জুলাই গণহত্যার বিচারে নতুন করে দাবি তুলে ধরলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা
Banglaprabah.com – আমগ ছ ল র জ বন দ – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে বৃহস্পতিবার সকালে এক বিশেষ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ১১-দলীয় ঐক্য। জুলাই মাসের গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা এই মানববন্ধনে অংশ নেন। এছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরাও এই মানববন্ধনে যোগ দেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একজন শহীদ পরিবারের সদস্য পারভীন আক্তার তাঁর মনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
আমরা দেখতাছি আমগো সন্তানের কোনো বিচারই অইতাছে না। স্যার আমরা জানতে চাই, আমগো ছেলেরা জীবন দিয়ে কী অপরাধ করছে?
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে এই প্রশ্নটি তোলেন। পারভীন আক্তার আরও অভিযোগ করেন যে, সরকার কিছু শহীদ পরিবারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কিন্তু বাকিদের উপেক্ষা করছে। তিনি নিজের ছেলে শহীদ মেহেদী হাসানসহ সকল জুলাই শহীদের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গাজীউর রহমানও এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন। তাঁর ছেলে শহীদ মুনতাসির রহমান। তিনি বলেন,
তারা কোনো মন্ত্রিত্ব চায়নি। তারা কোনো উপদেষ্টা হতে চায়নি। তাদের রক্তের বিনিময়ে অনেকে মন্ত্রী-উপদেষ্টা হয়েছেন। অথচ সন্তান হত্যার বিচারের জন্য এখন আমাদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে।
গাজীউর রহমান আরও মন্তব্য করেন যে, জুলাই শহীদেরা পরিবার ও দেশের সম্পদ ছিল।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন যে, সরকার ফ্যাসিবাদকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি বলেন,
তার নমুনা আমরা দেখতে পাচ্ছি। যাদের নিয়ে প্রশাসন চালাচ্ছেন, সরকার চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যে জায়গায় জায়গায় ফ্যাসিবাদের দোসরেরা বসে আছে।
তিনি আরও বলেন যে, ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না করলে জনগণ আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের কারও বিচার হয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রয়োজন হলে আরও একজন উপদেষ্টা নিয়োগ করে জুলাই হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জুলাই হত্যার জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেন।
মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির মো. হেলাল উদ্দিন। এই মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লেবার পার্টির নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
সাত দফা দাবি পেশ করলেন ১১-দলীয় ঐক্য
মানববন্ধন শেষে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সাত দফা দাবিগুলো হলো—জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রধান স্থানগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচারে পদক্ষেপ নেওয়া, অভিযুক্ত পুলিশ ও অন্য বাহিনীর সদস্যদের চাকরিতে বহাল না রেখে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা, সব জেলায় নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অভিযুক্তদের ধরে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণহত্যার উসকানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, গুম ও লাশ গুমের সাথে জড়িত সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা, গুমের মামলার ধীরগতি কমিয়ে দ্রুত তদন্ত ও স্বজনদের সুরক্ষা দেওয়া।

