দশ বছর ধরে বেহাল ডোমার-বসুনিয়া হাট সড়ক, কার্যাদেশ পাওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি
Banglaprabah.com – সড়ক ব হ ল ক র য – নীলফামারীর ডোমার থেকে বসুনিয়া হাট পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। গত মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি। ফলে স্থানীয় মানুষগুলো ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা
সোনারাটি ইউনিয়নের বসুনিয়া হাট একটি ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রতিদিনই এখানে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তবে সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার সড়কের প্রবেশমুখে অসংখ্য গর্ত দেখা গেছে। এসব গর্তে কাদাপানি জমে আছে। সড়কজুড়ে একই অবস্থা। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
ডোমার পৌরসভার পশ্চিম চিকনমাটি মহল্লার মো. নুরুজ্জামান ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,
এতলা নেতা থাকার পরেও রাস্তা ভালো হয় না। সবাই ভোট নেয়, আর যায়, কাহো রাস্তা ঠিক করে না।
সোনারাটি ইউনিয়নের জাল্লির মোড় এলাকার পূর্ব খাটুরিয়া গ্রামের আক্কাস আলী প্রামাণিক বলেন,
এখন যেমন রাস্তার কাদাপানি, বৃষ্টি গেলে ধুলার একাকার হয়ে যায় সড়ক।
চুক্তি ও কার্যাদেশের ইতিহাস
২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে চলতি বছরের ২৩ জুন এসবি জেভিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২৯ জুন কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ১৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এখনো কাজ শুরু করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় লোকজন জানান, দশ বছর ধরে সড়কটি ভাঙা পড়ে আছে। সড়ক সংস্কারের জন্য আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজও দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সড়ক খুঁড়ে খোঁড়া বিছাড়ে। এরপর আর ঠিকাদারের দেখা নেই।
নীলফামারী জেলা বিএনপির সদস্য ও ডোমার পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আনিছুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সোনারাটি ইউনিয়নের খাটুরিয়া গ্রামে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে ডোমার থেকে বসুনিয়া হাট পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপোযোগী হয়ে পড়ে আছে।
ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কিছু মেজারমেন্ট বাকি আছে। সেটি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু করা হবে। এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল, ঠিকাদার।
এলজিইডির নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ডোমার-বসুনিয়া হাট ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ডোমার-আমবাড়ি ১৩ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার এবং বোয়ালগাড়ি-বাবুরহাট ৪ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার সড়ক একটি প্যাকেজে সংস্কারের জন্য ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কাজটি পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও ইউনিক কনস্ট্রাকশন জেভি। ২০২১ সালের ১৪ জুলাই তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজও শুরু করে। তবে ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজটি বাতিল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওই প্যাকেজের পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পাওয়া এসবি জেভি। ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে চলতি বছরের ২৩ জুন এসবি জেভিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী, ২৯ জুন কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ১৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এখনো কাজ শুরু করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, কিছু মেজারমেন্ট বাকি আছে। সেটি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু করা হবে। এলজিইডির নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার বলেন, সর্বনিম্ন দরদাতা এসবি জেভিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।

