সুনামগঞ্জের সুখাইড় রাজবাড়ি: বিশেষ ঐতিহাসিক স্থাপত্য
স ন মগঞ জ র স খ – বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় অবস্থিত সুখাইড় রাজবাড়ি প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো একটি স্থান। এটি প্রাচীন নির্মাণ শৈলীর সৌন্দর্য নিবিডভাবে প্রকাশ করে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে এটিকে ‘রাজমহল’ নামে পরিচিত করে রেখেছেন।
১৬৯৫ সালে পাহাড়ি নদী বৌলাই এবং তার চারপাশের সবুজ স্থানে রাজবাড়িটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এই সময়ে জমিদার রায় চৌধুরী পরিবার সুনামগঞ্জের ৩২টি পরগনার মধ্যে বিশেষ স্থান গৌরব করেছিল। এই রাজবাড়ি নির্মাণের জন্য জমি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয় মহারাজা মহামাণিক্য দত্ত দ্বারা, যিনি হুগলী থেকে আসামে যাওয়ার পথে কালিদহ সাগর অঞ্চলে মুগ্ধ হয়ে সুখাইড়ে জায়গির ক্রয় করেন।
পরবর্তী কালে রাজবাড়িটি একটি প্রাচীন এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের উদাহরণ হিসেবে পরিচিত হয়। এই রাজবাড়ির প্রভাব ছিল সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্থানীয় ইতিহাসে। বর্ষাকালে চারপাশের হাওর পানিতে ভেসে ওঠার সময় এই রাজবাড়ি ভাসমান রাজপ্রাসাদের মতো দেখা যেত।
রাজবাড়ির অপূর্ব ঐতিহাসিক গল্প
তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসক বেলেন্টিয়া টাঙ্গুয়া হাওরে বাঘ শিকারে গিয়ে তিনটি বাঘের সম্মুখীন হন। খবর পেয়ে তৎকালীন জমিদার চিত্তরঞ্জন রায় চৌধুরী সাহসিক কর্মে বাঘগুলি গুলি করে তাঁকে উদ্ধার করেন। বিশেষ ভাবে সেই কাজের কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে ব্রিটিশ আইন অবহেলা করে জমিদার রায় চৌধুরীকে বন্দুক উপহার দেন।
মহারাজা মহামাণিক্য দত্তের বংশধরদের উপাধি পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সুখাইড় রাজবাড়ির সূত্রে জানা যায়, তাদের এক পূর্বপুরুষ একটি সুন্দরী এবং ধনাঢ্য পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করে উপাধি পরিবর্তন করেন। তৎকালীন প্রশাসনিক তুলনায় সুখাইড় রাজবাড়ির বৈভব সম্পূর্ণ সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গৃহীত হয়েছিল।
১৯৫০ সালে পাকিস্তানি শাসনামলে প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি ঘটে। সুখাইড় এস্টেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তন ১৯৫৬ সালে কার্যকর হয়। বিলুপ্তির পর রাজবাড়ির ২৫ একর জায়গা এবং সামান্য ধানের জমি ছাড়া বাকি সম্পত্তি সরকারের খাস খতিয়ানে চলে যায়।
আজ হারিয়ে যাওয়ার আগেই এই রাজবাড়ি অবয়ব বিশাল পুকুর, বাংলোঘর, কাছারিঘর, জলসাঘর, গুদামঘর, হাতিশাল, ঘোড়াশাল এবং অন্যান্য অপূর্ব স্থাপত্য স্থানে অবস্থিত। ভাঙাচোরা দেয়াল এবং জরাজীর্ণ প্রাচীন সম্পত্তি নিয়ে এখনও পর্যটক ও ঐতিহাসিক প্রেমীদের মনোরম আকর্ষণ করে।
সুখাইড় রাজবাড়ি একটি অমূল্য ঐতিহ্য। এর সংস্কার, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংরক্ষণের জন্য সরকারের প্�
