গুম প্রতিরোধ–প্রতিকারের খসড়া আইন দায়মুক্তি ও অস্বীকারের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখবে: এনসিপি
গ ম প রত র ধ প - গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি মনে করে, বর্তমান খসড়া আইন দা'মুক্তি ও
Table of Contents
এনসিপি: গুম প্রতিরোধে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন
Banglaprabah.com – গ ম প রত র ধ প – গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি মনে করে, বর্তমান খসড়া আইন দা’মুক্তি ও অস্বীকারের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হবে। এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনের ১৪ ধারা সংশোধন করে বিভিন্ন বাহিনীর চেইন অব কমান্ডের বাইরে একটি স্বাধীন সংস্থাকে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দিতে হবে।
আইনের মূল ত্রুটি চিহ্নিত করল এনসিপি
নতুন খসড়া আইনটিকে ‘গুরুতরভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে এনসিপি বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বও সেই বাহিনীকেই দেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, কেউ গুমের অভিযোগ করতে চাইলে তাকে থানায় যেতে হবে। এরপর সেই অভিযোগ তদন্ত করবে পুলিশ। অথচ খসড়া আইনটি নিজেই বলছে, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার এবং সরকারের গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার সদস্যরা গুমে জড়িত হতে পারে। অর্থাৎ যাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠতে পারে, তদন্তের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতেই থাকছে।
বর্তমান খসড়া আইন অনুযায়ী কোনো পরিবার পুলিশের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ করলে পুলিশই সেই অভিযোগ তদন্ত করবে। অর্থাৎ পুলিশ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিজেই তদন্ত করে নিজেকে দা’মুক্ত দেখাতে পারবে।
আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও জাতিসংঘের নির্দেশনা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করে এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ২০২৪ সালের আগস্টে গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদে যোগ দিয়েছে। সনদের ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গুমের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। জাতিসংঘের গুমবিষয়ক কমিটিও স্পষ্ট করেছে, কোনো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে সেই বাহিনী তদন্তে অংশ নিতে পারবে না। খসড়া আইনের ১৪ ধারা এই ন্যূনতম মানও পূরণ করে না।
দুটি প্রধান দাবি এনসিপির
বিবৃতিতে এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের উদ্দেশে দুটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। খসড়া আইনের ১৪ ধারা সংশোধন ছাড়া অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে গুমের প্রতিটি অভিযোগ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং খসড়া আইনে তালিকাভুক্ত অন্য সব বাহিনীর চেইন অব কমান্ডের বাইরে থাকা একটি স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রশিক্ষিত তদন্ত ইউনিটকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে এনসিপি বলেছে, সরকার এপ্রিলে সেই অধ্যাদেশটি বিলুপ্ত করেছে। সেই ব্যবস্থাটি ফিরিয়ে আনতে হবে। অথবা সরকার এমন আরেকটি সত্যিকার স্বাধীন তদন্ত সংস্থা গঠন করবে যেখানে পুলিশ, সামরিক, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করার প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা ও সক্ষমতা থাকবে।
গুমবিরোধী আইন অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করতে বলতে পারে না। স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা ছাড়া এই খসড়া আইন দা’মুক্তির অবসান ঘটাবে না, বরং তা টিকিয়ে রাখবে।
গুম প্রতিরোধ আইন সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া কী? এটি বাংলাদেশে গুমের ঘটনা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য প্রণীত একটি আইন খসড়া, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।
এনসিপি কেন এই আইন খসড়ার বিরোধিতা করছে? এনসিপি মনে করে, খসড়া আইনে তদন্তের দায়িত্ব অভিযুক্ত বাহিনীর হাতেই থাকায় তা দা’মুক্তি ও অস্বীকারের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখবে।
খসড়া আইনের ১৪ ধারা কী বলে? ১৪ ধারা অনুযায়ী, গুমের অভিযোগ করতে চাইলে থানায় যেতে হবে এবং সেই অভিযোগ তদন্ত করবে পুলিশ।
বাংলাদেশ কখন গুম সনদে যোগ দিয়েছে? বাংলাদেশ ২০২৪ সালের আগস্টে গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদে যোগ দিয়েছে।
এনসিপির প্রধান দাবি কী? এনসিপি দাবি করছে, গুমের প্রতিটি অভিযোগ চেইন অব কমান্ডের বাইরে একটি স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ ম প রত র ধ প?
গ ম প রত র ধ প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ ম প রত র ধ প matter?
গ ম প রত র ধ প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
