ছয়টি যাত্রীবাহী বাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছিল, যা ক্ষতিপূরণ প্রদানের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে
৭৫ হ জ র ট ক ক – মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম প্রথম আলোকে জানান, আহত দুই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সাথে আরেক শিক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত মুঠোফোনের জন্যও টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধের পর ছয়টি বাস ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাস কর্তৃপক্ষ লিখিত মুচলেকা দিয়েছে যে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করবে না।
এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে গাবতলী থেকে মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিরু মিয়া ও তাঁর দুই বন্ধু। বাসটি আমিনবাজার এলাকায় পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে হিরু মিয়া তিনজনের হাফ ভাড়া হিসাবে ৬০ টাকা দেন। কিন্তু বাসচালকের সহকারী হাফ ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানান।
একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হলে হিরু মিয়ার জামার কলার ধরেন সহকারী। পরে হেমায়েতপুর এলাকায় তাঁকে ঘাড় ধরে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। হিরু মিয়া বিষয়টি তাঁর বন্ধুদের জানালে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বাসটি আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাসচালক দ্রুতগতিতে বাসটি নিয়ে চলে যান।
পরে অন্য একটি বাসে করে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে ওই বাসকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল ফটক এলাকায় আটক করে। এ সময় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাগিব মারজান কাঁধে আঘাত পান এবং ইয়াছির আরাফাত আঙুলে চোট পান। পরে শিক্ষার্থীরা একই পরিবহনের আরও পাঁচটি বাস আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এ ঘটনার পর গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বাস কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
“ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করবে না” বলে লিখিত মুচলেকা দেওয়া হয়েছে।
