ঈদুল আজহার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি মহান সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব
দ ম কম প ল ক ক – বাংলাদেশে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে কিছু নতুন ধরনের ধস হচ্ছে দেখা গেল। চামড়া বিক্রি করে কোনো টাকা নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোরবানিদাতা নিজে চাইলে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু তা নিজের জন্য বা কসাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
চামড়া বিক্রির টাকা গরিবদের জন্য আমানত
ইসলাম শরিয়তে কোরবানির পশুর প্রতিটি অংশ আল্লাহর নামে নিবেদিত। চামড়াটি কেবলমাত্র অভাবী মুসলিমদের জন্য আমানত হয়। বাজারে দাম কম হলেও যতটুকু মূল্য পাওয়া যায়, ততটুকুই আদায় করে হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া কোরবানিদাতার অন্যতম দায়িত্ব। কোরবানির চামড়া যেমনই হোক না কেন, তা কেবল গরিব ও দরিদ্র মানুষের প্রতি সামাজিক কল্যাণ হিসেবে মেনে চলা উচিত।
রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করল (এবং নিজের কাজে লাগাল), তার কোরবানিই হলো না।” (বাইহাকি, সুনানুল কুবরা, হাদিস: ১০৪৭৪)
আল্লাহ তাআলা কোরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সুরা ইসরা, আয়াত: ২৭) কোরবানির চামড়া নষ্ট করা পরোক্ষভাবে হাজার হাজার এতিম শিশুর মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার পথকে বন্ধ করে দেওয়া সম্পর্কে তা এক ধরনের গুনাহের কাজ।
সিংহভাগ এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বছরের খরচের একটি বড় অংশ কোরবানির চামড়া বা চামড়া বিক্রির ফাণ্ড থেকে প্রাপ্ত হয়। অবহেলা করে চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলা বা চামড়ার বাজার মন্দা হওয়ার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছে।
ঋণ করে কোরবানি: ইসলামিক নাকি সামাজিক
অনেক সময় দেখা যায়, অনলাইন কোরবানি এজেন্সি বা ব্যক্তিগত কসাইয়ের মজুরি বা চামড়া ছাড়ানোর প্রসেসিং ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে চামড়ার দামকে সমন্বয় করা হয়। কসাইয়ের পারিশ্রমিক সম্পূর্ণ আলাদা নগদ অর্থ দিয়ে মেটাতে হবে, চামড়া দিয়ে নয়।
আলি (রা.) বলেন, “নবীজি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন… আমি যেন কসাইকে কোরবানির পশুর কোনো অংশ (চামড়া বা গোশত) পারিশ্রমিক হিসেবে না দিই।”
