সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য উন্নয়ন-অনুকূল সংস্কৃতি গড়তে হবে
সম দ ধ ব ল দ শ - বিশ্বায়ন ও তীব্র প্রতিযোগিতার এই যুগে সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে আমাদের সামনে দুটি মূল চ্যালেঞ্জ রয়েছে—সাশ্রয়ী হওয়া এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে
Table of Contents
উন্নয়ন-বান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে
Banglaprabah.com – সম দ ধ ব ল দ শ – বিশ্বায়ন ও তীব্র প্রতিযোগিতার এই যুগে সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে আমাদের সামনে দুটি মূল চ্যালেঞ্জ রয়েছে—সাশ্রয়ী হওয়া এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। জাতীয় জীবনের নানা সংকট মোকাবিলায় গভীর দূরদর্শী পরিকল্পনার পাশাপাশি উন্নয়ন-অনুকূল সংস্কৃতির সূচনা অপরিহার্য। সামান্য সদিচ্ছা ও পূর্বপরিকল্পনার অভাবে কীভাবে বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদ ও মানবঘণ্টা অপচয় হচ্ছে, তার কিছু বাস্তব উদাহরণ এখানে তুলে ধরা হলো।
বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনায় দূরদর্শিতার অভাব
কয়েক বছর আগে সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ করার সময় এর সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে কোনো গভীর বিশ্লেষণ করা হয়নি। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতেও তার বিশাল প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। দেখা গেল, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে বেতনসহ নানাবিধ ফি মাত্রাতিরিক্ত হারে নেওয়া শুরু হলো। নীতিনির্ধারকরা একটু দূরদর্শিতার পরিচয় দিলে ফি বৃদ্ধির একটি যুক্তিসংগত সর্বোচ্চ হার বেঁধে দিতে পারতেন, যা সাধারণ জনগণকে এই অস্বাভাবিক আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করত। গুটিকয় মানুষের সুবিধার্থে নেওয়া নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের শতভাগ সাধারণ মানুষকে।
ডিজিটাল নম্বর প্লেট বিতরণে অপচয়
গাড়িগুলোর জন্য যখন ডিজিটাল স্মার্ট নম্বর প্লেট চালু করা হলো, তখন দেশের হাজারো গাড়িচালক ও মালিককে বিআরটিএ কার্যালয়ে দিনের পর দিন রোদ-বৃষ্টি-ঝড় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অথচ বিআরটিএর কাছে প্রতিটি নিবন্ধিত গাড়ির সঠিক ঠিকানা সংরক্ষিত ছিল। চৈনিক ডাকপিঠ সমস্যার দক্ষ সমাধানের মতো একটি সুপরিকল্পিত এলাকাভিত্তিক বিতরণ ব্যবস্থা বা লজিস্টিকস ব্যবহার করে এই নম্বর প্লেটগুলো খুব সহজেই ডাকযোগে গ্রাহকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া যেত। এতে বিআরটিএ ভালো অঙ্কের সেবা ফি আদায় করতে পারত, আবার হাজারো মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টাও বাঁচত। উন্নত বিশ্বে দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা সুপারমার্কেটগুলো অনলাইনে বাজার করা ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে স্বল্পতম দূরত্ব ও কম খরচে যেভাবে বিজ্ঞানসম্মত রুট-ম্যাপিং বা পরিকল্পনা করে, আমাদের দেশেও সেভাবে প্রশাসনিক কাজগুলোকে সহজ করা যেত। মাথাপিছু আয় বেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা অপচয় রোধে সাশ্রয়ী নীতি মেনে চলে; আর আমরা দুর্বল অর্থনীতির দেশ হয়েও চরম অপব্যয় করি।
যৌথ ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে
বহু বছর আগে আমেরিকার মিলওওকি শহরে মাইনাস ২০-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চরম শীতের রাতে এক আলোকিত রুমে গিয়ে দেখলাম, বহু আমেরিকান ওয়াশিং মেশিন-সংবলিত পাবলিক লন্ড্রিতে নিজেদের কাপড় ধুতে এসেছেন। অর্থাৎ একটি প্রযুক্তি পুরো কমিউনিটি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে। আমাদের দেশের চিত্র ঠিক বিপরীত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকার প্রতিটি ফ্ল্যাটে একটি করে আলাদা ওয়াশিং মেশিন কেনা থাকে—যা হয়তো পুরো সপ্তাহের ১৬৮ ঘণ্টার মধ্যে সর্বসাকল্যে মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য চলে! তদুপরি এই বিশাল মেশিনটি বসিয়ে রাখার জন্য ফ্ল্যাটে অতিরিক্ত মূল্যবান জায়গা বরাদ্দ রাখতে হয়। বিশ্বের গড়ে জনঘনত্বের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি ঘনবসতির এবং ভূমির প্রচণ্ড অপ্রতুলতার এই দেশে এ ধরনের অহেতুক অপব্যয় কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। ভবনের ফটকে বা আবাসিক সীমানায় ৩-৪টি আধুনিক ওয়াশিং মেশিন দিয়ে একটি ছোট সার্ভিস শপ খুলে দিলেই শত শত পরিবারের পোশাক ধোয়া ও ইস্ত্রি করা সম্ভব। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও অফিস আবাসনগুলোতে অবিলম্বে এই যৌথ ব্যবহারের ইতিবাচক সংস্কৃতি চালু করা উচিত।
জ্বালানি অপচয় ও ট্রাফিক জ্যাম
বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও সরবরাহ-সংকটের কারণে যখন বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট তৈরি হলো, তার প্রভাব আমাদের দেশেও প্রকট হয়ে দেখা দিল। বছর দশেক আগে নেপালে তেলের লাইনে হাজারো মোটরসাইকেল চালকের দীর্ঘ অপেক্ষা দেখে সহমর্মিতা অনুভব করেছিলাম। আমাদের রাজধানী ঢাকাতেও ঠিক একইভাবে তেলের আশায় হাজারে হাজারে গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সড়ক দখল করে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি করেছে। ট্রাফিক জ্যাম বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি ৭-১০ সেকেন্ডের বেশি স্থির থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখাই নিয়ম। যদিও নতুন করে গাড়ি স্টার্ট দিতে ১.২ মিলিলিটার তেল খরচ হয়, কিন্তু অলস ইঞ্জিন চালু রাখলে জ্বালানির বিপুল অপচয় ঘটে। হিসাব করে দেখেছি, ১ কিলোমিটার জ্যামে যদি ২০০টি গাড়ি থাকে, তবে ২-৩ কিলোমিটারের জ্যামে ৫০০ থেকে ৬০০টি গাড়ি অলস দাঁড়িয়ে থাকে। দেশে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ গাড়ির এক-তৃতীয়াংশই ঢাকার। ফলে গড়ে প্রতিদিন ১০ লাখ গাড়ি যদি তেলের লাইনে অলস দাঁড়িয়ে থেকে ৩-৪ বার স্টার্ট নেয়, তবে দৈনিক অন্তত ৫ লাখ লিটার তেলের অপচয় হয়—যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা! কেবল সচেতনতার অভাবে প্রতিদিন অবলীলায় আমরা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাস্তায় পুড়িয়ে নষ্ট করছি, যা দিয়ে অন্তত এক লাখ দরিদ্র পরিবারের এক দিনের সংসার খরচ চালানো সম্ভব হতো।
সংকট মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অভাব
কোভিড-১৯ মহামারি কিংবা সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মুখে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে অটো পাস দেওয়া কিংবা আংশিক পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের মতো ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে যে সংকট মোকাবিলায় আমরা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, ডেটা বা দক্ষ পরিসংখ্যানবিদদের গবেষণা ব্যবহার করি না। পরিবহন ও নগর-পরিকল্পনার সফল বৈশ্বিক মডেল অনুসরণ করা জরুরি। এক শহরের দেশ সিঙ্গাপুরে সড়ক যেন অচল না হয়, সে জন্য ‘ভেহিক্যাল কোটা সিস্টেম’ চালু করেছে। আমাদেরও এমন বৈজ্ঞানিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও সুশাসন কেন দৃশ্যমান হয় না—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে আমাদের সংস্কৃতিতে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is সম দ ধ ব ল দ শ?
সম দ ধ ব ল দ শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does সম দ ধ ব ল দ শ matter?
সম দ ধ ব ল দ শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
