দেয়ালের উচ্চতায় নয়, বিচারব্যবস্থার শক্তি জনগণের বিশ্বাসে
দ য ল র উচ চত য - বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ অনুচ্ছেদের তৃতীয় ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে পতিত যেকোনো ব্যক্তির অধিকার
Table of Contents
বিচারব্যবস্থার শক্তি নির্ভর করে জনগণের বিশ্বাসের ওপর
Banglaprabah.com – দ য ল র উচ চত য – বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ অনুচ্ছেদের তৃতীয় ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে পতিত যেকোনো ব্যক্তির অধিকার রয়েছে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার পাওয়ার। কিন্তু এই প্রকাশ্য বিচারের পেছনে কী যুক্তি? এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ইংরেজ বিচারপতি লর্ড হিউয়ার্ট এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। ১৯২৪ সালের ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে তিনি তাঁর কালজয়ী মতামত প্রকাশ করেন:
ন্যায়বিচার শুধু হতে হবে না, ন্যায়বিচার যে হয়েছে, তা জনগণের কাছেও দৃশ্যমান হতে হবে।
আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি বা আইসিসিপিআরের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এই নীতিটি মেনে চলে। চুক্তির ১৪১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ফৌজদারি অভিযোগ নির্ধারণের সময় প্রতিটি ব্যক্তি আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যোগ্য, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে ন্যায্য ও প্রকাশ্য শুনানির অধিকারী। এই নীতিটি বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৩) ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থাৎ, প্রকাশ্য বিচার কেবল সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও একটি স্বীকৃত মৌলিক নীতি।
প্রকাশ্য বিচারের অর্থ ও প্রয়োগ
প্রকাশ্য বিচার বলতে আমরা কী বুঝি? আদালতের দরজা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া, আদালতের বিশেষ কোনো নির্দেশ না থাকলে শুনানি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং যে কেউ আদালতকক্ষে উপস্থিত থেকে তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। গণমাধ্যমও আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। সাংবাদিকেরা শুনানি শুনতে, নোট নিতে এবং আইনসম্মতভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারবেন। আমাদের সংবিধানের দর্শনই হলো, বিচার গোপনে হবে না। বিচারক কীভাবে শুনানি পরিচালনা করছেন এবং কী যুক্তিতে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, তা জনগণের সামনে দৃশ্যমান থাকবে। রায় প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হবে। সাধারণ নীতি হলো আদালতের রায় প্রকাশ্যে উচ্চারণ বা প্রকাশ করা।
কিন্তু কয়েক মাস হলো দেশের কিছু আদালত, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন আদালতকক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এটি একটি নতুন বাস্তবতা, যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নটি কোনো নির্দিষ্ট মামলাকে কেন্দ্র করে নয়; প্রশ্নটি বিচারব্যবস্থার উন্মুক্ত চরিত্র ও সাংবিধানিক দর্শন নিয়ে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা
বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। যুক্তরাজ্যে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি শুধু সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত নয়, তা নিয়মিত সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়। আদালতের ভেতরে ক্যামেরা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা থাকলেও শুনানির তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। কানাডার সুপ্রিম কোর্টও নিয়মিত শুনানির ভিডিও সম্প্রচার করে। যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টে টেলিভিশন ক্যামেরা এখনো অনুমোদিত নয়। কিন্তু সাংবাদিকেরা আদালতকক্ষে উপস্থিত থেকে শুনানি পর্যবেক্ষণ করেন এবং আদালত নিজেই শুনানির অডিও প্রকাশ করেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আদালতে আবার বিচারকের অনুমতি সাপেক্ষে টেলিভিশন ক্যামেরাও ব্যবহৃত হয়। অস্ট্রেলিয়াসহ অধিকাংশ দেশে যেখানে ‘কমন ল’ প্রচলিত, সেখানেও আদালত সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত, যদিও আদালতের ভেতরে ছবি বা ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে ‘স্বপ্নিল ত্রিপাঠী বনাম ভারতের সুপ্রিম কোর্ট’ মামলায় আদালত রায় দেন যে আদালত জনগণের প্রতিষ্ঠান; তাই ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াও জনগণের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত।
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের ইতিহাস
স্বাধীনতার পর থেকে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশ ছিল একটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ও গ্রহণযোগ্য রীতি। গত পাঁচ দশকের বেশি সময়ে ২৫ জন প্রধান বিচারপতির আমলে সংবাদকর্মীরা আদালতকক্ষে প্রবেশ করে শুনানি পর্যবেক্ষণ করেছেন, নোট নিয়েছেন এবং সংবাদ প্রকাশ করেছেন। অবশ্যই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বা বহুল আলোচিত মামলার শুনানিতে আদালতকক্ষে স্থান সংকুলানের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতীতেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সে সময় সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক নেতারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। যেমন সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট এক বা দুটি সারি সংরক্ষণ করা, আসন পূর্ণ হয়ে গেলে অতিরিক্ত সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে প্রবেশ না করা এবং আদালতের ভেতরে দাঁড়িয়ে অবস্থান না করার মতো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছিল। ফলে আদালতের শৃঙ্খলা যেমন বজায় ছিল, তেমনি গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারও অক্ষুণ্ন ছিল। এই উন্মুক্ত বিচারপদ্ধতি সুপ্রিম কোর্টের প্রতি জন-আস্থা ও মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বেঞ্চে সাংবাদিকদের প্রবেশে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এটি একটি নতুন বাস্তবতা, যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নটি কোনো নির্দিষ্ট মামলাকে কেন্দ্র করে নয়; প্রশ্নটি বিচারব্যবস্থার উন্মুক্ত চরিত্র ও সাংবিধানিক দর্শন নিয়ে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ য ল র উচ চত য?
দ য ল র উচ চত য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ য ল র উচ চত য matter?
দ য ল র উচ চত য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
