয়েটির মুখোমুখি হলাম। কিছু সময়ের জন্য আমরা নিস্তব্ধতার হারিয়ে গেলাম। প্রথম আমি নীরবতা ভেঙে বললাম, ‘আপনার নিশ্চয় আকর্ষণীয় একটি চেহারা আছে।’ আমি ক্রমশ সাহসী হয়ে উঠছিলাম। কিন্তু আমার এই মন্তব্যটি ছিল যথেষ্ট সংগতিপূর্ণ। কিছু মেয়ে আছে, যারা নিজেদের ব্যাপারে প্রশংসার আবেগ ধরে রাখতে পারে না। আমার সামনে বসা মেয়েটিও ছিল সে রকম। সে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে হেসে উঠল; চমৎকার হাসি—যেন

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

গল্পটির প্রধান চরিত্র কে? গল্পটির বর্ণনাকারী একজন অন্ধ যাত্রী যিনি ট্রেনে একা ভ্রমণ করছিলেন।

মেয়েটি কোথায় যাচ্ছিল? মেয়েটি শাহারানপুর যাচ্ছিল, যেখানে তার আন্টি তাকে অপেক্ষা করছিল।

বর্ণনাকারী কোথায় যাচ্ছিলেন? তিনি প্রথমে ডেহারা এবং পরে মাসউরি পর্যন্ত যাচ্ছিলেন।

গল্পটি কখন প্রকাশিত হয়েছিল? ১৯৯৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে এই গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল।

লেখক রাসকিন বন্ড কোথায় বাস করেন? রাসকিন বন্ড বর্তমানে মাসুরিতে বাস করেন এবং সিমলায় লেখালেখি করেন।

Frequently Asked Questions

What is চ খ?

চ খ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does চ খ matter?

চ খ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment