পোশাক–সাবান সবই বানাচ্ছেন বন্দীরা
প শ ক স ব ন সবই - কারাগারের বন্দীরা এখন শুধু শাস্তি ভোগ করছেন না, বরং দক্ষতা অর্জন করছেন। পোশাক–সাবান সবই তাঁদের হাতে তৈরি হচ্ছে। এই পণ্যগুলোকে 'কারা পণ্য'
Table of Contents
কারাগারে বন্দীরা বানাচ্ছেন পোশাক–সাবান সবই
Banglaprabah.com – প শ ক স ব ন সবই – কারাগারের বন্দীরা এখন শুধু শাস্তি ভোগ করছেন না, বরং দক্ষতা অর্জন করছেন। পোশাক–সাবান সবই তাঁদের হাতে তৈরি হচ্ছে। এই পণ্যগুলোকে ‘কারা পণ্য’ নামে ব্র্যান্ড করা হয়েছে। এই পণ্য বিক্রির লাভের অর্ধেক অংশ সরাসরি সংশ্লিষ্ট বন্দীদের দেওয়া হয়। সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন নিজের পরনের ইউনিফর্ম দেখিয়ে বললেন, শুধু কর্মরতদের পোশাক নয়, সশ্রম কয়েদিরা নির্ধারিত মোটা সাদাটে কাপড়ের সুতা তৈরি থেকে শুরু করে পুরো পোশাক বানাচ্ছেন। সুগন্ধি ও কাপড় ধোয়ার সাবানও তাঁদেরই তৈরি। রাতে ঘুমানোর সময়ের কম্বল অত্যাধুনিক মেশিনে পরিষ্কার করছেন নিজেরাই।
গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–২–এর বন্দীদের অনেকেই এভাবে কাজের মধ্যে দিন পার করছেন। এতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি তাঁরা আয়ও করতে পারছেন। গাজীপুরের এই কারা কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় কারাগার–২–সহ মোট চারটি কারাগার রয়েছে। সেগুলোর একটি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার–৩। গত ১৪ জুলাই কারা মহাপরিদর্শকের বিশেষ অনুমতিতে কারাগার–২ ও ৩ সরেজমিন ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছিল এই প্রতিবেদকের।
নারীদের কারাগারে নতুন সুযোগ
নারীদের কারাগার ক্যাম্পাসে দেখা গেল, মেঝেতে পাটি বিছিয়ে বসে বন্দীরা নকশিকাঁথা সেলাই করছেন। চলছে গল্প। এক নারীর পাশে তাঁর ‘প্রিজনার ক্যাশ’ বা ব্যক্তিগত তহবিলের কার্ড দেখা গেল। মজুরি যা পাবেন, ক্যানটিন থেকে এ কার্ডের মাধ্যমে দরকারি জিনিস কিনবেন। ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বা চাইলে পরিবারের কাছে টাকাও পাঠাতে পারবেন। একজন নারী ২০ থেকে ২৫ দিনে একটা কাঁথা সেলাই করেন।
কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা আইন, ২০০৬–এ বিশেষ সুবিধা হিসেবে ব্লক বা বাটিক, সুচিশিল্প, হেয়ার কাটিং, বাঁশ ও বেতের কাজ, দরজিবিজ্ঞান, কাপড়ের ফুল তৈরি ইত্যাদি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিউটি পারলারে ঢুঁ দিয়ে দেখা গেল, কেউ স্পা করছেন, কেউবা চুল কাটছেন। কারাগারে কর্মরতদের পাশাপাশি যাঁরা সেবা নিচ্ছেন ও দিচ্ছেন, তাঁরা সবাই বন্দী। রূপবিশেষজ্ঞ হিসেবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের কেউ কেউ কারাগারে আসার আগে এ পেশাতেই ছিলেন। তাঁরা অন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বিউটি পারলারে মোট ৩৫ ধরনের সেবার মূল্যসহ তালিকা টাঙানো।
পণ্য বিক্রি ও আয় বৃদ্ধি
অন্য একটি কক্ষে কেউ কাপড়ের মাপজোখ করছেন, কেউ কামিজ কাটছেন। কেউ সেলাই মেশিন চালাচ্ছেন। থ্রিপিসের মজুরি ২৫০ টাকা, ওয়ানপিস ১৪০ টাকা, সাধারণ ব্লাউজ ১৫০ টাকা…এখানেও তালিকা টাঙানো। তবে নারীদের কারাগারে ব্লক-বাটিকের প্রশিক্ষণ আপাতত বন্ধ। কথা বলে জানা গেল, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আগে আবার শুরু হবে এখানকার এ প্রশিক্ষণ।
কাশিমপুর কারাগারের মূল ফটকের কাছে বিক্রি ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে বন্দীদের তৈরি পণ্য বিক্রি হয়। এসব পণ্য ‘কারা পণ্য’ নামে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। www.prisonproducts.com সাইটের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রির লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ অর্থ সংশ্লিষ্ট বন্দীদের দেওয়া হয়। কারা অধিদপ্তর বলছে, বন্দীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য দেশের প্রায় কারাগারেই এমন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এটি মুক্তির পর সমাজে তাঁদের সম্মানজনক কর্মসংস্থানে সহায়তা করছে।
কারা অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৭৩টি কারাগারে (দুটির হিসাব যোগ হয়নি) বন্দীদের তৈরি পণ্য ৫ কোটি ৬৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। এই সময়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৮ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৮ জন। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বন্দীরা পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছেন ৩ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার টাকা।
কারাগারে ৭৫ শতাংশই বিচারাধীন
দম ফেলার ফুরসত নেই কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ২০০৪ সালে। এ কারাগারে কারাবন্দী পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৫ সালে। ১৪ জুলাইয়ের হিসাব বলছে, ওই দিন এ কারাগারে মোট বন্দী ছিলেন ৩ হাজার ৯৩৯ জন। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণার্থী বন্দী ছিলেন ১৫৪ জন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য কারাগারে পর্যাপ্ত জনবল নেই। চাহিদা থাকার পরও সবাইকে এতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এটা বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
কারাবন্দী পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ স্কুলে ঢোকার পর দেখা গেল, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বন্দীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। আধুনিক আসবাবপত্র, এমব্রয়ডারি ও মোজা, গার্মেন্টস শাখা, প্রিন্টিং প্রেস, বুক বাইন্ডিং, ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রনিকস শাখা, মোড় ও ওয়েল্ডিং, পাওয়ার লুম, দরজি দফাসহ বিভিন্ন ট্রেডে কাজ করছেন বন্দীরা। পণ্য নিতে হলে ব্যাগ লাগবে, সেই রঙিন ব্যাগও বানাচ্ছেন তাঁরা। বেতের আসবাবপত্র তৈরির কক্ষে জিআইজেড, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ইউকে এইড, জার্মান কো-অপারেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তার একটি ব্যানার টানানো আছে।
বন্দীদের অভিজ্ঞতা
৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক বিডিআর সদস্য জাহাঙ্গীর আলম এ কারাগারে আছেন ২০১৫ সাল থেকে। বললেন, কাজ করার ফলে অলস বসে থাকতে হয় না। শরীর ও মন ভালো থাকে। মজুরি পাচ্ছেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর পুনর্বাসনে এ প্রশিক্ষণ দক্ষতা কাজে লাগবে। জেল কোডের বিধান অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে শারীরিক শ্রমে যুক্ত থাকার সাজা কমানো বা রেহাত সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে।
৬ জুলাই উদ্বোধন হওয়া সাবান ফ্যাক্টরিটি বেশ ঝকঝকে তকতকে। অত্যাধুনিক মেশিনে তৈরি হচ্ছে সাবান। মেঝেতে বসে গোলাপি মোড়কে ‘প্রিজন ফ্রেশ সোপ’ প্যাকেট করছেন বন্দীরা। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন ট্রেডে বন্দীরা কাজ করছেন। কারাগারগুলোতে এখন বন্দী ৭৭ হাজার, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কারাগারের বন্দীরা কী কী পণ্য তৈরি করেন? বন্দীরা পোশাক–সাবান সবই তৈরি করেন। এছাড়া নকশিকাঁথা, আসবাবপত্র, এমব্রয়ডারি, মোজা, ব্যাগ এবং বিভিন্ন ট্রেডের পণ্য তৈরি করেন।
বন্দীদের তৈরি পণ্য কোথায় পাওয়া যায়? কাশিমপুর কারাগারের মূল ফটকের কাছে বিক্রি ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে এবং www.prisonproducts.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হয়।
বন্দীদের তৈরি পণ্য বিক্রির লাভ কীভাবে বণ্টিত হয়? উৎপাদিত পণ্য বিক্রির লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ অর্থ সংশ্লিষ্ট বন্দীদের দেওয়া হয়।
কারাগারে কতজন বন্দী প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন? ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৮ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৮ জন বন্দী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is প শ ক স ব ন সবই?
প শ ক স ব ন সবই is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does প শ ক স ব ন সবই matter?
প শ ক স ব ন সবই matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
