বাজেটে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা আঁকড়ে রাখা হয়েছে
ব জ ট ব স তবত র – সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করার পর এখন আমরা সামান্য ব্যবস্থাপন করা হয়েছে বলে মনে হয়। সেই বাজেটে আর্থিক গতি বাড়ানোর জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে তা নিশ্চিত করা হয়নি। আগামী অর্থবছরে সরকারের বাজেটঘাটতি ঘোষিত হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার পরিমাণে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেই পরিমাণ টাকা আসবে কি না।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বাজেটে আর্থিক খাত সংকট তৈরি হয়েছে। বেসরকারি খাতের অবদান ৮৬ শতাংশ, সরকারের অবদান মাত্র ১৪ শতাংশ। এই সময়ে যদি সরকার বেশি অর্থ সংগ্রহ করে, তাহলে বেসরকারি খাত টাকা পাবে কোথায়? এটি একটি গুরুতর প্রশ্ন।
আমি মনে করি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় যত ধরনের কর্মসূচি রয়েছে সবগুলোকে সেন্ট্রাল ডেটাবেজের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করলে তার ভালো সুফল পাওয়া যাবে।
বিদেশী ঋণ ও বিনিয়োগ
বাজেটে বিদেশ থেকে ঋণ আনার উদ্যোগ রয়েছে। তবে এই বিনিয়োগ যেন রাউন্ড ট্রিপে পরিণত না হয় সেটি নিশ্চিত করা দরকার। প্রণোদনার আওতায় আসা বিনিয়োগ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা জরুরি। আমাদের বেসরকারি খাত নতুন করে বিদেশী ঋণ নেওয়ার আগ্রহ দেখায় নি। সরকারের প্রতিফলন দেখা যায় পরিবার বা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে।
এই বাজেটের বড় অনিশ্চয়তা ব্যাংক খাতের দুর্বলতা। ব্যাংক খাত থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে তা আরও বেশি সমস্যা তৈরি হবে। এমনিতে ব্যাংক খাত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আবার নতুন করে চাপ দেখা দিয়েছে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে কাজে লেগেছে বলে মনে হয়।
রাজস্ব খাতের সংস্কার
রাজস্ব খাত অদক্ষ এবং দুর্নীতি প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে। এনবিআর দুই ভাগ করার পরিকল্পনা আবারও বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করছে। করহার বৃদ্ধি সরকারের অর্থায়নে বড় বাধা হয়ে উঠবে।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বড় ধরনের ঘাটতি বাজেট গ্রহণ করেছে। কিন্তু তার ব্যাংক ও আর্থিক খাত শক্তিশালী। আমাদের দেশে ব্যাংক খাত দুর্বল এবং অগভীর। এ রকম একটি খাত নিয়ে বড় ঘাটতি বাজেট চালানো খুব কঠিন।
আমি মনে করি এই সময়ে সরকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় খাত কমানোর কৌশল অবলম্বন করেছে। যদি সেই কৌশল কার্যকর হয়, তবে সমস্যা দূর হবে। কিন্তু আমার মনে হয় সেটি এখনও পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়নি।
