Uncategorized

খোকসায় আড়াই ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

খ কস য় আড় ই ঘণ ট - বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে খোকসা রেলওয়ে স্টেশনে রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহারের পর ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বিকেল ৪টা

Desk Uncategorized
Published July 24, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

খোকসায় রেলপথ অবরোধের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

Banglaprabah.com – খ কস য় আড় ই ঘণ ট – বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে খোকসা রেলওয়ে স্টেশনে রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহারের পর ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বিকেল ৪টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইন অবরোধ করে রাখেন। এই সময়ে কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ী গামী সকল ধরনের ট্রেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও কুমারখালী স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেসসহ মোট তিনটি ট্রেন আটকা পড়ে।

অবরোধের মূল কারণ

গত বুধবার রেলপথ মন্ত্রণালয় একটি সিদ্ধান্ত নেয় যে, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি খোকসা থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী কুমারখালী স্টেশনে স্থানান্তর করা হবে। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই খোকসার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। গতকাল রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে শত শত মানুষ খোকসা স্টেশনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।

বিকেলের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের আশ্বাস

অবরোধ চলাকালে বিকেল ৫টার দিকে খোকসা রেলওয়ে স্টেশনে যান কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গেলে সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কয়েক মিনিট ধরে অনবরত এই স্লোগান চলতে থাকে। হট্টগোল ও স্লোগানের মধ্যেই সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান।

আমি ইতিমধ্যে রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের সাথে কথা বলেছি। খোকসাতেও বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি বহাল থাকবে। একই সঙ্গে কুমারখালীতেও নতুন করে যাত্রাবিরতি দেওয়া হবে।

পরে আন্দোলনস্থলে যান কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন। তিনি জানান, সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, খোকসাতে যে যাত্রাবিরতি চলমান রয়েছে, তা বহালই থাকবে। এর পাশাপাশি কুমারখালীতেও নতুন করে যাত্রাবিরতি দেওয়া হবে। এমন আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

স্থানীয়দের মতামত

অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে খোকন হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক। খোকসাবাসী কোনোভাবেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। আরেক আন্দোলনকারী সেলিম খন্দকার বলেন, ‘খোকসা কেবল তিনটি উপজেলা বা জেলার সীমান্ত নয়, এটি মূলত তিন বিভাগের সীমান্ত অঞ্চল। সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এই স্টেশন ব্যবহার করে কুমারখালী ও পাংশা এলাকার অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। আমরা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চাই।’

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে কুমারখালী স্টেশনে এসে আটকা পড়ে ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানান কুমারখালী রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী আনিসুর রহমান। তিনি আরও জানান, অবরোধ চলাকালে বেনাপোল এক্সপ্রেস ছাড়াও কুষ্টিয়া স্টেশনে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ও কালুখালীতে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়েছিল। এই রুটের সব ট্রেনই প্রায় এক ঘণ্টা করে দেরিতে চলাচল করেছে।

Leave a Comment