Uncategorized

যেভাবে দরুদ পড়লে জীবনে দুশ্চিন্তা কমে আসে

য ভ ব দর দ পড়ল জ - আল্লাহর নবী (সা.)–এর প্রতি রহমত বর্ষণের দোয়া করাই দরুদ শরিফের সহজ অর্থ। আল্লাহর কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয় আমল হিসেবে গণ্য। এই আমলের মাধ্যমে

Desk Uncategorized
Published July 27, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

দরুদ শরিফের মাধ্যমে জীবনের দুশ্চিন্তা দূরীকরণ

Banglaprabah.com – য ভ ব দর দ পড়ল জ – আল্লাহর নবী (সা.)–এর প্রতি রহমত বর্ষণের দোয়া করাই দরুদ শরিফের সহজ অর্থ। আল্লাহর কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয় আমল হিসেবে গণ্য। এই আমলের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা ও বান্দার মধ্যে এক গভীর আধ্যাত্মিক বন্ধন প্রতিষ্ঠিত হয়। নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করা আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশনা। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠাও এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)

দরুদ পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত

নবীজি নিজেও তাঁর উম্মতকে দরুদের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করবে। কেননা তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়, ফেরেশতারা পৌঁছে দেন। যে কেউ দরুদ পাঠুক, ক্ষান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা আমার নিকট পৌঁছাতে থাকে।’ এই হাদিস বর্ণনাকারী জানতে চাইলেন, আপনার ইন্তেকালের পরেও? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, ইন্তেকালের পরেও। আল্লাহ–তাআলা নবীদের দেহ গ্রাস করা জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহর নবী কবরে জীবিত এবং তাঁকে রিজিক দেওয়া হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৩৭)

সাহাবি উবাই ইবনে কাব (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আল্লাহর রাসুল, আমি তো খুব দরুদ পাঠ করি। দরুদ পাঠের জন্য আমি কতটা সময় নির্ধারণ করব?’ রাসুল বললেন, ‘তুমি যতটুকু চাও।’ উবাই একে একে এক-চতুর্থাংশ, অর্ধেক ও দুই-তৃতীয়াংশ সময়ের কথা বললে আল্লাহর রাসুল প্রতিবারই বললেন, ‘তুমি যতটুকু চাও, তবে এর চেয়ে বেশি পারলে তোমারই কল্যাণ।’ শেষ পর্যন্ত উবাই যখন বললেন, ‘তাহলে আমার পুরো সময়টাই আপনার দরুদ পাঠে কাটিয়ে দেব?’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাহলে এটি তোমার চিন্তা ও কষ্টের অবসানের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

নামাজে দরুদ পাঠের নিয়ম

দরুদ পাঠকারীর ওপর আল্লাহ–তাআলা সরাসরি রহমত বর্ষণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, তিনি নবীজিকে বলতে শুনেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮) নিয়মিত দরুদ পাঠে মানুষের পাপ মোচন হয়, মানসিক দুশ্চিন্তা কমে এবং জীবনে প্রশান্তি আসে।

কীভাবে দরুদ পাঠ করবেন

দরুদ পাঠের মাধ্যমে কিয়ামতের দিন নবীজির সবচেয়ে কাছাকাছি থাকার সৌভাগ্য অর্জিত হবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে, যে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৪) বিশেষ করে জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা তাঁর একটি পবিত্র নির্দেশনা। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের দিনসমূহের মাঝে শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে জুমার দিন। এদিন তোমরা বেশি বেশি করে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩১)

এরপরও যারা এই নাম শুনে দরুদ পাঠে না, তিনি তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তাদের ‘কৃপণ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধূলার ধূসরিত হোক (ধ্বংস হয়ে যাক), যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হয় অথচ আমার ওপর দরুদ পাঠ করে না।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস: ২০৪২)

লেখক: আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম, টঙ্গী, গাজীপুর

Leave a Comment