Uncategorized

ভুটান–মিয়ানমারও সামনে, ডিজিটাল–দৌড়ে বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে

ভ ট ন ম য় নম রও - আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সাম্প্রতিক ডিজিটাল অগ্রগতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি মাসে প্রকাশিত এই

Desk Uncategorized
Published July 23, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

ডিজিটাল দৌড়ে বাংলাদেশের অবস্থান: নেটওয়ার্ক আছে, কিন্তু ব্যবহারে ঘাটতি

Banglaprabah.com – ভ ট ন ম য় নম রও – আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সাম্প্রতিক ডিজিটাল অগ্রগতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি মাসে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৫৯টি দেশের আইসিটি পরিষেবার উন্নয়ন মূল্যায়ন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সূচকে দেখা গেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ ডিজিটাল দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে।

স্কোর ও তুলনামূলক অবস্থান

আইটিইউর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় স্কোর ৭৯। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোর গড় স্কোর ৬৯। সেখানে বাংলাদেশের স্কোর ৬৮.৯। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৬৪.৯। অর্থাৎ গত এক বছরে ৬ শতাংশ উন্নতি হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে এই অগ্রগতির পরও বাংলাদেশ ভিয়েতনাম, ভুটান, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং মিয়ানমারের পেছনে রয়েছে। ভিয়েতনামের স্কোর ৮৮.৪, ভুটানের ৮৬.৪, কম্বোডিয়ার ৭৮.৭, শ্রীলঙ্কার ৭৩.২ এবং মিয়ানমারের ৭১.৬। বাংলাদেশের নিচেই রয়েছে পাকিস্তান, যার স্কোর ৬৭.৭। তালিকার একদম শেষে আফগানিস্তান, স্কোর ৩৬.২।

নেটওয়ার্ক কভারেজ বনাম ব্যবহারের ফারাক

গ্রামের হাটবাজারে গেলেও এখন খুব কম মানুষকেই পাওয়া যায়, যাদের হাতে মোবাইলফোন নেই। বেশির ভাগের হাতেই স্মার্টফোন। মোবাইল অপারেটরদের বিজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের প্রায় পুরো জনসংখ্যা ফোর-জি নেটওয়ার্কের আওতায়। আইটিইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৯৯.৭ শতাংশ মানুষ থ্রি-জি এবং ৯৯.৬ শতাংশ মানুষ ফোর-জি নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। ব্যক্তিগত মোবাইলফোন রয়েছে মোট ৬৪.৪ শতাংশ মানুষের।

তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। আইটিইউর হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫৩.৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জনই ইন্টারনেটের বাইরে। বাড়িতে ইন্টারনেট সুবিধা আছে—এমন পরিবারের হার ৫৫.১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি দুই পরিবারের একটিতে এখনো বাসায় বসে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই।

বিশ্বের গড়ের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধানটা আরও স্পষ্ট হয়। বিশ্বের গড়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৭০.৪ শতাংশ মানুষ। পরিবারপ্রতি ইন্টারনেট সুবিধার বৈশ্বিক গড় ৭২.৫ শতাংশ।

ডিজিটাল অগ্রগতির দুই স্তর

আইটিইউর প্রতিবেদনে ডিজিটাল অগ্রগতিকে দুই ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে। প্রথমটি হলো ‘অর্থবহ সংযোগ’, অর্থাৎ নেটওয়ার্কের মান কতটা ভালো, গতি কেমন, কভারেজ কতটা। এখানে বাংলাদেশের স্কোর ৮৭.১। অন্যটি হলো ‘সর্বজনীন সংযোগ’, যেটি বোঝায় কত মানুষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। যেখানে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৫০.৬।

বিশ্লেষকেরা এটাকে বলছেন—’ইউজেস গ্যাপ’ (ব্যবহারে ফারাক) তৈরি হয়ে গেছে। অবকাঠামো আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের রোজকার জীবনে, লেখাপড়ায়, ব্যবসায় বা আয়ে তা এখনো ভালোভাবে জায়গা করে নিতে পারেনি।

সমন্বয়হীনতাই প্রধান বাধা

সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাইদ উদ্দীন (ছদ্মনাম) অবসরে যাওয়া একজন ব্যবসায়ী। তাঁর বয়স ৬৮। দিনের বড় একটা সময় এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করেই কাটে তাঁর। কখনো ফেসবুকে, কখনো ইউটিউবে রিলের পর রিল দেখেন তিনি। কিন্তু এই একই ফোন দিয়ে যে অনলাইন ব্যাংকিং করা যায়, সরকারি সেবা নেওয়া যায়, কিংবা কৃষিতথ্য জানা যায়—সেসব তিনি জানেনও না, ব্যবহারও করেন না। সাইদ উদ্দীনের মতো মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে কম নয়।

সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে সমন্বয়হীনতাকে দাবি করেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির। তাঁর মতে, শুধু অবকাঠামো গড়লেই চলবে না; দরকার বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়, সেবাপ্রাপ্তি সহজ করা এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অটোমেশন আর সফটওয়্যারের ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক সূচকে সেই অগ্রগতির প্রতিফলন পুরোপুরি ঘটছে না। একটি দেশের ডিজিটাল সূচক তখনই বাড়ে, যখন মানুষ সেবাগুলো সহজে ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি সেবার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং মানুষের ব্যবহার–দক্ষতার ঘাটতির কারণে প্রতিবেশী ছোট দেশগুলোর তুলনায়ও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।

আইটিইউর বিশ্লেষণ বলছে, যেসব দেশ এগিয়ে গেছে, সেখানে মানুষ শুধু নেটওয়ার্কের আওতায় আসেননি; তাঁরা সেই নেটওয়ার্ককে শিক্ষা, ব্যবসা, আর্থিক লেনদেন আর সরকারি সেবায় কাজে লাগিয়েছেন। বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক দ্রুত ছড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার ওপর দাঁড়িয়ে ডিজিটাল অর্থনীতি যতটা বিস্তৃত হওয়ার কথা ছিল, সেই গতি এখনো ধীর।

Leave a Comment