শহীদ ফারহান ফাইয়াজের স্মরণসভায় আত্মত্যাগের সাহস স্মরণ
আম দ র ছ ল জ বন – ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে রাপা প্লাজা ও জেনেটিক প্লাজার মাঝামাঝি স্থানে অনুষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম (ফারহান ফাইয়াজ) বুকে গুলি চালানোর ফলে শহীদ হন। শনিবার কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় তাঁর বাবা শহীদুল ইসলাম সেই ঘটনার আবেগ স্মরণ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশেষ দিনে কেবল ডাক হয় শহীদ পরিবারের
শহীদুল ইসলাম বলেন, জুলাই আসার সময় তাঁদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে। বছরের অন্য সময়ে আর কেউ তাঁদের সম্পর্কে খবর নেয় না। সভায় তিনি বলেন, আমরা শো-অফে অভ্যস্ত হতে চাই না। আমাদের ছেলে জীবন দিয়েছেন শুধু আমাদের শো-অফ করানোর জন্য নয়।
“জুলাই এলেই সবাই আমাদের ডাকেন, কিন্তু আমাদের খোঁজ খবর নেয় না অন্য সময়ে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বা তাঁর পক্ষ থেকে কেউ আমাদের অবস্থা জানেন না। আমরা কী হালে আছি, কত হুমকির মধ্যে আছি – এই সব বিষয় স্মরণে রাখতে হবে।”
জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা ও কীর্তন শোনানো হয় সভায়
স্মরণসভায় শিক্ষার্থীদের কবিতা ও গান পরিবেশন করেন কলেজের ছাত্ররা। শহীদ ফারহান ফাইয়াজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার আবেগ কেবল শোকের নয়, সাহস ও মানবিকতার উজ্জ্বল প্রেরণা হিসেবে আখ্যা দেন কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাবের হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ফারহান ফাইয়াজকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করুন। তাঁর মানবিক সাহসে আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য শপথ করুন।
“তোমরা ফারহান ফাইয়াজকে আদর্শ হিসেবে বেছে নাও। এমন মানবিকতার শপথ নাও যেটা হবে দেশ ও মানুষের জন্য।”
অন্য শিক্ষার্থী সাদাত রহমান বলেন, ফারহান ফাইয়াজ ছিলেন কলেজের নক্ষত্র এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য এক উজ্জ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর তৎকালীন শ্রেণিশিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ফারহান ফাইয়াজের আত্মত্যাগের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার করার দাবি জানান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি শহীদ ফারহান ফাইয়াজকে প্রকৃত বীর আখ্যা দিয়ে বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করা কতটা কঠিন তা তিনি নিজে অনুভব করেন। তিনি বলেন, ফারহান ফাইয়াজের মতো ছাত্রদের যেভাবে বুক চিতিয়ে পুলিশ ও বুলেটের সামনে দাঁড়ানো হয়েছে, সেই সাহসিকতা ও বীরত্ব চিরকাল স্মরণে রাখা উচিত।
