Banglaprabah.com – শ ধ ন র ব চন নয় – “`html
নির্বাচনের বাইরেও প্রয়োজন গণতান্ত্রিক সংস্কার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের চতুর্দশ কেন্দ্রীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়িদ সাকি। তিনি এই অনুষ্ঠানে জোর দিয়ে বলেন যে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি নির্বাচনের সুযোগই নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরেরও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বৈরাচারী ক্ষমতাকাঠামোকে পরিবর্তন করে জাতীয় পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা
জোনায়িদ সাকি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—এই তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনার আত্মত্যাগকারীদের সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ তৈরি করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ত্যাগ দেশের মানুষের ভয় দূর করেছে এবং ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য পথ সুগম করেছে।
শুধু নির্বাচন নয়, সংবিধান ও রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারও জরুরি।
স্বাধীনতার পর থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন এমন ছিল যে ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এর ফলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়েছে এবং রাষ্ট্র জনগণের স্বার্থ রক্ষার বদলে গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পাশাপাশি ব্যাংক খালি করা, আর্থিক খাত ধ্বংস, অর্থ পাচার এবং ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিন দলের সমন্বয়ে ৩১ দফা কর্মসূচি
জোনায়িদ সাকি বলেন, রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ ও অর্থনৈতিক লুটপাট পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত। তাই অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োজন। গণসংহতি আন্দোলনের ১৪ দফা, গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফা এবং বিএনপির ২৭ দফার সমন্বয়ে রাষ্ট্র সংস্কার, মেরামত ও রূপান্তরের ৩১ দফা কর্মসূচি তৈরি হয়েছে। এই কর্মসূচির ভিত্তিতেই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এগিয়েছে এবং জাতীয় পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
৫ আগস্টের পর জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের ফল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ এসেছে। যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়নি, সেগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণ ভোটের মাধ্যমে নেবে, যা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অংশ।
আমাদের লক্ষ্য নৈরাজ্য সৃষ্টি নয়; সংসদের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো।
এই সময়ে নতুন কোনো উগ্রবাদী বা বিভাজনকারী শক্তি যেন জুলাই অভ্যুত্থানের সুফল নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে ছাত্রসমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি বলেন, একদল জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদের নামে বিভাজন করেছে। এখন আবার অনেকে ধর্মের নামে বা পরিচয়বাদী রাজনীতির নামে মানুষকে বিভক্ত করতে চাইছে। এরা আসলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
জোনায়িদ সাকি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হতে হবে, তবে প্রতিশোধের রাজনীতি নয়। একই সঙ্গে ঘৃণা, বিভাজন ও উগ্রবাদ ছড়ানোর অপচেষ্টার বিরুদ্ধেও ছাত্রসমাজকে সতর্ক থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান রিচার্ডের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সাংবাদিক ও আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য তাসলিমা আখতার প্রমুখ।
“`

