ক্লোন করা প্রাণীর নতুন ক্লোন করা কি সম্ভব
ক ল ন কর প র ণ – ফটোকপি মেশিন থেকে ছবি বের করলে তার মান কমে যায়। একটি কপি থেকে আবার কপি করলে মান আরও ক্ষীণ হয়ে আসে। ক্লোন করা প্রাণীর ক্ষেত্রেও কি এই ধরনের দুর্বলতা দেখা দেয়? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জাপানের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দশক ধরে গবেষণা চালায়। তারা একটি ইঁদুরের বেশি এক হাজার বার ক্লোন তৈরি করেছেন।
ইয়ামানাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লোনিং বিজ্ঞানী তেরুহিকো ওয়াকায়ামা ২০০৫ সালে একটি নারী ইঁদুরের ক্লোন প্রস্তুত করেন। প্রথম ক্লোনটি মূল ইঁদুরের সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। পরবর্তীতে তিনি একটি ক্লোন থেকে আবার ক্লোন তৈরি করেন। সেই ক্লোন থেকে নতুন ক্লোন তৈরি করার প্রক্রিয়া বিশেষ আকর্ষণীয়। এই মুহূর্তে ইঁদুরের মোট ৫৮টি প্রজন্ম গঠন করা সম্ভব হয়।
সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য নেচার কমিউনিকেশনসে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবার ক্লোন করার পর ইঁদুরের জিনগত মিউটেশন জমা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লোন প্রক্রিয়া ক্ষতিকারক পরিবর্তনের কারণে দ্রুত কম সফলতা প্রদান করে। প্রথম প্রজন্মে সাফল্যের হার ছিল ৭ শতাংশ, কিন্তু পরে ২৬তম প্রজন্মে সেটি ১৫.৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়। তবে ২৭তম প্রজন্ম থেকে হার প্রায় তিন গুণ কমে যায়।
সর্বশেষ পর্যন্ত ৫৭ ও ৫৮তম প্রজন্মে সাফলতার হার ০.৬ শতাংশে নেমে আসে। বিজ্ঞানীরা জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে এটি বুঝতে সক্ষম হন। প্রতিবার ক্লোন তৈরির সময় ইঁদুরে ত্রুটি জমা হয়ে থাকে। সাধারণ ইঁদুরের তুলনায় ক্লোন করা ইঁদুরের শরীরে তিন গুণ বেশি ত্রুটি দেখা যায়।
“আমরা সত্যিই অবাক হয়েছি। আমরা ভেবেছিলাম, ক্লোন ইঁদুরটি মূল দাতার মতো হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ক্লোনিংয়ের ফলে ত্রুটি জমা হয়ে আসে।”
প্রতিবার ক্লোন তৈরি করার পর মূল প্রাণীর জিনগত ত্রুটি বৃদ্ধি পেয়। এটি সাধারণ প্রজনন প্রক্রিয়া ছাড়া এবং ক্লোনিং পদ্ধতির নিজস্ব অক্ষমতার কারণে ঘটে।
