Uncategorized

পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধের ২০০ মিটার অংশ বিলীন, আতঙ্ক

পদ ম র ত র রক ষ - শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর নির্মাণাধীন তীর রক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার পানি ও স্রোতের কারণে গত সাত দিনে

Desk Uncategorized
Published August 13, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
SariatpurDH054120260812Shariatpur-JE6
Foto : Mark Gonzalez - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন, ২০০ মিটার অংশ বিলীন
  2. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
  3. Related Reading
  4. Frequently Asked Questions

পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন, ২০০ মিটার অংশ বিলীন

Banglaprabah.com – পদ ম র ত র রক ষ – শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর নির্মাণাধীন তীর রক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার পানি ও স্রোতের কারণে গত সাত দিনে নদীতে বাঁধটির অন্তত ২০০ মিটার অংশ বিলীন হইয়া গেছে। ভাঙনের মুখে ইতিমধ্যে ২৫টি পরিবার তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হইয়াছে। আর ভাঙনের কবলে আছে আরও ৩০০টি পরিবারের বাড়িঘর। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়া পড়িয়াছে।

পাউবো সূত্র বলছে, পদ্মা সেতু এলাকার নাওডোবা থেকে জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিৗাকান্দি পর্যন্ত পদ্মার দক্ষিণ তীরে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ৩৯টি প্যাকেজে এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হইয়াছে ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া, ফরাজী কান্দি ও নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্যারকান্দি, আলম খার কান্দি এলাকায় ভাঙনে সাতটি দোকান ও গ্রামীণ সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীতে চলে গেছে।

স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় প্রভাব

২০২৪ সালের মার্চ মাসে পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট থেকে পাথালিৗাকান্দি পর্যন্ত ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের তীর রক্ষা বাঁধের একটি অংশে ভাঙন দেখা দিলে প্রকল্পটির সঙ্গে আরও দুই কিলোমিটার অংশ যুক্ত করা হয়।

রাহিমা বেগম, ভাঙনে বাড়ি হারানো নারী, কাথুরিয়া গ্রাম, জাজিরা। তিনি বলেন, ‘পরিবারে আশ্রয় করার মতো কেউ নাই। ঢাকায় হকারি করিয়া কাপড় বিক্রি করি। বাড়ি ভাঙিয়া নিতে এলাকায় আইছি।’ ৫৫ বছর বয়সী রাহিমা বেগম ১৮ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। দুই সন্তানকে লইয়া বাবার বাড়িতে থাকতেন। চার শতক জমির ওপর সেই বাড়িটি গত সোমবার পদ্মার বিলীন হইয়া যায়।

কাথুরিয়া এলাকার জ্বালানি তেল, রান্নার জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) ও মুদিখানার পণ্য বিক্রি করেন রেজাউল করিম। গত রোববার রাতে মালামালসহ তাঁর দোকান নদীতে তলিয়া যায়। রেজাউল বলেন, তিন বছর ধরে বাঁধের কাজ হচ্ছে। কিন্তু ভাঙন তো থামছে না। চোখের সামনে সর্বস্ব হারাইয়া নিঃস্ব হইয়া গেলেন। এখন কোথায় গিয়া দাঁড়াবেন?

ভাঙন রোধে চলছে কাজ

গত মঙ্গল ও সোমবার দুই দিনে কাথুরিয়া-মাঝিরঘাট সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হইয়াছে। এতে সড়কটি দিয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হইয়া গেছে। গত সোমবার কাথুরিয়া গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের তিনটি খুঁটি তারসহ নদীতে পড়িয়া গেছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ।

আতঙ্কে গ্রামের লোকজন ঘরবাড়ি ও নদীর তীরে থাকার দোকান সরাইয়া নিতেছে। কেউ কেউ বাড়িতে থাকা গাছপালা কেটে সরাইতেছে। ভাঙনের খবর পাইয়া পাউবোর তিন জন কর্মকর্তা কাথুরিয়া এলাকা পরিদর্শন করিয়াছেন। তাঁরা জানান, হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হইয়াছে। বাঁধের পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।

ভাঙন ঠেকাইতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হইতেছে। তীর রক্ষা বাঁধটির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হইয়াছে। বাকি ৫ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার অংশের নদীতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছিল। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় বর্তমানে নদীতে সেই কাজ বন্ধ আছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ব্লক তৈরির কাজ করিতেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, প্রকল্পের কাজ চলার মধ্যেই গত বছর কয়েকটি এলাকার ভাঙন দেখা দিয়াছিল। এ কারণে ওই অংশের নকশা পরিবর্তন করা হয়। নকশা অনুমোদনের পর বর্ষার আগেই সেখানে আবার কাজ শুরু করা হইয়াছিল। এর মধ্যেই নতুন করে ভাঙন শুরু হইয়াছে।

নাজমা কাথুরিয়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী নাজমা বেগম ২০ বছরে ছয় দফার নদীর ভাঙনের শিকার হইয়াছেন। ভাঙনে ১০ বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হইয়াছে তাঁর। এবার তাঁর শেষ সম্বল ২০ শতক জমির ওপর থাকা বসতবাড়িটিও ভাঙনের কবলে পড়িয়াছে। বাড়ির মালামাল সরাইয়া সড়কের পাশে রেখেছেন। নাজমা বেগম বলেন, ‘মধ্যবিত্ত কৃষি পরিবার ছিল আমাদের। নদীভাঙনে নিঃস্ব হইয়াছি। শেষ আশ্রয়ের বাড়িটিও বিলীন হইয়া যাচ্ছে। সন্তান ও অসুস্থ স্বামীকে লইয়া কোথায় যাব, বুঝিতে পারছি না।’

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধের মোট দৈর্ঘ্য কত? পদ্মা সেতু এলাকার নাওডোবা থেকে জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিৗাকান্দি পর্যন্ত পদ্মার দক্ষিণ তীরে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভাঙনে কতটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে? ভাঙনের মুখে ইতিমধ্যে ২৫টি পরিবার তাদের বসতবাড়ি সরাইয়া নিতে বাধ্য হইয়াছে। আর ভাঙনের কবলে আছে আরও ৩০০টি পরিবারের বাড়িঘর।

বর্তমানে বাঁধের কাজের অবস্থা কেমন? তীর রক্ষা বাঁধটির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হইয়াছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় নদীতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ বন্ধ আছে।

ভাঙন রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? ভাঙন ঠেকাইতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হইতেছে। পাউবোর কর্মকর্তারা স্থানীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করিতেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতেছেন।

Frequently Asked Questions

What is পদ ম র ত র রক ষ?

পদ ম র ত র রক ষ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does পদ ম র ত র রক ষ matter?

পদ ম র ত র রক ষ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment