Uncategorized

অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, তার কোনো ছক নেই: সলিমুল্লাহ খান

অভ য ত থ ন র পর - রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত প্ল্যানার্স টাওয়ারে এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভার (সিএএসি) রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অধ্যাপক

Desk Uncategorized
Published August 17, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Salimullah-Khan-01
Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. জুলাইয়ের পর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: কোনো প্রস্তুত পথ নেই — সলিমুল্লাহ খানের দৃষ্টি
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

জুলাইয়ের পর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: কোনো প্রস্তুত পথ নেই — সলিমুল্লাহ খানের দৃষ্টি

Banglaprabah.com – অভ য ত থ ন র পর – রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত প্ল্যানার্স টাওয়ারে এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভার (সিএএসি) রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান এক মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেন: জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশটি কোন দিকে এগোবে, তার কোনো পূর্বনির্ধারিত নকশা কিংবা রোডম্যাপ এখনও অস্তিত্বে নেই।

সেমিনারটি রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে পুনর্মিলনী, বিশেষ আলোচনা ও মুক্ত বাক্স-আলোচনার সমন্বিত আয়োজন করা হয়েছিল।

দৃশ্যমানতার বাইরের বাস্তবতা

অধ্যাপক খান যুক্তি দেন, মানুষের চোখ যা দেখে তা সবসময় পূর্ণ বাস্তবতা নয়। যেমন বিজ্ঞান দৃশ্যমান সীমার বাইরে গিয়ে প্রকৃতিকে উপলব্ধির চেষ্টা করে, তেমনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কেবল দৃশ্যমান ঘটনা দিয়ে বিচার করা যায় না।

“পথ আগে থেকেই তৈরি থাকে না; চলার মাধ্যমেই পথ সৃষ্টি হয়।”

এ কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পেনীয় কবি আন্তোনিও মাচাদোর একটি কবিতার রেফারেন্স তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ বর্তমানে ঠিক এমনই এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে — জুলাইয়ের পূর্বে বা পরে ভবিষ্যতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পথরেখা প্রস্তুত ছিল না। যে পথ এখন পর্যন্ত গঠিত হয়েছে, সেটিকে পেছনদিকে ফিরে তাকিয়ে মূল্যায়ন করা অপরিহার্য।

জুলাইকে বোঝার জন্য দীর্ঘ ইতিহাসের প্রয়োজন

অধ্যাপক খান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ কেবল ২০২৪ সালের আন্তঃপ্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ না রেখে বাঙালি মুসলমানের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং ভাষা-সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট — সবকিছু একসাথে বিবেচনা করতে হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থতার ফলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বজায় আছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তাঁর মতে, জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসবোধকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে কোনো একক মতাদর্শ, রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর তৈরি করা সরলীকৃত ব্যাখ্যায় জুলাইকে আটকে না রেখে এর পেছনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রবাহ, সামাজিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরগুলোকে সম্মিলিতভাবে দেখতে হবে।

দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক রেফারেন্স

গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের ‘প্রাকটিক্যাল উইজডম’ বা বুদ্ধির বিচারে মঙ্গল ধারণার কথা তুলে ধরে সলিমুল্লাহ খান বলেন, যুক্তিরও সীমা রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ ধারণার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, পৃথিবীকে কেবল মঙ্গল ও সৌন্দর্যের জায়গা হিসেবে দেখলে শোষণ, কান্না ও নিপীড়নের বাস্তবতা অদৃশ্য থেকে যায়।

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও বর্তমান সংকট

বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসকে উপলব্ধি করতে হলে ১৯২০-এর দশকের ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’-এর দিকে তাকানো জরুরি বলে মনে করেন অধ্যাপক খান। সে যুগের বুদ্ধিজীবীরা জ্ঞানকে মুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে গণ্য করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের চিন্তার মধ্যেও সীমাবদ্ধতা ছিল। ধর্ম, সমাজ ও বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে তখন যে বিতর্ক জন্ম নিয়েছিল, তার অনেকটাই পরবর্তী যুগেও বজায় আছে।

তাঁর মতে, বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের একটি গুরুতর সংকট হলো — তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে নিজেদের অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রশ্ন বিবেচনা করতে পারছেন না।

নজরুল, গ্রামসি ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব

বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক বিকাশ বোঝার জন্য কাজী নজরুল ইসলামকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা অপরিহার্য বলে দাবি করেন অধ্যাপক খান। তাঁর বিশ্লেষণে, নজরুল একই সাথে হিন্দু ও মুসলমান — উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আন্তোনিও গ্রামসির ‘হেজিমনি’ ধারণার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক আধিপত্য আদেশ বা জোরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; মানুষের আস্থা ও অনুসরণের মাধ্যমেই তা গঠিত হয়। নজরুলের ক্ষেত্রে এমন একটি সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের উদাহরণ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা: প্রশ্ন ও আত্মবিশ্লেষণ

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন সলিমুল্লাহ খান। তাঁর দৃষ্টিতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার চেয়ে ভর্তি, পরীক্ষা ও র‌্যাঙ্কিং নিয়ে বেশি ব্যস্ত। অথচ জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও ঘটে থাকে। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হচ্ছে, সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ করা জরুরি।

অন্যান্য আলোচকদের অবদান

লেখক ও গবেষক সহুল আহমদ বলেন, জুলাইয়ের পর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস ও অতীতের সংকটগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা অপরিহার্য। তাঁর দৃষ্টিতে, গত কয়েক দশকে দেশে রাজনৈতিক আন্দোলনের ধরন বদলে গেছে — দলীয় নেতৃত্বের বদলে সমন্বয়ক-ভিত্তিক আন্দোলন, স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ও ইন্টারনেটনির্ভর যোগাযোগ নতুন ধরনের রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করেছে। শাহবাগ ও শাপলা চত্বরের আন্দোলনের পর বিভিন্ন মত ও অবস্থানের মানুষের মধ্যে যে বিতর্ক ও মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছিল, তার মাধ্যমেই পরে একটি অভিন্ন পরিসর ও ভাষার বিকাশ ঘটে — যা জুলাইয়ের আন্দোলনকে বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষক ও সাংবাদিক তাহমিদাল জামি বলেন, বুদ্ধিজীবীর কাজ কেবল কোনো একটি বড় জনগোষ্ঠীর ওপর ধারণা আরোপ করা নয়; বরং গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষাগুলোকে ব্যাখ্যা করা এবং সেগুলোকে স্পষ্ট করে তোলা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের পর এই জাতীয় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। একই সাথে জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাস, পরিচয় ও সংস্কৃতির বহুত্বকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে।

Frequently Asked Questions

What is অভ য ত থ ন র পর?

অভ য ত থ ন র পর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does অভ য ত থ ন র পর matter?

অভ য ত থ ন র পর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment