Uncategorized

হেপাটাইটিস: প্রতিরোধ ও প্রতিকারে দরকার সামাজিক অংশগ্রহণ

হ প ট ইট স - হেপাটাইটিস রোগের মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে যাতে মানুষ

Desk Uncategorized
Published July 28, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jessica Brown - banglaprabah.com

হেপাটাইটিস নির্মূলে সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব

Banglaprabah.com – হ প ট ইট স – হেপাটাইটিস রোগের মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে যাতে মানুষ বুঝতে পারে কোন অভ্যাস এড়িয়ে চললে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আক্রান্ত হলে কী করণীয়, কখন টিকা নেওয়া উচিত এবং কোন সতর্কতা মেনে চলতে হবে—সব তথ্য সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে। রক্ত গ্রহণ ও সুচ ব্যবহারের সময় নিরাপদ আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমও হেপাটাইটিস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা এই প্রচেষ্টায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি স্তরে হেপাটাইটিস প্রতিরোধবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দিতে মাধ্যমগুলো আরও সক্রিয় হতে পারে। হেপাটোলজি সোসাইটি ও ওজিএসবির সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারেন। তাঁদের সম্পৃক্ততা এই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

অন্য যেকোনো রোগের মতো হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রেও শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমাদের মূল গুরুত্ব দিতে হবে প্রতিরোধে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

সরকার হেপাটাইটিস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে অনেক মা হেপাটাইটিসের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসেছেন। এখন লক্ষ্য হলো, মা থেকে নবজাতকের মধ্যে সংক্রমণ বা ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশন প্রতিরোধ করা। সে জন্য জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বার্থ ডোজ দেওয়ার বিষয়টি কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন সরবরাহকারী গ্যাভিসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবু আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। অন্যান্য ইপিআই টিকার মতো হেপাটাইটিস প্রতিরোধেও ধারাবাহিকভাবে এগোতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হেপাটাইটিসের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যাবে।

পৃথিবীতে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের ৯০ শতাংশই জানেন না যে তাঁরা এই ভাইরাস বহন করছেন। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি নির্মূলের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো মানুষের না-জানা। এই বাধা ভাঙতে পারলেই প্রতিরোধ অনেক সহজ হবে। বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসে আক্রান্ত। তবে আমাদের অর্জনও কম নয়। ইপিআই-র আওতায় হেপাটাইটিস বি টিকার কাভারেজ ৯০ শতাংশের বেশি। হেপাটাইটিস বি ও সি—দুই ভাইরাসের চিকিৎসার সব ধরনের ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে এবং বিশ্বের তুলনায় সর্বনিম্ন মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। এসব অর্জন আমাদের আশাবাদী করে যে ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এখন প্রয়োজন কোথায় আমরা পিছিয়ে আছি, তা চিহ্নিত করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে মিসর ও তাইওয়ান দেখিয়েছে যে স্ক্রিনিং, শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, টিকাদান ও নজরদারি একসঙ্গে চালানো গেলে হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমাদেরও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষ করে মা-দের কাছ থেকে শিশুর সংক্রমণ রোধে জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকার বার্থ ডোজ চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে ডায়ালাইসিস সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট সংক্রমণ ও ইনজেকটেবল মাদক ব্যবহারকারীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে।

Leave a Comment