সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কঠোর সরকার, রপ্তানিকারকদের তিন দিনের মধ্যে তথ্য জানাতে হবে
স গন ধ চ ল রপ ত - দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার রপ্তানিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাণিজ্য
Table of Contents
সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কঠোর নিয়ম, তিন দিনে তথ্য দিতে হবে
Banglaprabah.com – স গন ধ চ ল রপ ত – দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার রপ্তানিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানো বা সমন্বয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ কমানো বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রকৃত রপ্তানির বিস্তারিত তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কোটা পুনর্বিবেচনা
এর আগে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২ আগস্টের সভায় জানানো হয়, অনুমতিপ্রাপ্ত অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানি করেছে।
এতে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে মন্ত্রণালয়। যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি কিংবা আংশিক রপ্তানি করেছে, মূলত তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
কৃত্রিম সংকট ও বাজার তদারকি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিলমালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত রয়েছে। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল না ছাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাজার তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রপ্তানির অনুমতি পেয়েও যারা নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করবে সরকার।
রপ্তানির ইতিহাস ও পরিসংখ্যান
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় হয়েছিল। পরের বছর ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৬০ হাজার ডলারে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই আয় আরও কমে ১০ লাখ ৭০ হাজার ডলারে নেমে আসে। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি স্থগিত করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশ সুগন্ধি চাল রপ্তানি শুরু করে। প্রথম বছর ৬৬৩ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়। পরের বছরগুলোতে রপ্তানি বাড়াতে থাকে, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ হাজার ৮৭৯ টনে উন্নীত হয়। দেশে বছরে সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন আর প্রতিবছর গড়ে রপ্তানি হয় ১০ হাজার টন।
জানা গেছে, বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে এ চাল রপ্তানি করে আসছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রপ্তানিযোগ্য সুগন্ধি চালের একটি তালিকা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে কালিজিরা, কালিজিরা টিপিএল-৬২, চিনিগুঁড়ো, চিনি আতপ, চিনি কানাই, বাদশাভোগ, কাটারিভোগ, মদনভোগ, রাঁধুনিপাগল, বাঁশফুল, জটাবাঁশফুল, বিন্নাফুল, তুলসী মালা, তুলসী আতপ, তুলসী মণি, মধুমালা, খোরমা, সাককুর খোরমা, নুনিয়া, পশুশাইল, দুলাভোগ ইত্যাদি।
সুগন্ধি চাল রপ্তানি সংক্রান্ত জরুরি তথ্য
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানির বিস্তারিত তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
সুগন্ধি চাল রপ্তানির নতুন নিয়ম কী? বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য জমা দিতে বলছে।
কতগুলো প্রতিষ্ঠান সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে? খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সুগন্ধি চাল রপ্তানি কোন কোন দেশে হয়? বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির ইতিহাস কী? ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশ সুগন্ধি চাল রপ্তানি শুরু করে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি ১০ হাজার ৮৭৯ টনে উন্নীত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার রপ্তানির অনুমতি স্থগিত করে।
কোন ধরনের সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা হয়? কালিজিরা, কালিজিরা টিপিএল-৬২, চিনিগুঁড়ো, চিনি আতপ, চিনি কানাই, বাদশাভোগ, কাটারিভোগ, মদনভোগ, রাঁধুনিপাগল, বাঁশফুল, জটাবাঁশফুল, বিন্নাফুল, তুলসী মালা, তুলসী আতপ, তুলসী মণি, মধুমালা, খোরমা, সাককুর খোরমা, নুনিয়া, পশুশাইল, দুলাভোগ ইত্যাদি।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স গন ধ চ ল রপ ত?
স গন ধ চ ল রপ ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স গন ধ চ ল রপ ত matter?
স গন ধ চ ল রপ ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
